সুপারলর্ড ট্রিলজি-মুহাম্মদ রাগিব নিযাম
নিচের "Start reading" বাটনটিতে ক্লিক করে পড়তে শুরু করুন
রানারঃ অবদ্রুতি
এক.
ইরফান। শান্ত, পাতলা গড়নের হ্যাংলা শরীরের মাঝারি উচ্চতার এক ছেলে। দেশের সবচেয়ে বেশী স্বর্ণপদক পাওয়া তরুণ। তার দৌড়ের খ্যাতি এমন চুড়ায় পৌঁছে গেছে যে তাকে বাধ্য হয়ে আমেরিকার কেএফসি বাংলাদেশের আউটলেটে ভাড়া করে শুধুমাত্র ইমারজেন্সিতে কিছু ডেলিভারী দেয়ার জন্য। এ অবস্থায় একজন মোটরসাইকেলে আরোহী বা সাইকেল আরোহীকে দিয়েও তো কাজ হতে পারতো। না তাই তো, এ এমন কোন ধরনের কাজ দেশের প্রখ্যাত এক দৌড়বিদকে দিয়ে কাজ হচ্ছে ডেলিভারির?
যদি বিষয়টা বোঝেন, তাহলে আমি চুপ থাকবো যে সে এমন কোন ধরনের দৌড়বিদ যার মাধ্যমে ডেলিভারির কাজ হয়? আর যদি না জানেন তাহলে আমি বলবো সে একজন স্পিডস্টার যার দৌড়ের গতি সেকেন্ডে ৫৫০কিঃমিঃ। এক মিনিট, কি?!!! ৫৫০ কিঃমিঃ?!!! এ তো সুপারসনিক। একটা মানুষের এতো বেশি স্পীড থাকে? এর চেয়ে বরং চলুন আমরা একটা ডায়েরিতে লিখা ইরফানের কথাগুলো শুনে নেই।
"আমার আজ দ্বিতীয় দিন। ভাবতেই পারিনি। আমার চারপাশে যখন দেখলাম সবকিছু ফ্রিজ বা একেবারে বিমূর্ত হয়ে গেছে, সবার নড়চড়া বন্ধ হয়ে গেছে আমি চলমান সবকিছুকে থেমে যেতে দেখলাম। আমার যেটা ইচ্ছে ছুতে পারছি। এক মহিলার ওপর একটা নির্মাণাধীন ভবনের কিছু পানি পড়তে যাচ্ছিলো আমি সরিয়ে দিলাম মহিলাকে। দুটো রিকশার সংঘর্ষ হয়ে যাচ্ছিলো, আমি দু ইঞ্চি ফাঁক করে দেয়াতে হয়তো তাদের কারো আর আঘাত লাগবেনা। আমি দেখেছিলাম আমাকে বেগুনি রংয়ের আগুন গিলে খেয়েছিলো। যখন আমি হাটু গেঁড়ে তৈরি হচ্ছিলাম তখনই বন্দুকের গুলির আওয়াজ হলো আর আমি দৌড়োনোর সাথে সাথে আমার উপর ঐ আগুনটা এসে পড়ে। এবং আমি স্টেডিয়ামে সবাইকে অবাক করে ০.১১ মিলি সেকেন্ডে ২০০মিটার পার হয়ে গেলাম।
তাতে আমার পড়নের জামা ছাড়া আর কোনো কিছুর ক্ষতি হয়নি। দুই দিকে দুই প্রতিদন্দ্বী আমার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলো। তারা আমার মাঠের প্রতিদন্দ্বী নয়, সরকারী গোয়েন্দা ও অপরাধীরা। এবং এর পর থেকে আমি আমার দৌড়ের রেকর্ড প্রতিনিয়ত ভেঙ্গে চলেছি। তাতে আমার ক্ষতি নেই। কিন্তু মনে হয় মাঝে মাঝে আমার দ্বারা কারো, কিছু মানুষের, এই পৃথিবীর কিংবা সৌরজগত বা মহাজগতের কারো যদি কোনো ক্ষতি হয়ে যায়? তবে আমি সাধ্যমত চেষ্টা করবো সেই ক্ষতিটুকু এড়াতে। কারণ আমি জানি আমি রানার, যার উপর দেশ ও দশের আস্থা আছে, এবং থাকবে।"
খুব বিষন্ন গ্রীষ্মের দুপুর। এবং কষ্টেরও। মেঘলা ও কিছুটা ভ্যাপসা গরম জানান দেয় যে কোনো সময় বৃষ্টি হতে পারে। ফোঁটা ফোঁটা পড়তে শুরু করলো। রাজধানী ঢাকা বৃষ্টিস্নাত হলে যে কি ভোগান্তিতে পড়তে হয় সেটা খোদ ঢাকার মানুষ জানে। আর এই সময়টায় মনে পড়ে গেলো একজনকে। ইরফান জানে এই সময়টা কতোটা অসহায় লাগে। যে কোনো মানুষের জন্য অদ্ভুত এই চেতনাবোধ জাগ্রত হতে পারে। হ্যাঁ সেটা হলো ভালোবাসা। নদীর সাথে কথা হয়েছে সেই সকালে। এখন দুপুর গড়িয়েছে। আর বলতে না বলতেই কল এলো।
"হ্যালো, ইরফান।"
"নদী। বলো কি করছো? লাঞ্চ করেছো?"
"না। ইরফান টিভি অন করো মোবাইলে।
"পাহাড়ের প্রাচীন গুহা ভেঙে বেরিয়ে এলো কাঁচের দানব যার নাম আজারথ। হাতের বড় রাইফেল থেকে বের হয় আলোর চেয়েও দ্রুতগতির বুলেট। এবং বুলেট গুলো কাঁচের তৈরি এবং আজারথ যার উপরে গুলি ছোড়ে তার শরীর কাঁচের হয়ে যায় এবং আস্তে করে টোকা দিলে সেই কাঁচ ভেঙ্গে পড়ে। এই ভেঙ্গে পড়ার পরে আর সেই মানুষের অস্তিত্ব থাকে না।"
টিভি অন করেই এমন খবরে বিচলিত হয়ে গেলো ইরফান। তাই চুপচাপ কস্টিউম পড়ে দৌড় মারলো। কোথায়? কোথায় আর? চট্টগ্রামে। কিন্তু, চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য তিন চার ঘন্টা লাগবে।
না, এক সেকেন্ড এর চার ভাগের তিনভাগ।
মালিবাগ থেকে দৌড় শুরু করলো রানার। আস্তে আস্তে সে নারায়ানগঞ্জ, নরসিংদি, তারপর কুমিল্লা, তারপর মিরসরাই, তারপর সীতাকুণ্ড, তারপর ভাটিয়ারী, এরকম করে সিটি গেট পার হয়ে চট্টগ্রামের ভিতরে ঢুকে পড়লো। এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে সে দেখল কাট্টলী ও কর্নেলহাট এর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। এরপর পাহাড়তলী দেওয়ানহাট বহদ্দারহাট পার হয়ে সোজা দৌড় দিতে শুরু করলো চট্টগ্রামের দক্ষিণ দিকে মানে বান্দরবানের স্কুলে। আস্তে আস্তে পাহাড় ডিঙিয়ে তার পৌঁছে যেতে সময় লাগলো মোট ১০ সেকেন্ড।
পাহাড়ি রাস্তায় পৌঁছে বেশ একটা বেগ পেতে হলো না। তবে ওই জায়গায় কে প্রথম তাকে দেখেছিলো? খুঁজে পেতে বেশিক্ষণ লাগলো না। লোকটাকে পাওয়ার পর জিজ্ঞেস করলো রানার ওরফে ইরফান।
"আমি গেছিলাম একটা গাছের কন্ট্রাক্ট শেষ করতে।" লোকটার বর্ণনায় বোঝা গেলো লোকটার স'মিলের ব্যবসা আছে। কয়েকজন মিলে গাছ কাটতে গিয়ে মাটির কম্পন দেখে শব্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে মাটির দেয়াল ভেঙে ফেলে তারা। আর সেই দেয়াল ভেঙে হতচকিত হয়ে যায় তারা। কাঁচের দেয়ালে ঘেরা এক প্রাচীন মানুষ। তার শরীরের পুরোটাই অনাবৃত। শুধুমাত্র তার কোমরের দিক থেকে হাঁটুর আগ পর্যন্ত নোংরা ময়লা সবুজ কাপড়ে ঢাকা। সেই লোক গ্লাসের ভেতর থেকেই তাদের সম্মোহন করে। তাদের কেউ যখন গ্লাসের আবরণটা ভেঙে ফেলে। তখনই লোকটা বেরিয়ে এসে সবাইকে মারতে শুরু করে। একে একে সবাই মারা গেলেও ভাগ্যক্রমে ঐ লোকটা বেঁচে যায়।
সাতশ কিঃমিঃ পার হয়ে বেশ বড় সড় একটা হাঁপ ছাড়লো ইরফান। সামনে নদী বসে আছে। ডাইনিং টেবিলের চারপাশে অসংখ্য তরকারির বাটি। আজকের ঘটনায় গা গুলিয়ে আসছে ইরফানের। দেড় সেকেন্ডে সাতশ কিঃমিঃ পার হয়ে সোজা নিজের ঘরে। আসলে বয়সও হচ্ছে। হয়তো তাই।
"বাবা?"
চকিত ঘুরে তাকিয়ে ইরফান তাকিয়ে দেখলো তার ছেলে ফারহানকে। স্কুল পড়ুয়া ছেলে। অষ্টম শ্রেনী পেরিয়ে সবে নবম শ্রেণীতে পা দিয়েছে।
"কিরে তুই এখন আসলি"
"হ্যাঁ। আমি তো এই সময়েই বাসায় ফিরি।
ফারহান কি মনে করে টিভিতে বসলো ফ্রেশ হয়ে এসে। তখনই নিউজটা প্রচার হলো।
"একসাথে তিন শাখায় এক ব্যাংকের টাকা চুরি হলো।" শুনেই ভোঁ দৌড় রানার। তার আধা মিনিট পরেই বের হয়ে গেলো ফারহান। কোথায় গেলো? বোঝা গেলো না।
দুই.
হাসি খুশি ব্যাংকার মতিন সাহেব। মতিন সাহেব বেশ সৌম্যদর্শন, তাকে দেখতে খুব সুন্দর লাগে এবং তিনি ফর্সা। গরমে লাল হয়ে যান এবং ঘাম দিলে সেটা মনে হয় যে মুক্তোর মতো জ্বলজ্বল করছে। তার চেহারায় যে সৌন্দর্য সেটা অন্য সাধারণ পুরুষদের তুলনায় বলাই বাহুল্য যে এত নান্দনিক, যে উনার এ চেহারা যে কেউ এখনো বলে দিতে পারবে এই বয়সে তা্র কত সুন্দর এবং তিনি পঞ্চাশোর্ধ হলেও তার চেহারা ও শরীর দুটোই মনে হচ্ছে এখনো ফিট আছে। যার হাত থেকে কত শত বার লাখ লাখ টাকা তোলা-জমার কাজ হয়েছে। আর আজ সেই মতিন সাহেব পাশ কেটে যাওয়ার সময় একটা লম্বা সালামও দিলো না। হুহ! মতিন সাহেব কাঁচপুর যাওয়ার পর হুট করে হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিলো। এমন অবস্থায় বেগতিক হয়ে রানার ও আড়ালে আড়ালে গতি বাড়িয়ে যাওয়া শুরু করলো যেনো।
হাইওয়ে পার হয়ে দুপাশের গাছের সারির ঘনত্ব যখন বেড়ে গেলো, মতিন সাহেব যেনো আরো দ্রুততার সাথে চলে যাচ্ছেন সামনের দিকে। পনেরো সেকেন্ড পার হওয়ার পর দেখা গেলো পুরোপুরি দৌড়াচ্ছেন অবিশ্বাস্য গতিতে। তবে রানারের মতো নয়। একটু তফাতে পড়ে রানার ইচ্ছে করেই দেরী করে ফেলছে। তবে যখন মতিন সাহেব ডান দিকে মোড় নিলেন এবার একটু সতর্ক হলো রানার ওরফে আমাদের ইরফান।
মতিন সাহেব বেশ ভেতরে ঢুকে গেছেন বৈকি। আর দশটা পুরনো বাড়ির মতোই একটা দোতলা বাড়ি সামনে পড়লো। মতিন সাহেব স্টিফ হয়ে গেলেন। শুধু তাই নয়, পাঁচ মিনিট পাক্কা দাঁড়িয়ে রইলেন। এরপরই বাড়িতে ঢুকতে শুরু করলেন। এদিকে রানার ইরফান ও প্রায় পেছন পেছন ঢুকে গেলো মতিন সাহেবের। খুব সহজভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে সামনের দরজা দিয়ে ঢুকে গেলো দুজনেই। বাড়ির ভেতরটা কমন স্ট্রাকচারের না। যেমনটা দুই বেড, দুই বাথ, ড্রয়িং, ডাইনিং এগুলো থেকে দূরে।
হঠাৎ করেই মতিন সাহেব গায়েব। রানার বুঝতে পারলো না এতো পরিচিত মানুষ যার সাথে অনেকদিন ধরে সখ্যতা সেই মানুষটিই যদি এমন অদ্ভুত আচরণ শুরু করে তাহলে তো সেটা অস্বাভাবিক। তাই না? বৈকি! খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে রানার সবকিছু দেখতে শুরু করলো। ভবন টা অত বেশি নতুন নয়। বেশ পুরনো হয়েছে। ১৭ থেকে ১৮ বছর হবে এবং তার সাথে সাথে সে খেয়াল করল দেয়ালে তেমন তার রং করা হয়নি। প্রথমবার যে রংটা ছিল সেটা কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। এই ফ্যাকাশে রং দেখে তার মনে একটা প্রশ্ন জাগলো যে এইখানে যদি আজাদ বাস করে থাকে তাহলে সে ভাষাটা কিভাবে খুজে পেল আর ঐ বাসায় সে কিভাবে উঠতে পারলো? উঠতে যদি পারেই তবে কীভাবে সে এখানে ভাড়া ছাড়া আছে? ভাড়া ছাড়া তো এখানে থাকার কথা নয়।
নদী নিউজটা দেখেই ফোন করলো দ্রুতি সংঘের সবাইকে। প্রবাহিনী, পবন বিষয়টাকে বেশ গুরুত্বের সাথে নিলো।
-ফারহানকেও পাচ্ছিনা। ইরফান বেরিয়ে যাওয়ার পর দেখলাম ও বেরিয়ে গেলো।
-কি বলো তোমার ছেলে ফারহান তো এখানে এসেছিলো। আলভীকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো। পবন বললো।
ছেলেটা বড় হয়ে গেছে। পুরুষত্ব এসেছে শরীরে। আস্তে আস্তে প্রেম ভালোবাসায় মগ্ন হয়েছে। এটাই তো বয়স। এই বয়সেই তো প্রেম করেছিলো ও আর ইরফান। তাছাড়া পবন-প্রবাহিনী জুটির মেয়ে হিসেবে আলভীকে ওর বেশ পছন্দ। কিন্তু এই দূর্যোগে ওদের বের হওয়া মোটেও উচিৎ হয়নি। ওদিকে ইরফানও নেই।
আইজিপি সাব্বির। রানার ওরফে ইরফান এবং স্রোতস্বিনী ওরফে নদী জুটির পারিবারিক বন্ধু। যে কোনো বিপদে পড়লে সাব্বির ওদের কল দেয় পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য। আজও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। নদী আজ বিপদে পড়ে সেই বন্ধুর কাছেই যাচ্ছে। অবশ্য যাওয়ার বিষয়টা সমস্যা সরলীকরণ করার জন্য এবং সমাধানের জন্য। গাড়িটা ইরফানের নিজের মালিকানাধীন গার্মেন্টস এর আয় থেকে কেনা। ওটায় আজ বিশ বছরে ইরফান হাত দিয়েছে খুব কম। তখনকার দিনের কেনা এই গাড়িতে শুধুমাত্র আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এ আই নতুন আপডেট এসেছে। এছাড়া আর কিছু আপডেট হয়নি। অবশ্য এ আই, তাও ফরাজী কন্সোলিডেটেড থেকে স্পেশাল আপগ্রেড করা হয়েছে। এ আই এর নাম রাখা হয়েছে জুয়ন ৩.০। উঠতেই সালাম দিলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন এসিস্ট্যান্ট জুয়ন।
-জুয়ন কেমন আছো?
-ভালো আছি ম্যাডাম। আপনি?
-আছি ভালো। আমাকে আইজিপি সাব্বিরের কাছে নিয়ে চলো।
কার্যালয়ে ঢোকার পর সুন্দরী এসিস্ট্যান্ট রিসিভার ফেলে থমকে দাঁড়ালো। প্রশাসনে নদীর বেশ নাম ডাক আছে। একেতো সরকারী এজেন্ট তার উপর শরীরে অতিমানবীয় শক্তি। সেই জেরেই কিনা স্তব্ধ রিসিপশনিস্ট। কোনোরকম কথা ছাড়াই সাব্বিরের রূমে ঢুকে গেলো নদী।
-নদী, কেমন আছো?
-এইতো ভালো আছি। আবার টেনশনেও আছি। ওই জিনিসটা চট্টগ্রাম থেকে বের না হলে আমি বুঝতামই না যে আমরা কতো বড়ো বিপদের মধ্যে আছি।
-বিপদের জিনিস বাধা থাকলেও তো বিপদ। টেনশন মাথায় থাকে যদি ছাড়া পেয়ে যায়।
-কিন্তু এই লোকটা কাঁচের আবরণ থেকে বের হলো কিভাবে? আর এলোই বা কোথা থেকে।
-বেশ ভালো প্রশ্ন করেছো নদী। ইতিহাস ঘেঁটে জানলাম এই লোকটার নাম আজারথ আঘারি। বেশ অনেক আগের কথা। এখন থেকে দু হাজার বছর আগে। আর্যরা যখন এদিকে আসা শুরু করলো। তখন এই লোকটা তাদের একটা গোত্রের সাথে এই উপমহাদেশে আসে। লোকটার জীবন ভবঘুরে। সে এক কথায় কিছুই করতো না। তবে ওর চালচলন দেখে তার গোত্রের লোকজন বেশ সন্দিহান ছিলো যে সে কিছু একটা করছে। সেটা টের পাওয়া গেলো এই উপমহাদেশে ভেড়ার বছর তিনেক পরে। সে হয়ে উঠলো প্রেতসাধক।
-এই যুগে কেউ সেটা বিশ্বাস করবে? বিষয়টা হাস্যকর। কথার মাঝে বাঁধা দিয়ে বললো নদী।
-নদী এখন যদি তোমাকে বলি এই লোকের অমরত্বের কাছাকাছি শক্তি আছে?
-আমি, তুমি না হয় বিশ্বাস করবো। কিন্তু সাধারণ জনগণ কিভাবে বিলিভ করবে? কাম অন দিস ইজ ২০৩৮। দু হাজার আটত্রিশ বছর আগে কে কোথা থেকে এসে তার বাসস্থান গাড়লো আর সিলি একটা ম্যাটারে তাকে হাইলাইট করে দেয়া হচ্ছে। মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে।
এমন ওভার কনফিডেন্ট দেখে সাব্বির একটু জোর গলায় বললো, "আজারথের সম্পর্কে আরো অনেক কিছু আছে যেগুলোর একটা শুনলে তুমি এখন তোমার কনফিডেন্ট লেভেল থেকে ছিটকে পড়বে।"
নদীও বেশ চাঞ্চল্যহীনভাবে ব্যক্ত করলো, "সেটা কি?"
সাব্বির বলতে শুরু করলো, "আমাদের যুগের ফটোকপি মেশিনের কথা মনে আছে? আজারথ আয়না দিয়ে মানুষের ক্লোন বের করতে পারে।"
নদী জমে গেলো যেনো। কারণ রানার আজারথকে খুঁজতে গেছে।
তিন.
ইরফান একটা ঘরে ঢুকে আটকে গেছে। ওর উপর একটা বিরাট মাছি ঘুর ঘুর করছে। মাছিটাকে বেশ বিরক্ত মনে হচ্ছে। কারণ, একজন অনাহূত অতিথি এসেছে তার ঘরে। অস্বাভাবিক এক পরিস্থিতি। রানার, আমাদের ইরফান বুঝতে পারছে না যে, একটা মাছি কিভাবে এতো বড়ো হতে পারে। অবশ্য এই ঘরে বড় বড় আয়না আছে। হঠাৎ খেয়াল হলো নদীকে কল করা হয়নি। সাথে সাথে কল দিলো।
-হ্যলো নদী।
-ইরফায়ান... ক অ ডং
নেটওয়ার্ক রিচ হচ্ছে না এটা বোঝা যাচ্ছে। অদ্ভুত এক ব্যাপার। এই দেশে নেটওয়ার্ক এর কোনো ঠিক ঠিকানা নাই। গ্রামের বাড়িতে গেলে ঘরের বাইরে সুন্দর নেটওয়ার্ক আর ঘরের ভেতরে গেলে এক দাগও থাকেনা। আর এসবের ভীড়ে তো কল ড্রপতো আছেই।
-হ্যালো, নদী শুনছো?
খুট করে লাইন কেটে গেলো। এরপরই ঘটলো সবচেয়ে ভয়ংকর ঘটনা। আজারথ এসে থেমেছে তার সামনে।
-গতিমানব নাকি? আমাদের প্রথম সাক্ষাৎ হলো তবে আজ। উহু তোমাকে কথা বলতে হবে না,তোমার সকল কথার উত্তর আমি দিচ্ছি। বলেই সে তার সকল কিছুর বর্ণনা দিতে শুরু করলো।
জীবনটা যেনো একটা পাখির নিঃশ্বাস। আর নিঃশ্বাসটাকে টেনে টেনে বড় করা হয়েছে আজারথের বেলায়। ফিরিস্তি দিয়ে সে হো হো করে হাসা শুরু করলো। সেই হাসিটায় জন্ম নিলো ভয়, সমীহ করার বিষয়টা। ভয় চেপে বসে একসময়। সমীহ জন্ম নেয় সেই ভয়ের খোলসে। জীবনের অন্তরীক্ষ মহাপথে গতি আসে দুর্দান্তভাবে। ভয় পরিণত হয় আক্রোশে।
-গতিমানব, আমি তো তোমাকেও তোমার ছায়া থেকে আলাদা করতে পারি। করবো নাকি বলো?
চোখ গরম করে লাল বানিয়ে তাকালো রানার। এরপর আক্রোশে ঝাঁপিয়ে পড়লো আজারথের উপর।
-তোর অমানুষিকতা তোর ভেতর রাখ। আগে বল মতিন সাহেবের সাথে কি করেছিস?
-ও তো দিব্যি খাচ্ছে দাচ্ছে।
-ওকে ছেড়ে দে।
-আরে আমি তো উনার কিছুই করিনি। শুধু আয়নায় উনার প্রতিলিপি তৈরি করেছি।
এক মুহুর্তে অবাক হয়ে চেয়ে রইলো রানার। বুঝে ফেললো আজারথের উদ্দেশ্য ছিলো কি। কি চাই ওর? টাকা। নিশ্চয়ই লোকালয়ে এসে টের পেয়েছে টাকা ছাড়া চলার উপায় নেই। ব্যস, মতিন সাহেবের ক্লোন বের করে ভালো রকম টাকার দাঁও মেরেছে ব্যাংক থেকে।
-আজারথ, ভালোয় ভালোয় ব্যাংকের সকল টাকা ফেরত দাও। বললো রানার।
-হেহ। জন্মেও না। আমারও তো টাকার দরকার আছে।
-তাই বলে টাকা আরেকজনের টা চুরি করে নিজের টাকা ভেবে রেখে দিবে? বললো রানার।
রক্তচক্ষু বানিয়ে রানার তাকায় তার দিকে। ততোক্ষণে রানারের দিকে তাকিয়ে আজারথ একটা আয়না বের করে আনলো তার মুখের সামনে।
রানার তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। তার মনে হলো যেনো সে সম্মোহিত হয়ে পড়ছে। আয়নায় সে নিজেকে দেখছে। কিন্তু মনে হলো যেনো নিজে বেরিয়ে আসছে আয়না থেকে। রানার-এর মনে হল অনন্তকাল ধরে সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তার দিকে তাকিয়ে তারই সে অবয়ব মানে আয়নায় যেটা দেখা যাচ্ছে সেটা তার দিকে তাকিয়ে হাসছে। রানার এই জিনিসটা সহ্য করতে পারছে না আবার নড়াচড়া করতেও পারছে না। তাকে যেন বেঁধে রাখা হয়েছে সময়ের কোনো একটা প্রোজেকশনে এবং রানার কিছুই করতে পারলো না আর। অবশেষে একসময় পুরো অবয়ব বেরিয়ে এলো রানারের ক্লোন হয়ে। এরপর দ্রুত কস্টিউম এর রঙ বদলে গেলো। কুচকুচে কালো।
এক ঝটকায় রানারের বুকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো। রানার হাঁচড়ে পাঁচড়ে উপরের দিকে তাকালো। নেই! কেউ নেই?! রানারের ছায়া এই জায়গায় মুখোমুখি হওয়ার আধা সেকেন্ডে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে গেলো।
চার.
বেশ খানিকটা চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে নদী। সাথে সাব্বিরও। তারা রমনা থানায় এসেছে। রানার মিসিং। ওদিকে ফারহান ও আলভীও নিখোঁজ। সাব্বির এসব বিষয়ে বেশ কেয়ারিং। তাই সে চারিদিক খোঁজ লাগালো। এমন সময় থানার কন্সটেবল এসে সাব্বিরকে বলতে শুরু করেছে,
"স্যার, টিভি ছাইড়া দেখেন"।
" কেনো কি হয়েছে?"
"বিরিকিং নিউজ। মনে অয় আফনাগো লগে কানেক্টেড!"
এস আইয়ের কাছ থেকে রিমোট নিয়ে বিগ স্ক্রীণে চালু করে দিলো পর্দা। দেখেই হতভম্ব হয়ে গেলো সবাই। এমনকি অস্ফুট শব্দে নদী নড়ে চড়ে বসলো। বিষয়টা এমন না যে ব্রেকিং নিউজ বলে। বিষয়টা এমন তার সাথে কানেক্টেড। আসল ব্যাপার হলো, দুজন টিনেজ এক জায়গায় কস্টিউম পরা অবস্থায়। এরা আর কেউ নয়। ফারহান আর আলভী। বেশ খানিকটা অবাক হলো নদী এই ভেবে যে, দুই পরিবারের ছেলে মেয়ে দুটো কারো অনুমতি ছাড়াই কস্টিউম পরে ক্রাইম ফাইটিং এ অংশ নিয়েছে। ওরা আজারথের ডেরার বেশ ভেতরের দিক থেকে রানারকে খুঁজে পেয়েছে।
"তুমি জানতে না তোমার ছেলে আর পবনের মেয়ে ক্রাইম ফাইটার?"
চুপ করে আছে নদী। ফুঁসছে ভেতরে ভেতরে। চায়নি ছেলে এসবে জড়াবে। বাপের মতোই স্পীড। সেই ক্ল্যাসিক্যাল দৌড়। কিন্তু তাই বলে কি সে অনুমতি চাইবে না? আজ এতো বছর হয়ে গেলো, কই অন্য অতিমানবদের সন্তানেরা তো এমন অবাধ্য হয় নি। এ সমাজের ছেলে মেয়েরা মা বাবার অবাধ্য হতে পারে না যে ঘরে ছেলেমেয়েদের সুশিক্ষা, ভালোবাসা দিয়ে বড় করা হয়। তাই বলে কি এমন করলো ফারহান?
সাথে সাথে ফোন করলো ফারহানকে। রিং হলো, ধরছে না। আলভীর ফোনে ও কল দিলো। নাহ মেয়েটাও ধরছে না। কি হলো? ভেতরে সেই পুরনো প্যানিকটা নড়াচড়া করে উঠলো। জোরে দম নিয়ে চোখ বন্ধ করলো সে। হুট করে চোখ গেলো টিভির দিকে। প্রায় একই সময়ে সাব্বির বলে উঠেছে, "নদী"। টিভিতে যা দেখছে তা ভুল নয়। সঠিক হলো সেটাই যা চোখের সামনে দেখা যায়।
রানার সহ টঙ্গীর বাইরে এক জায়গা থেকে বেরিয়ে আসছে ফারহান ও আলভী। ফারহানের শরীরে বেগুনি নীলের সমন্বয়ে অসাধারণ এক কস্টিউম দেখা গেলো। চোখ আর নাক বাদে বাকি সব কিছু ঢাকা সে কাপড়ে। তবে আলভীর শরীরে সাদা ও গোলাপি রঙয়ের আলাদা এক ধরনের কস্টিউম দেখা গেলো। ফারহান স্টেটমেন্ট দিচ্ছে কিভাবে সে তার বাবাকে বের করে এনেছে। ইরফান কে খুঁজে পেতে আলভী ও ফারহানের বেশি বেগ পেতে হয়নি। ফারহান রানারের ছোট এক গোছা চুল মানে সামান্য দু'তিনটে চুল দেখে সে ধারণা করে ফেলেছিলো যে এই রাস্তা থেকে ট্রেস করা সম্ভব। এভাবে ছুটতে ছুটতে এসে তার বাবার চুলের মাধ্যমে সেই আজারথের খোঁজ পায় এবং সেখানে গিয়ে সে তার বাবাকে খুব সুন্দর করে উদ্ধার করে আজারথের ডেরা থেকে। তবে আজারথ সেখানে ছিলো না।
বেশ চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়লো আমাদের স্রোতস্বিনী।
অজানা ভয় মানুষের ভেতরেই থাকে। দিনের পর দিন সেটা বড় হয়ে ওঠে। একটা সময় তা দানবে পরিণত হয়। এই সময়ের সবচেয়ে বড় বিষয় আজারথ। ঠিকঠাক ধরে আটকে রাখলে সে আর তেমন ক্ষতি করতে পারবেনা।
ঘরে ফিরতেই ফারহানের দিকে কঠিন শীতল দৃষ্টি দিলো নদী।
"মা"
"কেনো ফারহান কেনো?" ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলো ফারহানের গালে। প্রচন্ড অসহায়ত্ব বোধ করলো যেনো ছেলেটা।
"আমি তো বাবাকে..." মায়ের রক্তচক্ষু দেখে চুপ হয়ে গেলো ফারহান।
এই দেশে সন্তানের উপর "মা" স্বত্তার অস্ত্বিত্ব প্রকটভাবে বিরাজমান। সেটা বলতে আর সামনে নাই এগোলাম।
"কোনো কথা নয়, সোজা রূমে যাও।"
রানারের দিকে ফিরলো। আজকে সতেরো বছরের সম্পর্ক। এই ইরফান ছাড়া ওর জীবন অচল। তাই ওকে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করলো। ইরফান কোনোরকমে ঠান্ডা করলো। মানুষের ভেতরে আশঙ্কা, ভয়ের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক প্রবল। সেটা অ্যাক্সিডেন্টে হোক, লঞ্চডুবিতে হোক, অচেনা শত্রুর আক্রমণে হোক, যে কোনো পরিস্থিতিতে আমাদের ভেতর ভয় জাগানিয়া কাজ করে। ইরফানের অন্তর্ধান যেমন নদীকে উদ্বিগ্ন করেছে ঠিক তেমনি ইরফানও স্বল্প সময়ের বিরহে অনুভব করেছে নদীকে। এজন্যই ভালোবাসা যুগে যুগে সফল। দুই যুগলের পরিণতি সফল হোক বা না হোক।
ঠিক পর মুহূর্তেই আমাদের রানার ইরফান সামলে উঠে দাঁড়িয়ে গেলো। নদীর দিকে, বেশ আতংকগ্রস্থ হয়ে তাকিয়ে বললো
"নদী, আজারথ আমার আত্নাকে মুক্তি দিয়ে ফেলেছে।"
শুনেই যেনো শিউরে উঠলো নদী অনেকখানি। এ হওয়া মানে নতুন বিপদের আশংকা! এখন সম্ভবত আলভী আর ফারহানকে ট্রেণিং দিতে হবে। তাই ডাক দিলো ফারহানকে।
"বাবা, আমায় মাফ করে দে। আমি না বুঝেই তোকে অনেক কথা বলে ফেলেছি।"
"না মা, তোমার উপর আমার কোনো অভিযোগ নেই।"
গভীররাত। ঘুমিয়ে পড়েছে আমাদের রানার ওরফে ইরফান। সাথে তার স্ত্রী নদী। আর অন্য রুমে ঘুমাচ্ছে তাদের ছেলে ফারহান। হঠাৎ করে রানার ওরফে ইরফান ঘুম থেকে উঠে জোরে একটা চিৎকার দিয়ে উঠলো। তার স্ত্রী মানে নদী লাফিয়ে উঠে ধড়াম করে খাটের উপর বসে বললো, "কি হলো? কী হয়েছে তোমার? তুমি এমন করছ কেনো? এরকম চিৎকার করলে কেনো? তখন রানার বললো, "কিছু না। আমি একটা দুঃস্বপ্ন দেখেছি, আর আমার তখনই ঘুমটা ভেঙে গেলো যখন আমি দেখলাম আমাকে মেরে ফেলা হয়েছে।"
পাঁচ.
ভিডিও চ্যাটে ভালোই লাগে ফারহানের আলভীর সাথে কথা বলতে। মিষ্টি মেয়ে। সুন্দর, কোমল, পাতলা শরীর। রানার-স্রোতস্বিনীর ছেলের বৌ হিসেবে খারাপ হবেনা ভেবে মুচকি হাসি দিলো। ফারহানকে যে আলভী কম ভালোবাসে না ভেতরে ভেতরে সেটা এখন সব জায়গায় ওপেন সিক্রেট। ফারহান থেকে তিন বছরের ছোট। চৌদ্দ ছেড়ে পনেরোতে পা দেয়া কিশোরী। তবে জেদি প্রকৃতির মেয়ে। একবার আলভীদের বাসায় দাওয়াত দিয়েছিলো। ফারহানের বাবা-মা ইরফান-নদী গেলেও ফারহান যায় নি ইচ্ছে করে। স্কুলে যাওয়ার পর আলভী তিনদিন কথা বলে নি। পরে ফারহান নিজেই রাগ ভাঙিয়েছে। তবে কেউ কাউকে এখন মনের কথা বলে না। কিন্তু, ভেতরে ভেতরে ঠিকই তাদের বাবা-মা দু পক্ষে সম্মতি দিয়েছে।
চিন্তা মাথা থেকে ফেলে দিয়ে হিসেব নিকেশ করতে বসলো ফারহান। কি করা যায় এই আজারথকে? যদিও এটা অবধারিত যে একদিন আজারথ ধরা দেবে। কিন্তু তার আগে বাবার ছায়াকে আটক করতে হবে খুব দ্রুত। আজ হোক কাল হোক দ্রুত ধরতে না পারলে বাবার নাম খারাপ হবে। কারণ, ইতিমধ্যে এই ছায়াকে বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে। শুধু তাই নয়। আজারথ এর কন্ট্রোল নিয়েছে। যেখানে যেতে বলেছে সেখানে গেছে। ওটা ছিলো পরীক্ষামূলক। কিন্তু কোনো কারণে যদি আশেপাশে এলোপাতাড়ি আক্রমণ করতে শুরু করে? ভাবতেই গলা শুকিয়ে যাচ্ছে।
নীচে এসে বাবাকে বলতে যাবে কি, বাবাই তাকে টিভি দেখতে বললো। যা ভেবেছিলো তাই ঘটছে। রানারের ছায়া এখন আতংকের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাপারটা এমন না যে বেশ বড় আকারের থ্রেট। কিন্তু বাবার ক্লোন যে আজারথের নির্দেশ মেনেই কাজ করছে। এইযে কাঁচপুর ব্রীজের ওখানে বাস ট্রাকের বিরাট একটা সংঘর্ষ হলো। সেটা সিসিটিভি ফুটেজে একদম স্পষ্ট দেখা গেছে। বাবারই ক্লোন একেবারে দুটোর মাঝখান দিয়ে যাওয়ায় এ ঘটনাটা ঘটলো। কারণ প্রচন্ড দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় দুই যানবাহনেরই চালক ভড়কে গেছে এটা নিশ্চিত।
"এখন কি করবে?" বেশ অস্পষ্ট স্বরে বললো।
"উ?" আনমনে বললো রানার।
"বললাম কি করবে?" ফারহান আবার বললো।
"আমার মনে হয় আমি আর পবন আজারথকে ব্যস্ত রাখি, আর বাদবাকি তোরা সবাই আমার ক্লোনকে আয়নায় সেট করে দিবি আরকি!" বললো রানার।
'হু। তা বেশ, তবে আমার মনে হয় ছায়াকাকুকে ডাকলে ভালো হয়।" ফারহান বললো।
কাঁচপুর এসেই চোখ ছানাবড়া হয়ে গেলো ফারহানের। বেশ যানজট লেগে গেছে দেখা যাচ্ছে। আগে এই দুটো বাস ট্রাক তো সরাতে হবে। তুমুল গতি তুলে একেবারে সামনে পৌঁছে গেলো গাড়ি দুটোর। সবাই বেশ হৈ-হুল্লোড় করলো বটে। বিশেষ করে ছোটদের ভেতর তো গুঞ্জন। একজন স্পীডস্টার এসে গেছে। "গতিবালক, ঐযে গতিবালক" এমন ধুয়া ও তুললো অনেকে। তবে সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো ছায়া এখন ইনটেনশনাল ডেস্ট্রাকশন শুরু করলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি শুরু হয়ে যাবে।
ছায়াটা কেনো কালো হলো, আর কেনইবা অতো গতি পেলো বেশ ভাববার বিষয় হয়ে গেলো। গেলো এই কারণে যে স্বাভাবিক স্পীডস্টারের গতির চেয়ে দ্বিগুণ সেই শক্তি কখনোই কন্ট্রোল করা যায় না, যেটা রানার পারবে। ওভারপাওয়ারড হয়ে লাভ নেই। লাভ আছে শক্তি নিয়ন্ত্রণে। এই বিষয়টা যে কোনো যুক্তিতে খাটে। খাটে এই কারণে যাতে বোঝা যায় রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ক্ষমতা একই রকম। কিন্তু শক্তি, দাপট দিয়ে খারাপেরাই এসব কৃত্রিম সংকট তৈরি করে।
ছায়ার পথ অনুসরণ করতে গিয়ে বেশ ভ্যাবাচ্যাকা খেলো ফারহান। খেলো এই কারণে যে এ ব্যাপারে আসলে তার বাবা রানারের আসা দরকার ছিলো। তবে, সে যে করেই হোক আজ ছায়াকে ধরবে। ত্বরণ, আমাদের গতিবালক ফারহানের বন্ধু ও ভালোবাসার মানুষ আলভী যে কিনা গতিবালকের চাইতেও শক্তি বেশি রাখার সাহস রাখে সে মেয়ে এখন ফারহানের পাশে।
-হানি?
-রেডি!
দুজনে মিলে ছুটতে শুরু করলো সামনের দিকে। বেশ ভালো একটা ট্রেস রেখে যাচ্ছে ছায়া। বাবার ছায়া। দুপাশের ছোট ছোট মাটির ফুটপাথ। আস্তে আস্তে গ্রাম যেখানে শুরু হচ্ছে সেখানে একেবারে সব ময়লা যেনো ধুয়ে মুছে সাফ করে দিচ্ছে এক নিমেষে। গতি বাড়ালো আমাদের গতিবালক। ৫০, ২৫০, ৪৭০, ৫০০ কিঃমিঃ। বাপের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলছে, ফেলছে। আলভী হাঁ হয়ে তাকিয়ে রয়েছে পেছন দিক থেকে। এর চেয়ে বেশি হলে ৫৫০ কিঃমিঃ নিজের বাপের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। এরপর এসবের মাঝে ঢুকে যাবে প্যারালাল ইউনিভার্স! বা মাল্টিভার্সাল ব্যাপার স্যাপার। এক সেকেন্ডের একটা ঝলক দেখতে পেলো আলভী! এর মানে কি? ইরফান আংকেলের ছায়ার গতি ৭০০ রেকর্ড হয়েছে। ওদিকে ফারহান সামনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। আর আলভী ভাবছে ফারহান কি পারবে ইরফান আঙ্কেলের ছায়াটাকে ধরতে? তারপর ফারহান এত জোরে ছুট লাগালো ছায়াটার পেছনে যে তার দৌড় দেখেই আলভী বেশ অবাক হয়ে গেলো। এই ফারহান কিভাবে সম্ভব করলো এতো দ্রুত ওই আঙ্কেলের ছায়াকে ধরতে? সে ব্যাপারটা মাথায় ঢুকছিলোনা। আলভী ভাবলো যদি সে যেতে পারে তাহলে তো সিকিউরিটির একটা ব্যাপার হতো। কিন্তু ফারহান একলাই তাকে ক্রস করে একেবারে সেই জায়গায় চলে যাচ্ছে। এই ফারহান কি তবে সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলো? একটু পর ইরফান আংকেলের ছায়াও সেই ভর্টেক্স এ ঢুকে গেলো।
“ফারহান?”
আলভী ফারহানের পিছন দিকে তাকিয়ে আছে। আলভীর খুব খারাপ লাগছে কারণ ফারহানকে এত ডাকার পরেও ফারহান পেছনের দিকে তাকাচ্ছে না। তাই আলভী মনে করল যে ওকে ওর পেছনে ধাওয়া করা উচিত। কিন্তু সে যে হেরে যাবে। সে আমার দিকে তাকাচ্ছে না বরঙ উলটো ইরফান আংকেলের ছায়ার পেছনে দৌড়ে চলেছে। কারণ, ফারহান এখন এত দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে যে তাকে ধরা সম্ভব হবে না এবং কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ফারহান ও মিলিয়ে গেল সেই ভর্টেক্সে।
আলভী সাথে সাথে ইরফান আঙ্কেলকে কল দিলো এবং জানালো ঘটনাটা। রানার ওরফে ইরফান কি করবে বুঝতে পারছে না। শুনে হাত পা সিটিয়ে গেলো ভয়ে। পিঠের শিরদাঁড়ায় শীতল একটা স্রোত নেমে এলো যেনো। সে একেবারে বিমূর্ত হয়ে রইলো। তারপর আস্তে আস্তে সামনের দিকে এগিয়ে দরজাটা খুলে রুমের কিচেনে গিয়ে নদীর পেছনে দাঁড়ালো। ওকে বললো, “নদী একটা সিরিয়াস কান্ড ঘটে গেছে।”
নদী আড়চোখে তাকিয়ে বলে উঠলো, “কি কথা?”
ইরফান বলে উঠলো, “বলতে ভয় করছে। বেশ ভয়ানক ঘটনা।”
নদী বললো, “দেখো হেঁয়ালি রাখো। বলে ফেলো।”
ইরফান একটা ঢোঁক গিললো। তারপর নদীর দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো, “নদী, ফারহান প্যারালাল ইউনিভার্সে ঢুকে গেছে।
কথাটা নদী কথাটা শুনে স্তব্ধ হয়ে গেল এবং জোরে চিৎকার করে উঠলো। বললো, “আমি এখন কি করবো? একমাত্র ছেলে যাকে এত এত এত রেস্ট্রিকশনের ভেতর রেখেছিলাম সেই ছেলে এখন আমাকে না জানিয়ে এই ভয়ংকর কাজটা করলো?” এই কাজ করা উচিত হয়নি। আমি এখন কি করবো?”
ইরফান এসে নদীর কাঁধ দু হাত জড়িয়ে ধরলো। বললো, “ভয় পেয়ো না। যতক্ষণ ওই কালো প্রাণীর দেখা নেই, আমরা শান্তিতে আছি।"
ছয়.
এই পোর্টাল খুলে যাওয়ায় নিজেকে দুষলো কিছুক্ষণ গতিবালক। গালি দিলো বাবার ছায়াকে। হারামজাদা তোর জন্য এ জায়গায় আসতে হলো। ফারহান হঠাত খেয়াল করলো যে আলভী পাশে নেই। হায় হায় এখন কি হবে? আলভীকে তো সে নিজের পৃথিবীতে রেখে এসেছে এই কথা মনে পরতেই সে মাথায় হাত দিয়ে দিলো। কি করবে সে এখন? তার বাবার ছায়াটাকে ধরতে তারা দুজনে বেরিয়ে ছিলো। কিন্তু কখন যে ফারহানে স্পীড এনফোরস এর কারণে আলভী পেছনে পড়ে গেছে। এখন হঠাৎ খেয়াল হলো সে আস্তে আস্তে তার পিছনে দৌড়াতে লাগল দৌড়ুতে দৌড়ুতে একটা নির্দিষ্ট সীমারেখা পার হয়ে গেলো। কেমন যেন একটা শব্দ শুনতে পাচ্ছে, সে বুঝতে পারল যে এই জিনিসটা তাদের পৃথিবীতেও আছে। এটাকে বলে স্ট্রেঞ্জার রিকগনিশন মানে কেউ যদি নতুন আগণ্তুক কোন শহরে প্রবেশ করে তাহলে সেটা সাইরেন হিসেবে বাজবে। এমন সময় মনে হলো কিছু একটা প্রচন্ড দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছে তারই দিকে।
"হ্যালো মিস্টার!?"
"মিস্টার? বাবা আমি" ফারহান বেশ অবাক হয়ে তাকিয়ে বলে উঠলো।
"কিহ! ফাইজলামি নাকি? আমি তোমার বাবা না। বড়জোর আংকেল ডাকতে পারো। এই ছাগলটা কে? হাত দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে বাবার ছায়াকে।
বেশ অপ্রস্তুত হয়ে ফারহান ইতি উতি চাইলো। এ লোকতো ভারি ভয়ংকর।
" আপনি আসলে কে বলবেন?"
"শোনো, তুমি এই যে জায়গায় এসেছো সেটা হচ্ছে দ্বিতীয় পৃথিবী। এর আগে তোমার বাবা ও আমরা তিন পৃথিবীর রানার এসেছিলাম একটা ইভেন্টে। সেটা হলো দামাহানকে মারার জন্য। তোমার বাবার মতো এতো মহান মানুষকে আমি আগে কখনো দেখিনি।"
এরপর আরো অনেক কথা হলো তাদের। কিন্তু বেচারা ছায়াটা তখনো লটকে আছে তার হাতে। গতিবালক ফারহান আঙুল তাক করে বললো, "এটাকে ধরাশায়ী কিভাবে করলেন?"
"আরে এতো ননীর পুতুল। স্পীড মেশিনে দেখছিলাম ৪৭০ কিঃমিঃ/সেকেন্ড। এক পলকে স্পার্ক ছুড়ে দিলাম। এতো আমার কাছে কিছুই না।" দ্বিতীয় পৃথিবীর রানার বললো।
"কি বলেন আপনার স্পীড কতো?" ফারহান বেশ অবাক হয়ে বললো।
"এই অ্যাভারেজ ধরতে গেলে ১০০০ কিঃমিঃ..."
"১০০০...ওরে বাবা আপনি এতো জোরে দৌড়ান!" ফারহানের মুখ হাঁ হয়ে গেছে।
"কেনো তোমার কত?"
"আমার... তা তো মেপে দেখিনি। দাঁড়ান..." বলে ভোঁ দৌড় দিলো ফারহান।
আর তাতেই চোখ কপালে উঠলো দ্বিতীয় পৃথিবীর রানারের। এক চক্কর মেরে আসার পর বেশ স্বতঃস্ফূর্ত ভাব নিয়ে দাঁড়ালো ফারহান।
"১৩০০ কিঃমিঃ!" এবার দুজনেরই মুখ হাঁ হওয়ার পালা।
এমন সময় কেউ একজন হাত ঘুরিয়ে তাদের সামনে এলো। বিষয়টা বেশ অবাক করার মতো। ফারহানের মনে হলো সে নিজেকে আয়নায় দেখছে। আসলে যাকে দেখছে সে দ্বিতীয় পৃথিবীর গতিবালক।
"কি চমকে গেলে না?"
"নাহ। আমি জানতাম এমনটা হবেই। তবে অবাক হয়েছি আমার ডপলগ্যাংগার আছে এখানে। যাবে নাকি আমার পৃথিবীতে?"
"উম্ম! মূল পৃথিবীতে যেতে পারলে মন্দ হতো না। কি বলেন রানার আংকেল?" বললো দ্বিতীয় পৃথিবীর ফারহান তাদের গ্রহের রানারকে।
একটা সুবিশাল টানেল পার হতে যদি পাঁচ মিনিট লাগে ঠিক তেমনটাই যেনো লাগছে ওদের। বাবার ভাষায়, এটা একটা কিউ জোন। আলো আঁধারে, ভেতরে ভেতরে অনেক কিছু দেখা যাচ্ছে। বক্স আকারে জেল খানার সেলের লাগছে। ফারহান সেগুলো দেখতে পেয়েছে। এখানেই বাবা কিছু অপরাধীকে লুকিয়ে রেখেছিলো আর অপরাধীগুলো নিশ্চয়ই অন্ধকারের প্রকোষ্ঠ থেকে তার দিকে তাকিয়ে আছে। ফারহান এটাও বুঝলো, যে ভয়ংকর সব অপরাধীকে বাবা ঢুকিয়ে ফেলেছে। শত শত মেটাহিউম্যান অপরাধী। এই সুবিশাল টানেল পেরিয়ে তারা বেশ কাছাকাছি যাবে, এমন সময় ফারহানের চোখ গেলো দ্বিতীয় পৃথিবীর রানারের দিকে। চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। তার হাতে ধরা বাবার ছায়া রানারের সাথেই সমান তালে একেবারে কুচকুচে কালো কিছু একটা যেনো পেছন পেছন সমান গতিতে দৌড়ে। প্রাণীটার উচ্চতা সাড়ে তিন ফুট চার ফুট।
তখনই মনে পড়ে গেলো বাবার বলা কথা।
"একটা সময় আসবে কিউ জোন ট্রাভেল করার সময় যদি কোনো কারণে দেখো কালো কুচকুচে বামুন সাইজের প্রাণী তোমাদের পিছু নিয়েছে তাহলে বুঝবে ডার্ক মাল্টিভার্স গেটওয়ে ওপেন হয়ে গেছে।"
সাত.
নিজেদের পৃথিবীতে ফেরার গেটওয়ে ওপেন হওয়ার পর সাথে সাথে জোরে এক চিৎকার দিয়ে ২য় পৃথিবীর স্পীডস্টারদের তাড়াতাড়ি ভেতরে ঢুকতে বললো ফারহান। অবশ্য এরই ভেতর মাথাটা উঁকি দিতে শুরু করেছে ডার্ক মাল্টিভার্সের সেই কদাকার প্রাণীর এই পোর্টালের কাছাকাছি। এক সেকেন্ডের স্থির কোনো চিন্তা না করে সোজা মাটিতে হাত ঘুরিয়ে প্রোপেলিং ফ্যানের মতো করলো। এরপর ধাম করে বাড়ি মারলো। সাথে সাথে চলমান এক বিদ্যুৎ সরল রেখা তৈরি হয়ে গেলো। ফারহান অবিশ্বাস্যভাবে সেই বিদ্যুৎ ছুঁড়ে দিলো কালো প্রাণীটার বরাবর।
"দেখার মতো অবস্থা" হবে মনে করলেও আদতে কিছুই হলোনা। দেখা গেলো প্রাণীটা আরো কাছে চলে আসছে। এবার দুই গতিবালক মিলে একই কাজ করলো। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে শেষমেশ ফারহানের মুখ থেকে গালি বেরিয়ে এলো। ইশারায় বলে উঠলো তার রানার আংকেলের দিকে। যাতে যত দ্রুত সম্বব রানারের ছায়াটাকে আয়নায় বন্দী করতে পারে। এজন্য ছুটতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব সামনের কোনো কিছু তোয়াক্কা না করে আজারথের সেই ডেরায় গিয়ে ঢুকতে হবে।
ডার্ক মাল্টিভার্স বেশ বড়ো এক আরাধ্য বিষয়। কারণ, এই প্যারালাল ইউনিভার্সের সব কিছুই নেতিবাচক। খারাপ টাতো খারাপই, ভালোটাও চোখের নিমেষেও খারাপ হয়। সেখানের রানার খারাপ, সেখানে গতিবালক খারাপ, সেখানে অবুঝ প্রাণীও হিংস্র। এই যেমন এই কালো কুচকুচে প্রাণীটা। সম্ভবত সে ওই দুনিয়ার রানারের কোনো এক রেসকে পজেশনের মাধ্যমে করে রেখেছে এমন নেতিবাচক। অবশ্য হতে পারে নিজেই রানারের নেতিবাচক এক সংস্করণ।
সে যাই হোক রানারের সাথে যোগাযোগ করা হলো। এমন ঘোরতর ঘটনা ঘটছে দেখে ভড়কে গেলো। পুরনো পাগল ভাত পায়না নতুন পাগল আসছে। দেরি না করে মোটামুটি আজারথের সেই ডেরায় দৌড় দিলো। ওদিকে দ্বিতীয় রানারও পৌঁছে যাচ্ছে বলে ফারহানের ডিরেকশনে ইরফান ঢুকে গেছে আজারথের ডেরায়। ও জায়গায় আজ এক সপ্তাহ ধরে ঢোকার চেষ্টা করে ও পিবি আই, র্যাব কিছু করতে পারছেনা। বিষয়টা সম্ভবত আস্তে আস্তে ডি জি এফ আই-তে গিয়ে ঠেকবে মনে হচ্ছে। বেশ, আচ্ছা! এদিকে আলভী ও তার বাবা মা বেশ করে পাহাড় সম নিরাপত্তা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ওখানে। এছাড়া, ইরফান ঢোকার সাথে সাথে ডি এর কিছু এজেন্টস দেখতে পেলো। বোঝা গেলো এ স্রেফ এখন সাধারনের বিষয় নেই। অনেক উপরের লেভেলের কাজ হয়ে গেছে।
দ্বিতীয় পৃথিবীর রানার ইরফান মূল পৃথিবীর রানার ইরফানের ছায়া নিয়ে এক ঝটকায় ছুড়ে দিলো বেশ কায়দা করে আয়নাগুলোর মাঝখানে। কিন্তু বেশ দেরী হয়ে গেলো। সেই ডার্ক মাল্টিভার্সের প্রাণীটাও কিভাবে যেনো পেছন পেছন এসে একেবারে আজারথের শরীরে ঢুকে গেলো। আজারথ বড় একটা দম নিলো। টান টান করে বুক চিতিয়ে এরপর নিঃশ্বাস ফেললো। ভয়ংকর ব্যাপার হলো দুই পৃথিবীর স্পীডস্টাররা দেখলো সেই অবিশ্বাস্য ব্যপারটি।
দেখলো আজারথের নাক দিয়ে ধোঁয়ার রিং বেরুচ্ছে। রানার টের পেলো হিট সিগনেচার। যার ভেতর থেকে অত্যধিক গরম বা হিট বেরিয়ে আসছে। বেশ খানিকটা সময় সবাই ছুটোছুটি করলো। করার যথেষ্ট কারণ আছে। কারণ, হিট রিং বের হওয়ার সময় সেগুলো যার কাছ দিয়ে যাচ্ছিলো তার কাছে অত্যধিক গরম লাগছিলো। তবে কিছু সময় যাওয়ার পর ইরফান বুঝলো এই রকম হিট রিংয়ের ভেতর দিয়ে পাস করা সম্ভব। যদিও আজারথের ওভার কনফিডেন্ট লেভেল বেশ উপরে থাকায় সে মনে করেছিলো এরা এই নতুন জিনিস দেখে ভড়কে যাবে। কিন্তু, ইরফান যখন হিট রিংয়ের ভেতর দিয়ে সামনে এগিয়ে গেলো, উলটো আজারথই ভড়কে গেলো।
পরমুহূর্তেই আজারথ লম্বা একটা দৌড় দিলো। এই দৌড়ের যথেষ্ট পরিমান স্পীড ছিলো যার কারণে ইরফানকে বেগ পেতে হলো। আজারথ যেভাবে দৌড়টা দিলো তার সাথেই ফারহান পেছন পেছন দৌড় দিলো বেশ জোরে। এতো লম্বা দৌড় দেখে ইরফানও বেশ অবাক হয়ে গেলো। কারণ, সে জানতো না যে তার ছেলেও এমন ভালো দৌড়ায়। স্পীড মিটার ফেল খেয়ে গেলো। পথের দু ধারে প্রত্যেকটা গাড়ির কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো এনার্জি ওয়েভের কারণে। ইরফান বেশ গতি বাড়ালো এই দুজনকে ধরতে।
সেই কাঁচপুর ব্রিজ। আজারথ এসে তুমুল গতি ওঠালো। একবার এপারে আরেকবার ওপারে। হঠাৎ ফারহান একটা বড় ইটের টুকরো নিয়ে মেরে দিলো আজারথের বরাবর। ঝন করে একটা আওয়াজ হলো। নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফারহানেরই গায়ে এসে পড়লো আজারথ। বড় করে একটা নিঃস্বাস নিলো আজারথ। কাঁচের শরীরটা যেনো এক পলকেই মানূষের মতো অসহায় হয়ে পড়লো। ফারহানের দিকে তাকিয়ে তার চোখের অশ্রু ঝরে পড়লো। শুধু অপমানের কান্না নয়। এ মনের ভেতরের ক্ষোভ, রাগ, জেদের কান্না। আমাদের মনুষ্য সমাজের বেশিরভাগেরই এমন জেদের কান্না কাঁদে। কিন্তু, আজারথের শরীরটাও কি মানুষ না? ডার্ক ম্যাজিকের আশ্রয়ে না হয় এতোদিন জীবিত ছিলো। তবে ফারহানের ছুঁড়ে দেয়া ইটের টুকরো তার আত্নিক স্বত্তাকে দিয়েছে গ্লানি। যে গ্লানি আর অপমান দু হাজার বছরের পুরনো।
চট করে একটা দুর্ভাবনা মাথায় এলো ইরফানের। আজারথ যেমন ভয়ংকর প্রকৃতির লোক, না আবার জাতীয় লেভেলের ড্যামেজ করে বসে। তাই ফারহানের দিকে ইশারা করে সেদিকে ছুটতে থাকলো। ফারহানের স্পীড আমাদের রানারের থেকেও বেশি। ওয়ার্ম আপ করতে যতোক্ষণ সময় লাগে। তার চেয়ে বেশি সময় একটা শব্দ লিখতে। হাই ভোল্টেজের এই দৌড় দেখে রানার, আমাদের ইরফানও অবাক হয়ে গেলো। এতো স্পীড?! এতো? কই ফারহান তো আগে বলেনি। নিজের ছেলেকে নিয়ে অহংকার জন্ম নিলো বুকের এক কোণে। সোনার টুকরো ছেলে। ফারহানের অনেক কিছুই বদলে গেছে গত ক দিনে।
ফারহানের পেছনে দৌড়োতে দৌড়োতে গিয়ে ইরফান একটা কথা বুঝলো তার ছেলে ফারহান সম্পর্কে। ছেলের ভেতর অদম্য সাহস আছে। ঐ সাহসটায় ভর করে যখন খুশি তখন অন্যায় রুখে দিতে পারবে। তবে ফারহান অনেক বেপরোয়া। তরুণ শরীরে রাগ, জেদ, ঘৃণা থাকাটা স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে ফারহানও বেশ এগ্রেসিভ। আজারথের প্রতি এতোটা মুখতিতা একটা ঘৃণা জন্ম নিলে যে কোনো ক্ষতি করতে বাধ্য থাকবে ফারহান। এবং এতেই ভয় ইরফানের।
বেশ লম্বা প্রশস্ত পথ। দৌড় দিলে দুপাশের গাড়ির যথেষ্ট ক্ষতি সাধন করতে পারে আজারথ। হতে পারে কোনো কোনো গাড়ি তুবড়ে দিতে পারে। আজারথের কাঁচের শরীরের যে খানিক কাঁধের অংশ থেকে খুবলে নিতে পেরেছে তাতে বেশ আনন্দ পেয়েছে ফারহান। মুখে পৈশাচিক হাসি কিঞ্চিত আসলো বৈকি। কিন্তু আজারথের ক্ষতির সমূহ সম্ভাবনার কথা মাথায় আসতেই জেদ চেপে গেলো। ইরফানের আশঙ্কা সত্যিই হলো। বেশ মাথা গরম ছেলেটার। নিজের চিন্তা চেতনা ধ্বংসগামী হলে সেটা কখনোই ঠিক করা যায় না। যদি ধ্বংসকামী হয় তো ঠিক করা যায়।
ফারহান। লম্বা একটা দম নিলো। বেশ বড় দম। এররপর ছুট দিলো আজারথের বরাবর। আজারথ যেদিকে গেছে সেদিকেই দৌড়। রানার ইরফানও বেশ ছুটতে শুরু করেছে। এই ছোটা আর স্বাভাবিক দ্রুতগতির ছোটার ভেতর বেশ তফাৎ। আজকে ছুটতে হচ্ছে নিজের ছেলের জন্য। কারণ, ফারহানের নীতিগত আদর্শ আর ইরফানের নীতিগত আদর্শের ভেতর বিস্তর ফারাক। ইরফান নো কিলিং রুলসে থাকে। ফারহানের কথা হয় মারো নাইলে মরো। ফারহান আজ সেটাই করতে চাচ্ছে। মেরে শেষ করবে আজারথকে। ঐ বিষয়টা ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে ইরফানের মনে। ছেলেকে কোনক্রমেই খুনী হতে দেবে না। কারণ, আজারথও এক রক্ত মাংসের মানুষ। ওকে মারলে আজন্ম পাপের বোঝা বইতে হবে ফারহানকে। যে পাপ থেকে কোনোক্রমেই মোচনের উপায় অবলম্বন করা সম্ভব হবেনা। তাই, যত দ্রুত সম্ভব ফারহানের পেছন পেছন ছুটতে শুরু করলো।
আট.
আজারথের শরীরে ডার্ক মাল্টিভার্সের পরজীবীর আশ্রয়। তবে আশ্রয়ের সক্ষমতা কতটুকু সেটাও একটা বিষয়। বিষয়টা অনুধাবন হলো পরমুহূর্তেই। জীবটা বেরিয়ে এলো নিমিষেই। বেশ বড় সড় সড় রকমের বমি করলো আজারথ। হাত দিয়ে মুখের চেটোটা মুছলো। মুছতে মুছতে আড়চোখে তাকালো। পাশে একটা ইলেকট্রনিকস দোকানে চোখ পড়লো। তার মনে হলো তাকে টিভিতেই দেখাচ্ছে। বেশ প্রশান্ত হলো মন। প্রশস্ত এক হাসি দিয়ে হো হো করে হেসে উঠলো।
দোকান থেকে প্রৌঢ় একজন বেরিয়ে এসে চশমা নেড়ে বললো, "ও! তুমি সেই কুলাঙ্গার? তোমার জন্য এ দেশে এতো কিছু হচ্ছে তাহলে?"
চোখ লাল করে আজারথ লোকটার দিকে তাকিয়ে বললো, "খামোশ! তোমরা তোমাদের অতীত নিয়ে কি জানো? আমি এই আজারথ দু হাজার বছর আগে যদি না আসতাম তাহলে কোথায় এদেশ আসতো? আমি, আমার গোত্র এখানে পদধূলি না দিলে তোমাদের সভ্যতা তৈরি হতো না।"
এবার লোকটা বলে উঠলো, "ইউ শাট আপ! অপ্রয়োজনীয় জীবন! সভ্যতা আমরা তৈরি করেছি। আমরা অনেক আগে থেকেই ছিলাম, আমরা সমাজ তৈরি করেছি, ভাষা আন্দোলন করেছি, যুদ্ধ করেছি, দেশ গড়েছি!! আর তুমি এসেছো সেই সভ্যতা ধ্বংস করতে।"
ফারহান তার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে। আজারথ কালো একটা খঞ্জর বের করে মারতে যেতেই ফারহান এসে পড়লো তার শরীরের উপর। বেশ বড় সড় রকমের চোট। আজারথের কাঁধের ভেতর কাঁচ ফুড়ে মনুষ্য চামড়া ফুটে উঠলো। ভয়ে, ঘৃণায় মুখটা কুঁচকে গেলো। হাতের একটা থাবড় বসিয়ে দিলো আজারথ। চোখ লাল হয়ে গেলো ফারহানের। অসম্ভব দ্রুত গতিতে এসে সেও থাপ্পড় বসিয়ে দিলো আজারথের গালে। এবার ঘৃণার বদলে ক্ষোভ সৃষ্টি হলো আজারথের চোখে মুখে। হাত উঁচু করে গপ করে ইরফানের গলা চেপে ধরলো।
"না আ আ আ!" ফারহান আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছে। যদি তার বাবাকে ওখানেই ঐ অবস্থাতেই শেষ করে ফেলে?! এই এক আতঙ্কে ফারহানের এমন অবস্থা হলো যে কখন কবে সেই প্রাণীটা তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে খেয়াল হলো না। ফারহানকে হোস্ট করতে ফারহানেরই শরীরে ঢুকে গেলো। ফারহান যেনো নতুন এক ব্যাক্তিস্বত্তায় ঢুকে গেলো। বেশ খানিকক্ষণ মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো ইরফান, দ্বিতীয় পৃথিবীর দুজন আর আজারথ। আজারথ এতোটা আশাহত হলো যে বিষণ্ণ মুখে বলতে বাধ্য হলো “আমি না হয় এর হাতে যাবো। কিন্তু তোমাদের মেরে ফেললে ও, কিভাবে চলবে পৃথিবী?”
প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে থম মেরে দাঁড়িয়ে গেলো ইরফানরা। ওদিকে ফারহানের মুখ থেকে গর গর আওয়াজ বের হচ্ছে। দু সেকেন্ড পার হতে না হতেই মাংস খুবলে নেয়ার আওয়াজ হলো। রানার দুজনই বিস্ময়ের চোখে হাঁ হয়ে গেলো আজারথের দিকে তাকিয়ে! একি?! কি হয়ে গেলো আজারথের?!
এমনিতেই ফারহানের অসম্ভব গতি! তার উপর ওই পরজীবীর স্পীড। টিকতে পারলোনা আজারথ। কোমরের উপরটা নিচে পা থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে ফারহানের শরীরে বাস করা ডার্ক মাল্টিভার্সের প্রাণীটা! আজারথ শেষ। এর মানে তো গল্পও শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। তাই না পাঠক? না। গল্পের শেষ হলো না। গল্পের তো আরো বাকী প্রিয় পাঠক। বলে রাখা ভালো ডার্ক ডাইমেনশন থেকে আসা প্রাণীটা কিন্তু হোস্ট পেয়েছে। তার এই আকস্মিক আবির্ভাব হতভম্ব করে দিয়েছে সবাইকে। তবে রানার এতোটা অবাক হয়নি। সে প্রস্তুত ছিলো এমন ঘটনার জন্য। নিজে ফেঁসে যাওয়ার আগে ফারহানের অসহায় চোখ দুটো বারবার ইরফানের দিকেই উঠানামা করছিলো।
হোস্ট হওয়ার পর ফারহানের চোখ দুটো লাল হয়ে গিয়েছিলো। মোটামুটি তখনই সবাই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলো ফারহান হোস্ট হয়ে গিয়েছে। আজারথকে নরকের পথ দেখিয়ে ফারহান নিশ্চিন্ত মনে চারপাশ দেখে নিয়েছে। এরপর তুমুল গতি তুলে পা বাড়ালো সামনের দিকে। অবশ্যম্ভাবী এক আতংকের কথা রানারের মনে বেজে উঠলো।
এমন সময় আচমকা এক বজ্রপাত হলো যেনো। কিন্তু ততোক্ষণে ফারহানের পেছন পেছন ইরফান দৌড়োতে আরম্ভ করেছে। পেছনে এক ঝলক তাকিয়ে বিস্ময়ে হা হয়ে গেলো। একি! গ্যালাক্টিক পোর্টাল খুলে গেছে। নতুন ঝামেলা দেখা দিলো কেনো? ইরফান বেশ হতচকিত হয়ে গেছে। টানেল থেকে তার মতই এক অবয়ব অসম্ভব দ্রুতগতিতে ছুটে আসছে তাদের পেছন পেছন। চেহারা অবিকল ইরফানের, শরীরে কালো স্যুট যেমনটা ইরফান পড়ে। ইরফানের আদ্যপান্ত কি এ বেচারা জেনেই তবে এসেছে? লোকটা একদম ফারহানের সামনে গিয়ে পাঁচ টনি এক ঘুষি মেরে দিলো বেশ।
ফারহান মাটিতে পড়েই অদ্ভুত এক চিঁ চিঁ শব্দে আওয়াজ তুলতে লাগলো। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না ইরফান। এতোদিন বিশ্বাস ছিলো ইরফানের যে তার ছেলের গতি তার 'রানার' স্বত্তা থেকে বেশি। অথচ এই কালো 'রানার' লা জওয়াব! কিভাবে হলো এমন করে ঘটনাটা?! আর লা জওয়াব হবেই না বা কেন? কারন ফারহান হোস্ট হওয়ার পর প্রাণীটি ফারহানের ভেতর ঢুকে ফারহানকে এক অদম্য শক্তিশালী সুপার স্পিড এনে দিয়েছে যার কারণে ফারহান এখন একজন সবচাইতে বড় স্পিডস্টার হয়ে গিয়েছে তবে ডাক মাল্টিভার্সের প্রাণী তাকে হোস্ট করার কারণে ফারহানের ভেতরে খারাপ স্বত্তা কাজ করছে।
হঠাৎ সেই ডার্ক মাল্টিভার্সের লোকটি ফারহানের গলা চেপে ধরে একটা দৌড় দিলো। রানার বেশ অবাক হয়ে গেলো যে কি করে এই লোক ফারহানকে নিয়ে তার থেকেও এতো দ্রুতগতিতে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। একটা সময় লোকটা হঠাৎ থেমে গেল তারপর রানার মানে প্রথম পৃথিবীর রানারের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো, "তুমি যেটা ভাবছো সেটাই আমি। এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় স্পিডস্টার কিন্তু আমি। সবচেয়ে বড় খলনায়ক, কারণ আমি তোমার বিপরীত রুপ, অন্ধকার প্রতিচ্ছবি।। মানে ভালো যেমন থাকে পৃথিবীতে তেমনই খারাপ থাকে। তাই আমি তোমার খারাপ প্রতিরূপ। শুভশক্তির বিপরীতে আমি অপশক্তি।"
তখন রানার বলল, "এটা করা তোমার জন্য মোটেই উচিত হচ্ছে না কারন আমি আমার ছেলেকে অসম্ভব ভালোবাসি আর আমার ছেলেকে যদি তুমি নিয়ে যাও তাহলে তার মা ছেলে হারা হয়ে যাবে আর আমিও সাথে। তাই তুমি ফারহানকে যে করে হোক এই হোস্ট অবস্থা থেকে বের করে আনো আর আমার কাছে দিয়ে তোমার প্রাণীটিকে তোমার সাথে নিয়ে যাও।"
তখন ডার্ক মাল্টিভার্সের রানার হেসে বলল, "হা হা হা তুমি আমাকে এখনো চেনো নি। আমার সাথে যুদ্ধ না করলে তুমি কখনোই ফারহানকে পাবে না। হয় হারতে হবে আর না হলে তোমাকে জিততে হবে। না পারলে তুমি মারা যাবে। আমি তোমাকে মেরে শেষ করে দেবো আর জিতলেও তুমি আমাকে তেমন কিছুই করতে পারব না কারণ এরপর আমি ফারহানকে শেষ করে দেবো।"
তখন রানার বলল বেশ আক্ষেপের সাথে, “তুমি আমার ছেলেকে যদি এভাবে নিয়ে যেতে চাও তাহলে আমরা শেষ হয়ে যাব।" তারপর ডাক মাল্টিভার্সের রানার বলল আমি তোমার ছেলেকে যখন নিয়ে যাবো তখন তোমার আর পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। আমাদের ক্রিটোরিক্স প্রাণীটির জন্য আমার উপর যে হুকুম জারি হয়েছে আমার ডাক মাল্টিভার্সের সুপার লর্ডের কাছ থেকে, সেটা আমাকে পূরণ করতেই হবে।" এরপর রানার বলল, "তুমি আমার কথা না শুনে ওকে যদি নিয়ে যাও তাহলে আমি তোমার সাথে যুদ্ধ করতে বাধ্য হবো।" এরপর ডার্ক রানার বেশ রোষের সাথে বললো, "তুমি যদি একটা বারও আর উচ্চারণ করো আমার সাথে যুদ্ধ করবে তাহলে আমি এখানে থেকে তোমার পৃথিবীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব। আমার সৈন্যদল আসবে। আর তোমার দুনিয়া ছারখার করে দেবে।"
তখনই পিছন থেকে বলে উঠলো পবন, "চুপ থাকো। আরেকটা কথা বেশি বলবে তো আমাদের পৃথিবীর অতিমানবেরাও তোমার সাথে যুদ্ধ করবে। শুধু তুমি না তোমার দলের সবাইকে শেষ করে দেবে। ছারখারও করে দেবে। প্রতি উত্তরে বলল ডার্ক রানার, " কি তোমার এত বড় সাহস তুমি আমাকে হুমকি দিচ্ছো? আচ্ছা তোমাদের রানারের সাথে আমার যুদ্ধ এখানে হবে। এখন। যদি রানার তুমি জেতো তাহলে আমি তোমার ছেলেকে রেখে যাব প্রাণীসহ। তখন রানার বলল, "প্লিজ এসব করোনা। যুদ্ধ কোনভাবেই কারো জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না, বরং শান্তি বজায় রাখলেই আমাদের উভয়ের মঙ্গল।"
তারপর ডার্ক রানারের দিকে তাকিয়ে রানার বলতে লাগলো, "তুমি আমাকে দুটো দিন সময় দাও। অবশ্যই আমি এই ছেলে থেকে হোস্ট টা সরিয়ে ফেলবো এবং প্রাণীটাকে তোমার হাতে দিয়ে দেবো যদি আমি না পারি তাহলে ডিসিশন তোমার।"
তারপর দেখা গেল আলভী এসে দাঁড়িয়েছে রানার, পবন, স্রোতস্বিনী এবং প্রবাহিনীর পাশে। ও খুব রাগ করে এবং চোখে জেদের কান্না নিয়ে ডার্ক রানারের দিকে তাকিয়ে বললো, “তুমি আমার ফারহানকে ফিরিয়ে দাও নাহলে আমি তোমাকে এখানেই শেষ করে দেবো।” একথা শুনে ডার্ক রানার বেশ রাগত স্বরে তার দিকে তাকিয়ে বললো, “তোর এত বড় সাহস। একটা পুঁচকে মেয়ে তুই আমাকে চ্যালেঞ্জ করিস। তোকে আমি ছাড়বো না। তুই আয় আমার সাথে। এখনই চ্যালেঞ্জে আয়।
এ কথা শোনার সাথে সাথে আমাদের আলভী ওরফে ত্বরণ অতি দ্রুত গতিতে একেবারে কাছে গিয়ে ডার্ক রানার কে ঘুষি মেরে বসলো। ঘুষি খাওয়ার সাথে সাথে ডার্ক রানার নিজের খুব অসহায় বোধ করল। ডার্ক রানার উঠে দাঁড়িয়ে তারপর ফারহান কে কোলে নিল এবং সাথে সাথে একটা ভর্টেক্স ক্রিয়েট করল এবং ভর্টেক্সের ভেতরে সে সাথে সাথে ঢুকে গেলো। তার কিছুক্ষণ পর ভর্টেক্স ক্লোজ হয়ে গেলো।
নয়.
পবন রানার কে দুহাতে চেপে ধরলো। কারণ রানার পাগলের মত চিৎকার করছে। তার দেখাদেখি বাকি সবাইও বেশ মুখ কালো করে ফেলেছে এবং মন খারাপ করে বসে আছে। প্রবাহিণী এবং স্রোতস্বিনী দুজনই বেশ মুষড়ে পড়েছে। দেখা গেল তারাও বুক চাপড়াচ্ছে। আর কিছুক্ষণ পরপর আলভীর দিকে তাকিয়ে কান্নাকাটি করছে। হঠাৎ আলভী নিজেই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেলো। কারন তার সাথে যেটা হলো সেটা সে সহ্য করার মত ক্ষমতা রাখে নি। তার মধ্যে এদিকে সবাই দৌড়ে তাকে ধরতে গেলো এবং তাকে তার কাছে এসে দেখতে পেলো যে সে প্রায় নিস্তেজ হয়ে পড়েছে।
হঠাৎ রানার উঠে দাড়ালো এবং তার সকল বন্ধুদের কে বলল, "আমি এখন ভর্টেক্সে করে চলে যাব ডার্ক মাল্টিভার্স আর সেই ডার্ক রানার কাছ থেকে ফারহানকে ছিনিয়ে আসবো। আমি আমার যুদ্ধ চালিয়ে যাবো যতক্ষণ না পর্যন্ত আমার ছেলেকে আমি ফেরত পাবো।"
আলভীর জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত রানার অপেক্ষা করতে লাগলো। কারণ সে প্রতিজ্ঞা করেছে আলভীর জ্ঞান যতোক্ষণ পর্যন্ত ফিরবে না ততক্ষণ পর্যন্ত সেখানে থাকবে এবং আলভীর জ্ঞান ফিরলে সে চলে যাবে। কিছুক্ষন পর আলভীর জ্ঞান ফিরল। তারপর রানার আলভী কে বললো যে, 'আমি এখন যাচ্ছি ওদিকে।"
তখন আলভী বললো, "আঙ্কেল আমি আপনার সাথে ও যাবো, কারণ ও আমার ফারহান কে নিয়ে গেছে। আমি যদি যাই তবে আমার প্রতিশোধ নেয়া হয়ে যাবে। আমি চাই ও চিরতরে শেষ হয়ে যাক।"
এরপর রানার বললো, “ঠিক আছে। তুমি আমার সাথে যেতে পারো। তবে একটা শর্তে। সেখানে কোন প্রাণীর গায়ে আঁচড় দেয়া যাবেনা। মানে হলো, কাউকে মারা যাবে না। কেউ যদি মারা যায় তোমার কারনে, তাহলে তুমি তাকে হত্যার দায়ে দোষী হবে। আর আমিও নিজেকে দোষ মুক্ত রাখতে পারবো না। আমিও সমানভাবে দায়ী হয়ে যাব। তখন আলভী বলল ঠিক আছে আঙ্কেল আমি আপনার শর্তে রাজি। তবে একটা কথা যদি আমার উপর কেউ যদি আক্রমণ করে, তাহলে আমি ওখানকার অনেক কিছু ধ্বংস করে দেবো। কারণ খারাপের পরিণাম খারপই হয়।”
রানার বলতে লাগলো তখন যে, “অতোটা ধ্বংসাত্মক হওয়ার কারণ নেই। কারণ ওরা তো তোমাকে মেরে ফেলবে না। তবে হ্যাঁ, তবে কোনো না কোনো দিক থেকে আক্রমণের ব্যাপার থাকবেই একটা। কারণ, তারা চাইবে সুযোগটা হাতছাড়া না করার। তখন দেখা যাবে যে, তোমার উপরে যখন আক্রমণ আসবে তখন আমিও সতর্ক থাকবো। যাতে তোমার উপর আক্রমণটাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিয়ে যেতে পারি। আর আমরা দুজন মিলেই তো কাজ করবো যদি আমাদেরকে কেউ মারতে চায়, আমরা ওকে ছেড়ে দেবো না।
তারা দুজনেই তখন তৈরি হয়ে নিলো। বৃষ্টি আসি আসি করছে। কোথায় এই বৃষ্টির ঝিরি ঝিরি হাওয়া মাতাল গন্ধ, তৈরি হয়েছে বিষণ্ন পরিবেশ। এমন পরিবেশে এমন কষ্ট সহ্য করা যায় না। কারণ, ফারহানই ছিল ওর জীবনের একমাত্র সম্ভাবনা। ফারহানকে ডার্ক রানার অপহরণ করে যখন সেই ডাক মাল্টিভার্সে নিয়ে গেল তখন তার আর কি ভালো থাকা চলে? আর এই কারনে তার আর ভালো লাগছে না কিছুই। কোন কিছুই তার আর সহ্য হচ্ছে না।
রানার এবং আলভী ভর্টেক্সে প্রবেশ করলো এবং তারা আস্তে আস্তে দেখতে লাগলো চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কতো কিছু। কতোজন তাদের চোখে পড়ছে। এদের আটকে রেখেছে রানার। যারা অন্যায় করেছে। অনেক সময় তাদের সাথে চোখাচোখি হতেই তাদের মধ্যে এক ধরণের অসহায়ত্ব কাজ করছে দেখা যাচ্ছে। এরপর আস্তে আস্তে তারা দু'তিনটে ইউনিভার্স ক্রস করার পর এক বিশাল অন্ধকারাচ্ছন্ন কালো গহ্বর দেখা যাচ্ছে। সেটার ভেতর থেকেই তারা আস্তে আস্তে ভেতরের দিকে আরো গভীরে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে। এমন সময় হঠাৎ করে একটা গেট খুলে গেলো।
প্রচন্ড আলোর ঝলকানি আর প্রচন্ড গোঙানির শব্দ শোনা যাচ্ছে। আর এদিকে পৃথিবী পেছনে পড়ে যাচ্ছে তার ইউনিভার্স সহ। এই ডাক মাল্টিভার্সের গেট খোলার পরে রানার বুঝতে পেরেছে একটা কথা। এখানকার সবকিছুই কালো। এমন কি গাছ পালা পশুপাখি সবকিছু কুচকুচে কালো। এমনটাই তো বলেছিলেন ডক্টর সিরাজ এবং তার কথায় কোনো ফাঁকফোকর ছিল না। যেটা আজকে পুরোপুরি চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে আমাদের রানার।
দশ.
চারিদিকে তাকিয়ে আলভী বেশ অবাক হলো। কারণ, মাটিটা মানে তারা যে পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা শূন্যে ভেসে আছে এবং নিচের সব পানি মানে এক বিশাল জলের মহাসাগর নিজের দিকে তাকিয়ে ভালোভাবে বুঝতে পারল যে সেগুলো আসলে জল নয়। সেগুলো যেনো রক্ত। রক্তের মহাসাগর দেখে একটু বিচলিত হয়ে পড়েছে। তখন রানার তার দিকে তাকিয়ে বললো, “তুমি ভয় পেয়ো না। আর থেমে যেওনা। কারণ, চারপাশ থেকে অসংখ্য ভয়ঙ্কর রকমের শ্বাপদ তোমার দিকে এগিয়ে আসবে আর তোমাকে আক্রমণ করে বসবে। সুতরাং, যত দ্রুত পারো সামনের দিকে দৌড়ে এগিয়ে যাও। পারলে আমাকে ফেলে চলে যাও। কারণ আর বেশি দেরি নেই, আর মাত্র ১৫ সেকেন্ড সময় এর পরেই আসল মাল্টিভার্স রিভিল হবে এবং আমরা তখন শূন্যে ভেসে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো। আমরা আসল গ্রহে গিয়ে পৌছাবো যেখান থেকে ওই ডার্ক রানার এসেছিলো। ওদের মাল্টিভার্সের অনেক গ্রহ আছে এবং ওখান থেকেই আসল টাকে খুঁজে বের করতে হবে। ডার্ক রানার এর জন্য আমাদেরকে বেশি সময় হাতে নেয়া যাবে না। কারন রানারআমাদের ফারহানকে যদি রেখে দেয় তাহলে আমরা কিন্তু অনেক সময় ধরে সেখানে ঘুরতেই থাকবো এবং ওকে খুঁজে পেতে অনেক কষ্ট হবে। সেজন্য ভেবেচিন্তে পা দিয়ো। আগ বাড়িয়ে কিছু করতে যেও না। কারো সাথে সংঘাতে জড়াবে না।”
একটা সময় আলভী খেয়াল করল ওদের পায়ের তলায় আর মাটি নেই। নেই মহাসাগর, সেই রক্তের এবং তারা বেশ বিচলিত হয়ে পড়লো। নাহ! রানার নিজেও নার্ভাস হয়ে গেছে যে কি করবে। তাই, রানার চিন্তা করলো আলভীকে সাথে নিয়ে চোখ বন্ধ করে সামনে যে গ্রহটি পাওয়া যাবে সেখানেই জাম্প দেবে এবং দেখতে দেখতে রানার খুব দ্রুত দৌড়ে কাছের গ্রহে পৌঁছে গেলো। গ্রহটাতে দেখা যাচ্ছে অনেক বসতি। একটা মহাদেশের উপর ভালো করে চোখ দিতেই দেখা গেলো অনেকটা ভারত উপমহাদেশের মতো। দ্রুত তড়িঘড়ি করে জাম্প দিলো ভর্টেক্স ব্যবহার করে। নেমেই একটা নো ম্যান্স ল্যান্ডে পা দিলো ত্বরণ বা আমাদের আলভী সহ। দেখা যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে নির্দিষ্ট জায়গায় জায়গায় পতাকায় “ওয়ান” লেখা। রানার বুঝলো, এটাই তাহলে সেটাই প্রথম পৃথিবী যার নাম ডার্ক মাল্টিভার্সের প্রাইম আর্থ নামে পরিচিত এবং রানার খুব দ্রুত সেই গ্রহের একটা দেশে পৌঁছালো। দেশটা দেখতে পুরোপুরি বাংলাদেশের মতোই কিন্তু সেখানকার সবকিছুতে কালোর রাজত্ব বিরাজমান এবং এই রাজত্ব দেখে সে অবাক হয়ে গেল সবার মধ্যে কেমন যেনো খুনি ভাব। সবাই হিংসুটে সবার মধ্যে শুধু মারামারি প্রবণতা দেখা গেলো। একই জায়গায় কয়েকজন মারামারি করছে এবং পাশে দুটো শিশুর লাশ পড়ে আছে এভাবে দেখা যাচ্ছে অনেক মানুষ মারামারিতে লিপ্ত হচ্ছে।
একজনকে ধরে জিজ্ঞেস করতেই বললো, “এখানে ভালো আর খারাপ এর মধ্যে মারামারি হচ্ছে। খারাপরা অনেকদিন ধরে আমাদেরকে আটকে রেখেছে। আমরা খারাপ দের সাথে লড়তে যাচ্ছি কিন্তু সুপার লর্ড সবকিছু তছনছ করে দিচ্ছে। তার এতই শক্তি এত শক্তি যে আমরা বাধ্য হচ্ছি নিজেদেরকে লুকিয়ে রাখতে। এই সুপার লর্ড আর ডার্ক রানার এসে আমাদের সাথে যা যা করছে তা আসলে আর সহ্য করার মতো নয়। তাই আমরা এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি এক হবো আর সুপার লর্ডের কাছে গিয়ে এইসব ব্যাপারে বলবো। কিন্তু কি আর করা সুপার লর্ড নিজেই খারাপ মানুষ। ও কি আমাদের কথা শুনবে? যদি সামান্য একটু লিবারেল হয় তাহলে আমরা হয়তো কিছুটা সুফল পেতে পারি।”
তখন রানার জিজ্ঞেস করলো, “এই সুপার লর্ড কোথায় থাকেন? তার পরিচয় কি? তার আসল নাম কি তাকে কিভাবে আমরা যোগাযোগ করে পেতে পারি? তখন ওই লোকটি বললো, “আমার সাথে চলুন। রাজধানী ঢাকায় উনি বসবাস করেন এবং তিনি গোটা পৃথিবীর কর্তৃত্ব নিয়ে নিয়েছেন। সাথে সাথে গোটা ইউনিভার্সের তিনি অধিকর্তা। উনার সব ধরনের পাওয়ার আছে। যার কারণে উনি আমাদেরকে এত বড়ো একটা চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন যা আমরা পূরণ করার মতো নই। তখন রানার বলল যে, “চলো আমরা আস্তে আস্তে ঢাকার দিকে অগ্রসর হই এবং সুপারের কাছে গিয়ে এই ব্যাপারে বলি। তখন লোকটি বললো। “চলুন।” একটা সময় পর রানার লোকটিকে কাঁধে নিয়ে ঢাকায় পৌছে গেল। সাথে আলভীও।
পেছনে পেছনে আলভী এসেছে এবং তার সাথে সে যুদ্ধেরও প্রস্তুতিও নিয়েছে। রানার আর ঐ লোকটা সুপার লর্ডের বাড়ির সামনে এসে পৌছালো। সিকিউরিটি গার্ড খুব সহজে তাদের ভেতরে ঢুকতে দিলো সুপার লর্ডের অনুমতি নিয়ে। সেখানে সুপারের কাছে গিয়ে দেখা গেলো আর ডার্ক রানার এবং সাথে রানারের ছেলে ফারহানকে। মানে গতিবালক। এরপর রানার সুপার লর্ডকে অভিবাদন জানিয়ে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করলো। এবং বললো, “সুপার লর্ড আমি আপনার এখানে এসেছি একটা কারণে। আমি আপনার এই ডার্ক রানারের কাছ থেকে আমার ছেলেকে নিয়ে যেতে চাই।”
তখন সুপার লর্ড বললো, “তোমাকে তো আমি ওকে দিয়ে বলিয়েছি যে, “তোমায় এভাবে গতিবালককে ছিনিয়ে নিয়ে যেতে দেয়া হবে না। তুমি যেহেতু এসেছো সে ক্ষেত্রে তোমার সাথে ডার্ক রানার এর একটা নতুন চ্যালেঞ্জ হবে এবং এই চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে তোমাদের দুইজনের মধ্যে দৌড় প্রতিযোগিতা হবে। তোমরা দুইজন দৌড় প্রতিযোগিতা করে যে জিতবে সেই হবে জয়ী। যদি তুমি জেতো তাহলে তোমার ছেলেকে নিয়ে যেতে পারবে। আর, যদি না জেতো তাহলে চিরতরের জন্য ফারহান আমাদের হয়ে যাবে।”
সাথে সাথে আলভী ও বললো যে, “ আমিও তোমাদের সাথে দৌড়াবো। আমরা দুইজন আর ডার্ক রানার একজন।”
এরপর তিনজন তিনজনের মধ্যে চোখাচোখি করলো। তখন সে বললো যে, “ ঠিক আছে তোমরা তিনজনই রেস দিবে এবং দৌড় প্রতিযোগিতায় যে জিতবে তার হাতে থাকবে ফারহান। সাথে সাথে রানার ও আলভী রাজি হয়ে গেলো। ডার্ক রানার একটু থতমত খেয়ে গেলো এবং চিন্তা করলো যে এদের সাথে যদি হেরে যায় তাহলে তো ফারহানকে আর হাতে রাখা যাবেনা। ফারহান হাতছাড়া হয়ে যাবে। তখন রানার আর আলভী ওর দিকে তাকালো এমন ভাবে যাতে সে ভয় পায়। ডার্ক রানার আসলে ভয় পেয়ে গেছে। তার ভেতরে আত্মবিশ্বাস কমে যাচ্ছে এটা বুঝতে পেরে সে সাথে সাথে সে হুংকার দিয়ে গা ঝাড়া দিয়ে বললো আমি এই দৌড় প্রতিযোগিতায় জিতবো এবং আমাকে জিততে হবে। সুপার লর্ডের জন্য আসো কাল সকালে আমাদের তিনজনের মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে এবং আমরা যে জিতবো তার কাছে ফারহান থাকবে।”
কিন্তু আলভী সেখানে বাগড়া দিলো সে বললো, “আর যে হারবে তার কী পরিণতি হবে? তখন রানার বলে উঠলো, “তার কোন পরিণতি হবে না। এখন আলভী বললো, “না না না এটা হতে পারবে না। আমি যা বলবো সেটাই মানতে হবে। যে হারবে সে মারা যাবে।” তখন উপস্থিত সবাই চোখ বড় করে হা হয়ে আলভীর দিকে তাকিয়ে থাকলো। এই মেয়ের এত বড় সাহস কোত্থেকে হলো? অন্য মাল্টিভার্সের প্রাইম পৃথিবী থেকে এসেছে। এভাবে কেন চ্যালেঞ্জ করলো তখন ডার্ক রানার নিজের ভেতরের শক্তি জুগিয়ে হুংকার দিয়ে উঠলো, “ঠিক আছে। আমি তোমাদের সাথে প্রতিযোগিতায় হারলে তোমরা আমাকে মেরে ফেলো।” তখন ডার্ক রানার আগুনের দৃষ্টি দিয়ে আলভী আর রানারের দিকে তাকিয়ে রইলো। বললো, “এটা আমি মেনে নিতে পারবোনা। যদি আমি হারি, তাহলে আমাকে ছাড়া এই বুড়ো সাম্রাজ্য চালাবে?” তখন রানার বলে উঠলো, “পরেরটা পরে দেখা যাবে। আলভী যে চ্যালেঞ্জটা দিয়েছে আগে সেটা গ্রহণ করুন। যদি ডার্ক রানার হেরে যায় তাহলে আপনি আমাদের সাথে পরে যুদ্ধ করবেন। আমি কথা দিচ্ছি।” এরপর আলভীকে ও ওই লোকটিকে নিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো। ডার্ক রানার মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েছে। সে এখন খুব ভয় পেয়ে গেছে কারণ সে জানে আলভী আর রানার এর গতি ও কোন অংশে কম নয়। যদি কোনোভাবে ওরা যদি ওকে পরাজিত করে দিয়ে চলে যায় তাহলে কিন্তু সে পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে। তার জান কতল করে ফেলা হবে সুপার লর্ডের সামনে এবং ডার্ক মাল্টিভার্সের সাথে এতদিন আসল মাল্টিভার্সের কোন মারামারি হয়নি। কিন্তু এই জিনিসটা আজকে হলে সাথে সাথে অদৃশ্য যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে দুই মাল্টিভার্সের ভেতরে এবং সবাই তখন উঠেপড়ে লাগবে পৃথিবী একটার পর একটা ধ্বংস করার জন্য। ডার্ক রানার সেটা চায় না মোটেও। স্বেচ্ছায় সুপার লর্ডের থেকে কিছু সুবিধা ভোগ করতে পারতো সে। কিন্তু, আলভী এসে সেই সিস্টেমে জাস্ট বারুদ ঠেসে দিয়েছে। তখন সে বলে উঠল আমি এটা আমি মেনে নিতে পারছিনা। সুপার, আপনি আমাকে কেনো চ্যালেঞ্জ এর ভেতর ফেলে দিলেন? সুপার লর্ড বললেন, “যাও, আমি যুদ্ধ চাই আমার যুদ্ধ দরকার। তুমি যদি না চাও তোমার জান আমি নিজেই কতল করে নেবো। তখন ডার্ক রানার বললো, “ঠিক আছে। কালকে আমি দৌড় প্রতিযোগিতায় শামিল হচ্ছি।”
পরদিন ভোর বেলায় সবাই উপস্থিত হলো দৌড় প্রতিযোগিতায় এবং আস্তে আস্তে অনেক মানুষ চলে এলো সেই বিখ্যাত দৌড় প্রতিযোগিতা দেখার জন্য। তিনজন দাঁড়াতেই তাদের মধ্যে চোখাচোখি হল এবং আস্তে আস্তে সবাই যখন হা-হু করা শুরু করলো তখনই হঠাৎ করে গুড়ুম করে একটা শব্দ হলো। এরপর শুরু হলো দৌড়ের খেলা। রানার এত জোরে দৌড়ানো শুরু করলো আলভীও তাকে অনুসরণ করতে শুরু করলো একটা সময়। আর ডার্ক রানার একটু পেছনে পড়ে গেলো। হঠাৎ করে এসে স্টেডিয়ামের বাইরে যাওয়ার দরজা ধাম করে খুলে গেলো। আসলে একটা সুইচ টিপে দিয়েছিলেন সেই সুপার লর্ড এবং তারা এই স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে একটা নাম্বার ট্র্যাক ধরে গোটা ঢাকা শহর প্রদক্ষিণ করার চ্যালেঞ্জে শামিল হয়ে গেলো।
একটা সময় তারা ঢাকা শহর পুরোটা প্রদক্ষিণ করলো। কিন্তু তারপরও তাদের কারও স্পিড কম না। আলভী একটু পেছনে পড়ে গেছে এমন সময় হঠাৎ ডার্ক রানার করলো কি একটা পাথর ছুড়ে মারল রানার বরাবর। রানার সেখান থেকে ছিটকে পড়লো। এমন সময় দেখা গেলো আলভী অতি দ্রুত ডাক্তারের পাশে এসে পৌঁছে গেছে। ওদিকে সুপার লর্ড হো হো হা হা করে হেসে যাচ্ছে। হাসতে হাসতে বললো, “আমার চ্যালা, আমার ডার্ক রানারের সাথে কে আছে এরকম চ্যালেঞ্জ দিতে পারবি? কেউ নেই পৃথিবীতে।” এমন সময় সবাইকে অবাক করে দিয়ে আলভী এত দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো যে তিন সেকেন্ড পেছনে পড়ে গেলো ডার্ক রানার। সবাই হাঁ হয়ে গেছে। আরে এ তো অসম্ভব ব্যাপার। ঢাকা শহরে এমন স্পিডস্টার চলে এসেছে যে আমাদের ডার্ক রানারকে হারিয়ে দিচ্ছে। আর শেষ হতে মাত্র তিন সেকেন্ড। ওদিকে আলভী হঠাৎ প্রতি সেকেন্ডে ২৯০০ কিঃ মিঃ ক্রস করে দৌড়োচ্ছে। গুড়ুম করে একটা শব্দ হলো স্পিকারে। তারমানে গুলির শব্দ পড়ে গেছে। জিতে গেল আলভী।
এটিকে রানার খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছে। ওদিকে আলভী জিতে গেছে। তারপর ডার্ক রানার মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো এবং আলভী ওর সামনে গিয়ে তার লুকানো একটা ছুরি দিয়ে ডার্ক রানার এর গলা কেটে দিলো এবং সুপার লর্ডের নিকট হোস্ট অবস্থা থেকে ফারহানকে অব্যাহতি দিতে অনুরোধ করলো। তখন সুপার একটা আংগুল উঁচিয়ে আংটি দিয়ে ফারহানের দিকে ইশারা করে আলভীকে বললেন, “তুমি তোমার ইউনিভার্সে ফেরত গিয়ে সবাইকে জানাবে আমি তোমাদের মাল্টিভার্স ধ্বংস করতে আসছি এবং তোমরা ওখানেই শেষ হয়ে যাবে। যাও।”
সুপার লর্ড ফারহানের শরীর থেকে পরজীবীটিকে ছেড়ে দিলেন। ওই প্রাণীকে যেটা হোস্টের ভেতর ছিলো। আর ওদিকে ডার্ক রানারের নিথর দেহ পড়ে আছে। সুপার লর্ডের চোখে জেদের অশ্রু। সে মনে মনে বললো, “আমি তোদের দেখে নেব খুব শীঘ্রই। যখন আমার সময় আসবে দেখবি তোদের সুন্দর পৃথিবী কিভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।
আলভীকে সবাই সাদর সম্ভাষণ জানালো। তারা ফেরত আসলে পৃথিবীতে সবাই খুব খুশি হয়ে গেলো। ফারহান সুস্থ হয়ে উঠেছে কিছুটা। রানারের খুঁড়িয়ে চলা টা একটু রয়েছে। কিন্তু পৃথিবীতে সুন্দর থাকবে তার গ্যারান্টি কি? সুপার লর্ড আসবে কোন সময়ে এই পৃথিবী কি ধ্বংস করতে? কেউ জানে না। তা জানতে হলে পড়তে হবে আরো অনেক কিছু। আপাতত এটুকুই থাক।
অণুমানব-সৌরবছর
এক.
আমাদের পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অদ্ভুত সব বিষয়। বিজ্ঞানের অসম্ভব সব সম্ভব সাধনে যে মানব জাতির শেষ পর্যন্ত দেখে রাখার অভিপ্রায়, তা আমাদের জন্য হয়েছে কখনো অভিশাপ, কখনো বা আশীর্বাদ। আমি এ কথা বলছি না যে বিজ্ঞানের মাধ্যমে সব অসম্ভব জয় করা যায়। কিছু লৌকিক বিষয় অলৌকিক হয়ে যায়। অবশ্য শিল্প বিপ্লবের পর এমন অসাধ্য সাধন করা সম্ভব হয়নি। ধীরে ধীরে উন্নয়ন করা সম্ভব হয়ে উঠে।
এখন ২০৩৮ সাল। আমরা আছি দেশ স্বাধীন হওয়ার ৬৮ বছরে। স্বাধীন দেশের রাজধানী ঢাকায় অনেক অনেক কিছুর রদ বদল হয়ে গেছে। বিজ্ঞানের উৎকর্ষতাও ছুঁয়ে গেছে এ সময়। আমরা যে বলি অতিমানবীয় ব্যাপার সেটা হলো মানুষের শরীরের ভেতরে জিন পরিবর্তন হয়ে অতিপ্রাকৃত শক্তি চলে আসা। তেমনি এসব শক্তির অধিকারীরা এখন দেশজুড়ে ছেয়ে গেছে। শক্তি বিভিল্ল ধরণের হতে পারে। যেমন নিজস্ব মনন শক্তি ব্যবহার করে কোনো জিনিস ভেঙে ফেলা বা জোড়া লাগানো, ভেল্কিবাজি দেখিয়ে উদয় হওয়া বা হাওয়া হয়ে যাওয়া, হাতের এক ঘুষিতে মাটিতে ফাটল সৃষ্টি করা, পোর্টাল চালু করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যাওয়া, শরীর থেকে এমন কিছু হাতের মাধ্যমে নির্গত করা যেটা আলোকরশ্মির মতন এবং এর ধ্বংস ক্ষমতা অনেক বেশি।
রাজধানী ঢাকাও এর ব্যতিক্রম নয়। এ শহরের কোনো এক কোনায় এমন এক অতিমানব ছিলেন যিনি দেশ ও দশের জন্য দিয়ে গেছেন অসংখ্য নিবেদন। তার উৎসর্গের উচ্চতা ছাড়িয়ে গিয়েছিলো অন্যান্য অতিমানবদের। আজ সেই মানুষটির গল্প বলবো আমি যা আপনাদের কল্পনার জগতে নিয়ে যাবে, যদি মনে করেন কেমন হবে সেটা?
আঠারো বছর পেরিয়ে ঊনিশে পা দিয়েছে তিহান। পরিবার বলতে মা আর শিরি খালা। দুজনেই তারা সমবয়সী। শিরি খালাকে তিহানের মা এনেছে তার নানাভাইয়ের গ্রামের বাড়ি থেকে। সে যাকগে, আসল কথায় আসি। তিহান রোজকার মতো দাঁত ব্রাশ করতে গেছে সকালে। ওয়াশরুমে ঢুকেই কিছুক্ষণ পর চিৎকার।
তিহানের মা এসে দেখেন তিহানের চারপাশে যতো যা কিছু আছে সব শূন্যে উঠে গেছে। মার দিকে তাকিয়ে সে বলে উঠলো, "মা এসব কি?"
স্থির দৃষ্টিতে বললো তিহানের মা, "তোমার মা বাবা অতিমানব। বুঝতে হবে তুমিও অতিমানবদের একজন, তিহান। ভয় পেলে চলবেনা।"
ওইটুকু শুনেই তিহান বুঝে ফেলেছিলো তিহান কি অপরীসীম শক্তির অধিকারী হয়েছে সে। অবশ্য তার মা এ সম্পর্কে আগেই বলেছিলো। বলেছিলো সে এমন বাবার সন্তান যে বাবার ভয় বলতেই কিছু ছিলো না। ছিলো শুধু সাহস যে সাহস পথ দেখিয়েছে অনেক অনেক দূরে যাওয়ার।
তিহান স্কুল শেষ করে কলেজে ওঠার সময়ই কিছু অনুভব করেছিলো নিজের ভেতর। একদিন ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার সময় সে দেখতে পেল দুদিক থেকে দুটি গাড়ি সংঘর্ষে চলে যাচ্ছে। তখন সে খুব আস্তে করে তার আঙ্গুলের ইশারায় দুই হাতে যেন সরিয়ে দিলো গাড়িগুলোকে। দুটিকে গাড়ি নির্দিষ্ট দূরত্বে গিয়ে তার ম্যাটার ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে থামিয়ে দিলো। সেই কাজের পরে সে বুঝতে পারলো যে সে অসীম শক্তির অধিকারী হয়েছে।
কলেজে ওঠার পর মনে হয়েছিলো নিজের পৃথিবীটা সুন্দর। আর সুন্দর থাকবে না কেনো? তারুণ্যের চাকচিক্য ঝলমলে রোদ্দুরে নিয়ে যাচ্ছে স্বপ্নসাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে বহু বহুদুর। কিন্তু না, সেটা তো সুন্দর নয় বরং তার জন্য আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলো একসময়। ও একদিন ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার সময় দেখতে পেলো দুদিক থেকে দুটি গাড়ি সংঘর্ষ চলে যাচ্ছে। তখন সে খুব আস্তে করে তার আঙ্গুলের ইশারায় দুই হাতে যেন সরিয়ে দিলো গাড়িগুলোকে। গাড়িগুলো নির্দিষ্ট দূরত্বে গিয়ে থামলো। সে তার শরীরে ম্যানুয়ালি পাওয়ার আছে বা পাওয়ার সিস্টেম আছে সেটার মাধ্যমে থামিয়ে দিলো। সেই কাজের পরে সে বুঝতে পারলো যে সে কতো বড়ো শক্তির অধিকারী হয়েছে।
একদিন কলেজে ঢুকে নিজের লকারের চাবি ধরতে গিয়ে ধাম করে একটা হাত বাড়ি মারলো তার লকের উপর। কাজটা তার ক্লাসমেট রবিনের।
"রবিন তোর সমস্যা কি? তুই আমার লকারের উপরে কেন বাড়ি মারছিস? আমি আমার লকার ইউজ করবো। চাবি আমার হাতে। তুই আমার লকারের উপর বাড়ি মারার কোন অধিকার রাখিস?"
তখন রবিন সাথে সাথে তার হাত থেকে চাবিটা ছিনিয়ে নিয়ে বললো, "বেশি বাড়াবাড়ি করবিনা কলেজে। ক্লাস করতে এসেছিস ক্লাস কর।'
তখন তিহান বললো, দেখ ক্লাস করতে এসেছি বলেই আমি আমার লকার থেকে আমার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু তুই বাধা দিচ্ছিস কেনো?"
রবিন বললো, "তুই যে সাগুফতার পেছনে লেগেছিস সেটা কি আমাকে সবার কাছে ভেঙ্গে বলতে হবে? সাগুফতাকে আমি ভালোবাসি।"
তখন তিহান বললো যে, "আমি সাগুফতাকে ভালোবাসিনা সাগুফতা আর আমার মধ্যে একটা ভালো আন্ডারস্ট্যান্ডিং আছে। এটা যেকোন ফ্রেন্ড এর মধ্যেই থাকে। কিন্তু তুই জিনিসটাকে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছিস এখন।"
রবিন বললো, "বেশি বাড়াবাড়ি করছিস তুই। তুই সরে যা না হলে তোর খবর আছে এবং কলেজ এর ক্লাস শেষ হবার পর আমার সাথে দেখা করবি। তোকে তো আর বুঝিয়ে বলতে হবে না যে আমি কি করবো তখন।"
এমন সময় মাইকের চিঁই ইই ই করে আওয়াজ হলো। সবাইকে বলা হলো যাওয়ার জন্য স্কুলের মাঠে। সবাই আমিন স্কুল এন্ড কলেজের মাঠে দাঁড়ালো। এরপর একজন টিচার আসলেন। তিনি সবাইকে মাইকে ঘোষনা দিলেন, 'আমাদের সামনে অনুষ্ঠিতব্য পিকনিক নিয়ে আমাদের প্রিন্সিপাল কথা বলতে চাচ্ছেন। সে কথা শুনে সবাই বেশ খুশি হয়ে উঠলো যেনো। কারণ, শীতকাল পেরিয়ে যাওয়ার আগেই পিকনিকটা সেরে ফেলা দরকার। আর তাই সবার মনের চঞ্চলতা অনুভব হচ্ছে এবং সবার ভিতর অস্থিরতা ও কাজ করছে বেশ। এটা নিয়ে সবাই বেশ উৎফুল্ল হয়ে উঠেছে।
প্রিন্সিপাল এলেন এবং সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন 'আমি তোমাদেরকে আগামী বুধবার বিকেলে খুব তাড়াতাড়ি ছুটি দেবো। তোমাদের যা কিছু জিনিসপত্র আছে সবকিছু নিয়ে তৈরি হয়ে বৃহস্পতিবার সকাল বেলায় এসে এখানে জড়ো হবে এবং এসেম্বলিতে দাঁড়াবে। আমি যখন ঘোষণা করবো আস্তে আস্তে সবাই বাসে উঠবে। আমার ফাইনাল কথা হচ্ছে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা করা যাবে না এবং কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটানো যাবে না যার কারণে আমাদেরকে সবাইকে বিব্রত হতে হয়।'
অবশেষে সেই দিন ঘনিয়ে এলো এবং সবাই মিলে তৈরি হয়ে নিয়েছে। সকাল সকাল চলে এলো স্কুলের মাঠে এবং জড়ো হয়ে একত্রে দাঁড়িয়ে গেল সারি সারি লাইন বদ্ধ হয়ে। এরপর প্রিন্সিপল এলেন তিনি সবাইকে বললেন, 'সবাই লাইনে দাঁড়াও ক্লাস অনুযায়ী। সবাই থাকবে এবং আমাদের কথা মতো থাকবে সেখানে যতক্ষণ পর্যন্ত বাস ছাড়বেনা। কোনো ধরনের হট্টগোল এবং বিশৃঙ্খলা যাতে দেখা না যায়। আমি যা যা বলবো সেভাবেই এগিয়ে যেতে হবে তোমাদের। পিকনিক এনজয় করো। ভালো থেকো।'
বান্দরবান পৌঁছাতে প্রায় সাড়ে ৬ ঘন্টা লেগে গেলো। এই জায়গায় যেতে অবশ্য এটার চেয়ে অনেক কম সময় লাগে যদি চট্টগ্রামে থাকা হয়। আবার, এর চেয়েও বেশি সময় লাগে চট্টগ্রামের বাইরে থেকে আসলে। এইসব রাস্তার নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দেখতে দেখতে সাতকানিয়ার কেরানিহাট পার হয়ে, বাজালিয়া পার হয়ে আস্তে আস্তে বাস উপরের দিকে উঠতে লাগলো। সারিসারি পাহাড় দেখতে বেশ লাগছে চারপাশে উপজাতিদের বাড়ি দেখা যাচ্ছে। পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে ছবির মতো সুন্দর বান্দরবানে প্রবেশ করল। চারিদিকে শুধু আনারসের ক্ষেত দেখা যাচ্ছে। সাথে জুম চাষের বিভিন্ন জমিও দেখা যাচ্ছে। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচের দিকে এক পাহাড়ের নীচে আরেক পাহাড়। এতো সুন্দর ছবি হয়। সমস্ত প্রাণ প্রকৃতি যেন তাদের জন্য রেখে দিয়েছে এই বান্দরবান। বান্দরবানের রুটগুলো বিভিন্ন জায়গায় চলে যাচ্ছে। কখনও কখনও দেখা যায় পাহাড়ের ঢাল শক্ত পাথরের ভিতর আটকে আছে। কোথাও পাথুরে রাস্তা আবার কোথাও বালির পাহাড়। আরেকটা কথা বলা যায়, মাটির পাহাড়ে পাহাড়ে আটকে থাকা সেই খাঁজগুলো একটার সাথে আরেকটার মেলবন্ধন তৈরি করেছে অপরূপ দৃশ্য। অনেক সুন্দর এক জায়গা। যেখানে চেয়ে থাকার জন্য হাতছানি দিয়ে ডাকতে লাগলো যেনো সবাইকে। এখানে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য চাকমা, মারমা, গারো এবং মং এবং আরো অনেক প্রজাতি আছে এবং এই প্রজাতির উপজাতিদের সাথে বাংলাদেশের মানুষের ভালবাসার একটা অটুট সৌন্দর্য। যেনো পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আছে বিস্ময়ের সাথে এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ভ্রমণপিপাসুদের দেখা যায় এই বান্দরবানে। সুতরাং বান্দরবানকে দেখার আগ্রহ ও উপভোগ না করার কোন উপায় থাকেনা এবং বান্দরবানের প্রতি মানুষের আকর্ষণ এবং পাহাড়ি মানুষের প্রতি টান অনুভব করা হয়। তাইতো বছর ফি অনেক বেশি মানুষ বান্দরবনে বেশি আসে শুধুমাত্র পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে পাওয়া যায় বলে এবং অনেকের সেটা ভাগ্যে লেগেও যায়।
বান্দরবানের হোটেলে ঢুকতে বেশ সময় লেগে গেলো। একটা সময় দেখা গেল তারা যার যার রুম খুঁজে পেয়েছে এবং সেখানে তারা পৌঁছে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলো। দুপুরের পর সবাইকে নিয়ে বের হলো স্কুলে বাসগুলো। যার যার বাস ক্লাস অনুযায়ী সারিবদ্ধ ভাবে সামনের দিকে যেতে লাগলো। একটা সময়ে নীলাচলে এসে পৌছালো বাস গুলি। আস্তে আস্তে ভেতরে ঢুকলো। বাকি বন্ধুদের সাথে স্বাগুফতা ও রয়েছে সেখানে। রবিনকে দেখে মনে হচ্ছে এখনই মেরে দেবে তিহানকে। একটা সময় সে একা পেয়ে সুযোগ বুঝে কথা বলতে গেলো।
তখন তিহান বললো, 'তুই কি আমার সাথে এখন বোঝাপড়া করতে আসছিস? আমিতো বোঝাপড়া করার মত মন মানসিকতায় নেই।'
তখন রবিন বললো, 'আমি তোর সাথে বোঝাপড়া করতে আসিনি। এখানে ঘুরতে এসেছি। তাই তোর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। ওখানে দাঁড়িয়েছি সুন্দর একটা ফুলের গাছ আছে।'
তখন তিহান বললো, 'আমার সাথে যা করার করবি স্কুলের পিকনিকের পর। স্কুলে করিস। এখানে নয়। কথা বলতে বলতে হঠাৎ খেয়াল করলো রবিন চিৎকার করে উঠলো। তখন রবিনপা পিছলে পড়ে যাচ্ছে। পাহাড়ের প্রান্ত থেকে হঠাৎ করে সে একটা গাছের কান্ড ধরে ফেললো এবং সেটা দেখে তিহান হাত বাড়িয়ে অনেক কষ্টে রবিনকে টেনে তোলার চেষ্টা করছে। কিন্তু তার হাতটুকু পারছে না এবং অবশেষে তার সমস্ত শক্তি খরচ করে রবিনকে তুলে আনলো। তখন তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললো, 'আমি তো এখানে মাঝখানে আসতে চাইনি। এখন থেকে আর আসবো না। স্বাগুফতা তোর আজীবনই থাক। আমি আর মাঝখানে নেই।
দুই.
খুব ধুমধাম করে পিকনিক শেষ হলো। এরপর তিহানের বাসায় সপ্তাহখানেক কেটে গেলো। একদিন হুট করে কি জানি কি মনে পড়লো, নিজের বাবা সম্পর্কে জানতে ইচ্ছে হলো। গত ঊনিশ বছরে তার নিজের বাবা সম্পর্কে খুবই কম জেনেছে। নিজের শক্তি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়ার পর সে তার মায়ের কাছে জিজ্ঞেস করলো যে বাবার আসলে শক্তিধর কেমন ছিল এবং বাবা কিভাবে সেই জিনিসগুলো করতো। তার মা নীহারিকা তাকে সব খুলে বললো কিভাবে তাদের মধ্যে পরিচয়, তারপরে বিয়ে-প্রেম হয়েছে। এরপর একটা সময় সে জানতে পারলো সে বিষয়ে বিস্তারিত। তার মা নীহারিকাও অনুমানব তনয় একসাথে "সোর্স অফ আর্থ'স লাইফ" এই জিনিসটা সুন্দরবনে লুকিয়ে রাখতে গিয়েছিলো। সেখান থেকে এসে দেখে দামাহান নামে এক বাইরের গ্রহের লোক পৃথিবীতে আক্রমণ শুরু করেছে। এটার বিরুদ্ধে অনুমানব নীহারিকা তৈরি ছিলো অনেক আগে থেকেই এবং তার সাথে মারামারি করতে গিয়ে তার বাবা মারা যায়।
তখন নীহারিকাকে তিহান বললো যে, 'মা আমি কিভাবে বাবার বন্ধুদেরকে পেতে পারি?'
তখন তার মা একটি স্মার্ট ঘড়ির মতো কিছু এনে দিলেন তিহানেরর কাছে। তিহান দেখে বললো, 'মা আমি এদেরকে কিভাবে খুঁজে পাবো? ওরা কি আগের জায়গাতেই আছে?'
তখন নীহারিকা বললো, 'হ্যাঁ তুমি ওদেরকে আগের জায়গাতেই পাবে।'
এদিকে তিহান ঘড়ি দেখে বললো তার মাকে, 'আচ্ছা মা একটা কথা। আমি যে বাবা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি তুমি আমাকে এখনো বাবার অনেকগুলো শক্তি সম্পর্কে জানাও নি। সেগুলো কিরকম? সেগুলো আমার জানতে খুব ইচ্ছে করছে কারণ আমি যেহেতু তার বংশে জন্মগ্রহণ করেছি তাই তো তার কিছু না কিছু শক্তি তো আমার কাছে আসার কথা।
তাই তাকে আমার কাছে আছে সেটাও আমার জানা দরকার। তার মা তখন তাকে বললো যে, একজন সুপার হিরো হিসেবে তোর বাবার ক্ষমতা ছিলো অনেক প্রাইম লেভেলের তোর বাবার কাছে যে ধরনের সুপার পাওয়ার ছিল সেই ধরনের সুপারপাওয়ার অন্যদের মধ্যে ছিল না। হয়তো একজনের কাছে এটাতো আরেকজনের কাছে আরেকটা। তোমার বাবার সাথে আমার বিয়ের আগে থেকেই সম্পর্ক ছিলো। আমাদের দুজনের মাঝে সৌরঝড়ের কারণে সৃষ্ট পাওয়ারের কারণে অনেক রকম সুফল পেয়েছিলাম। তোমার বাবার কাছে ছিলো যেটা, সেটা সম্বন্ধে আমি এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি জানিনা। তবে তোমাকে কিছু ধারনা দিতে পারে মিশু। নীহারিকা, মানে তিহানের মা বলে চলেছে, 'তোমার বাবার কাছে যে কোন বস্তু বা জিনিসের বিভাজন করার শক্তি ছিলো। আবার এমন কিছু জিনিস আছে- বিশাল ভারী। সেগুলো হাতের ইশারায় আকাশে তোলার মতো ক্ষমতা ছিলো। তার ওপর তো সৌরঝড় থেকে পাওয়া নিজস্ব শক্তি থেকে একটা এনার্জি ব্লিংক বের করতে পারতো যেটা দিয়ে যেকোনো কিছু ধ্বংস করা সম্ভব ছিলো। তোমার বাবা চাইলে যেকোনো জায়গায় মধ্যাকর্ষণ শক্তি বন্ধ করে দিত এতে প্রতিপক্ষ সেখানেই ঘায়েল হয়ে যেতো। এছাড়া তোমার বাবা আরো অনেক কিছু করতে পারতো। যেমন, হাতের চুটকিতে যেকোনো জিনিস বা বস্তু ধ্বংস করে ফেলতো। মধ্যাকর্ষন শক্তি ব্যবহার করে উড়ে যেতে পারতো। আরও অন্যান্য বিষয় ছিল যেগুলো আমি এখন মনে করতে পারছিনা।'
এরপর তিহান বললো, 'যাক একটা অন্তত আইডিয়া করা যাচ্ছে যে আমি কিভাবে কি ধরনের বিষয় নিয়ে কাজ করতে পারবো। এখন আমার মনে হচ্ছে আমি নিজে নিজে কিছু জিনিস প্র্যাকটিস করতে পারব।'
নীহারিকা চমকে গিয়ে বললো, 'কি বললে?'
তখন তিহান ভ্রুঁক্ষেপ না করে বলছে, 'বাবা কিন্তু সত্যিই আমাকে নতুন জীবন দিয়েছে এবং আমার মনে হয় আস্তে আস্তে এগুলো প্র্যাক্টিস করা উচিত। কলেজ থেকে ফিরে এসে আমি ছাদে প্র্যাকটিস করবো। যদি এ গুলো দেখি কাজে লাগছে তাহলে আমার হয়তো আস্তে আস্তে রাষ্ট্রীয় কাজে নিজেকে জড়িত করা উচিত।'
তখন নীহারিকা কেমন যেন ভয় পেয়ে গেলো। স্বামীর ক্ষেত্রে যা ঘটেছে নিজের ছেলেকে তা ঘটছে সেটা কল্পনা করতে পারছে না। তখন সে চিৎকার করে উঠলো, 'ক্ষমতা আছে তাই বলে এসব করবি না। তোর এসব করার বয়স এখনো হয়নি।'
তখন তিহান বলল যে, 'মা আমি এখন বাইরে কোনো কাজ করব না আমি কথা দিচ্ছি। কিন্তু প্র্যাকটিস তো করা উচিত আস্তে আস্তে। কারণ আমার সামনে হয়তো বিপদ আপদ আসতে পারে তখন নিজেকে প্রটেক্ট করার জন্য হলেও তো এসব কাজ করতে হবে।'
তখন নীহারিকা বললো, 'ঠিক আছে করতে পারবে। কিন্তু এই জিনিসগুলো নিয়ে অন্যখান থেকে কোনো ধরণের কল যেনো না আসে সেই ব্যবস্থা করবে।'
তখন তিহান বললো, 'ঠিক আছে।'
এরপর তিহান ডায়েরী টা ঘেঁটে ঘেঁটে দেখতে পেলো কি কি আছে এবং কি কি করা যায়। প্রথমে সে একটা মানুষের ছবি দেখে মাথায় হুডি। পরিষ্কার কোন মুখ নেই। তবে চোখের উপর একটা মুখোশ আছে সেটা দেখে সে বুঝতে পারলো এটা একটা ভিজিল্যান্টি। নিজের চেহারাকে হাইড করার চেষ্টা করছে। নাম লেখা আছে মিশু ওরফে রাতে প্রহরী। এর একটু নিচে আরেকজনের ছবি দেখা যাচ্ছে। তার ছেলে, কারণ নাম লেখা আছে নিশু। নিশু নামটা দেখে বেশ পরিচিত মনে হলো তার কাছে। এই ছেলেটাকে কোথাও যেন দেখেছে সে। হ্যাঁ কিছুদিন আগে একটা নিউজ পড়ে ছিলো। ওখানে নিশুর এই ছবিটা দেওয়া আছে। নিশু বয়স ১৯ এর মধ্যে। চেহারা ও আকৃতিগত মুখের কোন অমিল নেই। একদম বরাবর প্রায়। নিশুকে মিশু হিসেবে চালিয়ে দেওয়া যায় চেহারায়। যেমন বাপ ছেলে দুজনকে এক রকম লাগে, এরচেয়ে বড় মোদ্দা কথা হলো মিশুর অনেক কিছু উত্তরাধিকার সূত্রে নিশু নিয়েছে এবং নিশুর কস্টিউম অনেকটা তার বাবা মিশুর মতোই এবং মিশুর কিছু স্পেশাল গ্যাজেটস দেখা যাচ্ছে। নিশুর একটা ফুল ছবি দেখা যাচ্ছে। হাতে গ্লাভসের মতো একটা জিনিস হাতে পড়েছে। এটা সম্ভবত সে তার নানার কাছ থেকে পেয়েছে এবং তার নানার পদ্ধতি অনুযায়ী বরাবর সেটা মডিফিকেশন করে নিয়েছে। গ্লাভস টাতে কসমিক লেবেল পাওয়ার প্রজেক্টর ফিট করে তার হাতের কব্জিতে লাগানো আছে। যদি কখনো সে সেটা পুরোপুরি পূর্ণ ভাবে ব্যবহার করতে চায় তখন সেটা একটা নির্দিষ্ট কমান্ড কন্ট্রোল এর মধ্যমেই করতে পারে। যার মাধ্যমে যেকোনো ধরনের ধ্বংস প্রবন ক্ষমতা তার শরীরে রাখতে পারে এবং এর মাধ্যমে যেকোনো সময় যেকোনো কিছুকে সে ধ্বংস করে ফেলতে পারে। এই জন্যই তাকে এই সময়ের মধ্যে সবচাইতে বড় ভিজিল্যান্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে বাংলাদেশের অতিমানবেরা আউটফিট লেভেলে।
এরপর সে দেখলো আরও কয়েকজনের নাম। এর মধ্যে আছে গ্র্যাভিটি মাস্টার ইব্রাহিম, মেজ মাস্টার, কপি মাস্টার, নার্ভ মাস্টার, তার পর আসলো ধ্বংসা আইরিন, ডেস্ট্রয়ার ব্রাদার্স, বলারস ভাইবোন তারপরে আসলো তীরন্দাজ সাব্বির। এর পরে সে অনেক জনের নাম একসাথে দেখতে পেল। একটা গ্রুপের ভেতরে এর নাম হলো 'এজেন্টস অব ডি।'
সবার শেষে দুজনের নাম খুব এসপেশালি দেওয়া আছে। এদের মধ্যে প্রথমজন হলো রানার ওরফে ইরফান। সে বুঝতে পেরেছে যে রানর স্পীডস্টার। তার নিচে একটু নিচে দেখা গেলো আরেকজনকে। এ নিশ্চয়ই গতিবালক। এর নাম হচ্ছে ফারহান। দুজনের চেহারায় মিল আছে। তার মানে এরা দুজন হচ্ছে বাপ-ছেলে। আস্তে আস্তে তিহান সবকিছু সেট করে নিলো। সে প্রথমে গতিবালককে খুঁজে নেবে। কারণ অতি হালকা সম্পর্ক দিয়ে তারপর কাছাকাছি তারা বন্ধু হতে পারে ভালোভাবে। নিশ্চই তারা একজন ভালো বন্ধু হতে পারে। এর বয়সও কাছাকাছি। মোটামুটি নিজের একটা সেট করে নিলো তিহান। যাতে তারা ভালোভাবে কিছু কাজ প্র্যাকটিস করতে পারে। তারপরে নিশ্চিন্ত হয়ে এসে বিছানায় এলিয়ে দিল গা ঘুমিয়ে পড়ল সেই রাতে।
তিন.
পরদিন সকাল সকাল বেরিয়ে পড়লো তিহান। আজ কলেজ ছুটি তাই এতো তাড়া নেই কোন কিছুর জন্য। তাই সে প্রথমে গেলো গতিবালককে খুঁজে বের করতে। একটা বেশ বড় বাড়ি ধানমন্ডিতে। সেখানে কলিং বেল টিপতেই বেরিয়ে এলো একজন। সে নিশ্চিত কেয়ারটেকার।
তখন বলল তিহান যে, 'এই ছবির লোকটি কি আপনাদের এখানে থাকে?'
কেয়ারটেকার এর মতো লোকটা খুব চমকে উঠল বললো, 'আপনি এনাকে চিনেন কেমনে?'
তখন লোকটির দিকে তাকিয়ে তিহান হেসে বললো, 'আমি আসলে অনুমানবের ছেলে অনুবালক।
তখন লোকটা আরো চমকে উঠল বললো, ' দাঁড়ান দাঁড়ান! আমি এখনই যাইতাছি। গিয়া স্যারের পোলারে কমু। নিশ্চয়ই আপনারে চিনতে পারবো। তখন কিছুক্ষণ ওয়েট করল তিহান এবং ফারহান মানে গতিবালক প্রায় ৫ মিনিট পর বেরিয়ে এলো।
ফারহানকে দেখে সে বললো, 'তুমি ফারহান?'
তখন ফারহান বললো, 'হ্যাঁ। আমি ফারহান।' তিহান নিজের পরিচয় দিলো। ফারহান বেশ অবাক হয়ে গেলো। সে তাড়াতাড়ি করে তিহান কে নিয়ে ভেতরে ঢুকলো।
তারপর সোজা চলে গেলো তার বাবার রুমের দিকে। বিশাল রুম। তার বাবা দাঁড়িয়ে কার সাথে যেনো ফোনে কথা বলছে। এমন সময়ে তিহান কে দেখে ইরফান এর হাত থেকে মোবাইলটা পড়ে গেলো। ইরফান মানে আমাদের গতিমানব-'রানার' দৌড়ে এল তিহানের কাছে। তিহানকে দেখে বেশ চমকে উঠলো।
সে বললো, 'তুমি কে? তোমার চেহারা তো বাবা চেনা চেনা লাগছে। তুমি তোমার চেহারা যে আরেকজনের চেহারার সাথে মিলে যাচ্ছে। সে ছিলো আমাদের বন্ধু। তখন তার পরিচয় দিলো তিহানের পরিচয় শুনে তখন রানার বললো, 'আমি তোমার বাবার একজন বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলাম। আমরা একসাথে কাজ করতাম। কত অপারেশনে গিয়েছি। আর তুমি সেখানে এতদিন পরে আসলে? তোমার মা আমাদেরকে তোমার বাবা মারা যাওয়ার পর আলাদা করে দিয়েছিলেন। নিয়ে গিয়েছিলেন তোমাকে। তাই তোমার সাথে আর দেখা হয়নি আমাদের। তার উপর তোমার মা তোমার উপর অধিকার রাখেন। তাই আমরা কিছু বলার অধিকার রাখি না। সেজন্য এত দিন দেখা হয়নি। এরপর ইরফান তিহান কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো। এটা দেখে ইমোশনাল হয়ে গিয়েছে গতিবালক ফারহান। ও চোখের পানি মুছে দরজার দিকে এমন সময় দেখলো সেখান দিয়ে তার মা নদী অর্থাৎ প্রবাহিণী যাচ্ছে। প্রবাহিণী হচ্ছে সেই 'রানার' ইরফানের স্ত্রী অর্থাৎ ফারহানের মা। ইরফানের আর তিহানের এই দৃশ্য দেখে তিনি প্রথমে থমকে দাঁড়ালেন। তারপর কাছে এসে দেখলেন। এর চেহারা অনেকটা অনুমানবের সাথে মিল আছে। তিনি এবার তিহানকে কোনো কথা না বলে জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন।
তিহান ও সে গতিবালক এরফানের বেশ সখ্যতা হয়ে গেলো। সেদিন দুপুরে তারা চারজন মিলে লাঞ্চ করলো। লাঞ্চ শেষে তারা চারজন মিলে একটি সোফায় গা এলিয়ে বসলো এবং হঠাৎ করে তিহান বললো, 'আচ্ছা মিশু আংকেলের এর সাথে কিভাবে দেখা করতে পারি? '
তখন রানার ইরফান বললো, 'ওরে বাবারে! তুমি কি মেয়র মিশুর কথা বলছো?'
'জ্বি, আমি রাতের প্রহরী মিশুর কথা বলছি।'
তখন রানার বললো, 'আমি তোমাকে উনার কাছে নিয়ে যেতে পারি। উনি আমার বেশ ভালো একজন বন্ধু। চলো আমরা ওনার কাছে যাই।
সেদিন সবাই মিলে বিকেলের আগেই চলে গেল মিশুর ওখানে, মানে মেয়র এর চেম্বার এ। মিশুর চেম্বারে এসে তারা সবাই মিশুর সাথে দেখা করলো।
মিশুর সাথে পরিচয় হলো। এত বছরের জীবনে কখনো কোনদিন একদম ইমোশনাল হয়নি মিশু। সে ইস্পাত কঠিন মানুশ্যহ। কিন্তু আজ সে তিহানকে দেখে ইমোশনাল হয়ে গিয়েছে। একেবারে অণুমানবের যেনো পুরোই রেপ্লিকা। মিশু তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো।
সবাই মিলে বসল মিশুর চেম্বারে। তখন মিশু একটা কল দিলো তার ছেলেকে। তার ছেলে যখন এলো তখন মিশু এবং ইরফান মিলে বেশ উৎফুল্ল হয়ে উঠলো। সেখানে তিন তরুণ উদ্যমী ছেলে যেন একসাথে হয়েছে। নিশু হেসে হেসে হাত বাড়িয়ে দিলো নিশুর দিকে। বেশ শক্ত হাত। সে যখন দিহানের হাত ধরল তখন তিহান অনুভবগুলো নিশুর শরীরটা গড়াপেটা করেছে অনেক কসরত করে মিশুর ছেলে নিশু আসলে অনেক শক্তি রাখে তার শরীরে।
'হ্যালো নিশু কি অবস্থা? কেমন আছো?' তোমাকে দেখে খুশি হলাম'। বলল তিহান।
তখন বললো নিশু, 'হ্যাঁ আমিও বেশ ভালো আছি। খুশি হলাম। আমার এক আংকেলের ছেলে তুমি, এটা জানতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। আমরা বন্ধু হতে পারি কি বলো?'
তখন মিশু এবং রানার ইরফান ও প্রবাহিণী বেশ হাসাহাসি করলো। তিহান একটু লজ্জা পেয়েছে। কারণ সে আগে কখনো এভাবে বন্ধুত্ব করেনি কারো সাথে। এরপর তারা আস্তে আস্তে দারুণ একটা সময় পার করলো। কথা বলতে বলতে রাত গভীর হয়ে এলো। তখন তিহান বললো, 'আমাকে যে উঠতে হবে। আমার এখন যাবার সময় হয়েছে। বাসায় যেতে রাত বেশি হওয়া উচিত নয়। তাছাড়া আমি কখনো তেমন বের হই না। তখনি মিশু একটু হেসে উঠল বললো, 'ও আচ্ছা।'
তখন গতিবালক ফারহান বললো, 'আসলে নিশু কিন্তু রাতের বেলা অভিযানে নামে। অনেকজন ওর হাতে মার খেয়েছে। তারা খুব নাকাল হয়ে যায়।'
তখন সবাই হো হো করে হাসা শুরু করলো। নিশু বললো, 'থাক থাক। ওর দেরি হয়ে যাচ্ছে।'
তারা আস্তে আস্তে মিশুর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলো। যাওয়ার সময় নিশু ও গতি বালককে তিহান একটা কথা বললো, 'আচ্ছা আমরা একটা কিছু শুরু করতে পারি। নতুন করে কি বলো? তখন নিশু বললো তরুণ সংঘ নামে কিছুএকটা ছিলো। সেটা এখনো পর্যন্ত কার্যকরী হয়নি। যারা ছিলো তারা সবাই আস্তে আস্তে রিটায়ার হয়ে গেছে। বয়স হয়েছে তাদের। আমরা শুরু করতে পারি কি বলো। তখন একজন আরেকজনের দিকে চোখাচোখি হলো।
তিহান তখন বললো, 'আমি রাজি।'
তারপর গতিবালক বললো, 'আমিও রাজি।' এরপর নিশু হাত লাগালো। তিন জনের হাত একত্র করে বললো, 'আমরা সবাই রাজি।'
চার.
পরদিন অনুবালক গতিবালককে ও তিহানকে ডেকে বললো, 'চলো আমরা কিছুক্ষণ আড্ডা মারি।' আড্ডা দেয়ার জন্য একটা ভালো জায়গা তারা খুঁজতে চাচ্ছিলো এবং পেয়ে গেল সেটা। সেটা হল দিয়াবাড়িতে। ঘন কাশফুলের সারি এবং সেখানে যেতে হলে অবশ্যই ভালো একটা মাধ্যমে তো যেতে হবে। তাই তারা খুব ভালো ভাবে তিনজন মিলে গেলো সেখানে এবং সেখানে পৌঁছে যেতে প্রায় দুই ঘন্টার উপরে লাগলো। মিরপুর থেকে সেখানে যেতে আসলে সময় লাগে। অনেক লম্বা পথ তাই তারা আস্তে ধীরে সেখানে গেলো এবং দেখলো সেখানে অনেক অনেক কাশফুলের সারি। ঘাস, কাশ ফুলের সারির এক মনোরম দৃশ্য সেখানে। তারা বসে রইলো একটা সময় তারা আলাপ-আলোচনা শুরু করলো। বিভিন্ন রকম অপরাধ নিয়ে আলোচনা এক ফাঁকে এক সময় গতি বালক বললো বেশ বড় ধরনের একটা ব্রিফিং। সেটা হচ্ছে যে অপরাধের বিভিন্ন মাত্রা আছে। সেগুলো বুঝতে হলে আসলে অনেক কিছু জানতে হয় যেমন কেউ কেউ আছে ব্যাংক রাবারি করে। টেকনো প্রোটোটাইপ চুরি করে। এই করে সেই করে। কেউ কেউ আছে টেকনোলজিকাল ব্লু প্রিন্ট ছিনতাই করে রাহাজানি সৃষ্টি করে। এধরনের কাজ গুলো করার জন্য আসলে সংঘবদ্ধ চক্র থাকে। যদিও সবচেয়ে বেশি এই তথ্যগুলো ইন্টারেস্টিং লাগলো আমাদের অনুবালকের কাছে। তারপরও সে বলল যে, 'একটা বিষয় আছে কি এসবের বাইরে কিন্তু অনেক বড় বড় কাজ হয়ে থাকে। যেমন কেউ কেউ রাষ্ট্রীয়ভাবে হুমকি দেয় কোন একটা দেশকে দখল করার জন্য।'
তখন হঠাৎ করে নিশু বলে উঠলো, ' আরও একটা ব্যাপার আছে কি কেউ কেউ আছে বিভিন্ন ধরনের গবেষণাগারের বিষয়পত্র কিন্তু চুরি করে থাকে। এগুলো কিন্তু ধরে ফেলতে হয় কারণ আমাদের এখন যে পার্সপেক্টিভ, গারডিয়ান অব ফ্যাক্ট মানে আমাদেরকে যে সুপারহিরো বলবে সেটাও একটা ব্যাপার আছে। সুপারহিরো হওয়ার পাশাপাশি কিন্তু একটা বড় রিক্স থাকে। সেটা হচ্ছে যারা চুরি করে সব জিনিসপত্র সুপারহিরো রিলেটেড যেমন টাইম মেশিন, বিভিন্ন ধরনের বায়োলজিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট করে নিজেকে পরিণত করা এরকম সুপার হিরো কন্ডিশনে। সুপার হিরো হওয়া যাবে ঠিক আছে। কিন্তু সেটা মিস ইউজ করলে!?
তখন তিহান বললো, 'আসলে কথাটা কিন্তু সত্যি। এ ধরনের রিসার্চ ল্যাব থেকে প্রায় চুরির ঘটনা শুনি এগুলো কি তোমরাই প্রথমে তদন্ত করতে? তখন গতি বালক বললো, 'না আমরাই করতাম না। তবে মিশু ও তার বাবা মিলে করতো এই সমস্ত অপরাধ দমন করার জন্য। এসবের জন্য কিন্তু সেরকম শক্তিমান লোক লাগে কিন্তু শক্তিমান হলে হয়না। বুদ্ধি এবং চতুরতা ও সেখানে কিন্তু বড় ধরনের কাজ করে।'
এটা শুনে তিহান বললো, 'আচ্ছা ব্যাপারটা আমি এখন বুঝতে পারছি, যে এই সমস্ত বিষয় গুলো সামলাতে হলে বা হ্যান্ডেল করতে হলে অনেক বড় মাপের একটা সেট আপ লাগবে।'
তখনই নিশু হেসে বললো, 'বড় মাপের ব্রেইন লাগেনা তোমার যদি সুপারহিরো শক্তি থাকে বা সুপারহিরো পাওয়ার থাকে তাহলে তুমি সেটা দিয়ে কিন্তু তাদেরকে ঘায়েল করতে পারবে।'
সব কথা বলতে বলতে একটা সময় দুপুর গড়িয়ে এলো। হঠাৎ একটা টাইম ট্রাভেল ভর্টেক্স ক্রিয়েট হলো। এটা দেখে বেশ অবাক হয়ে গেলো তারা। কারণ তাদের জানামতে এরকম টাইম ট্রাভেল ভর্টেক্স শুধুমাত্র বাংলাদেশেই ক্রিয়েট করা যায়। এই ভর্টেক্স হলো এক ধরণের ডাইমেনশনাল পোর্টাল যা দিয়ে অনেক সময় বাংলাদেশ থেকে যদি অন্য কোনো গ্রহে যেতে হয় তাহলে এই ধরনের ভর্টেক্স ক্রিয়েশন শুধুমাত্র বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই কিন্তু ঘটে এছাড়া আরও ঘটনা আছে যেমন ওই ধরনের ভর্টেক্স শুধুমাত্র সরকারি বিভিন্ন রিসার্চ ল্যাবের মাধ্যমে কিন্তু যেতে হয়। এই ভর্টেক্সের মাধ্যমে টাইম ট্রাভেল করা খুবই দুরূহ ব্যাপার। কারো অভিজ্ঞতা না থাকলে আসলে টাইম ট্রাভেল করা যায় না। গতি বালক ফারহান বেশ আগ বাড়িয়ে সামনে গেলো।
তখন হঠাৎ করে অণুবালক বললো, 'তুমি এখন সামনের দিকে এগিয়ো না। তখন ফারহান বললো, 'আমার এসবে অভিজ্ঞতা আছে। আমি ডার্ক মাল্টিভার্স পর্যন্ত গিয়েছি সুতরাং আমার এসব ব্যাপার নিয়ে চিন্তা করতে হয়নি। কিন্তু পরক্ষণেই সমস্ত হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিলো একজন টাইম ট্রাভেলার এসে। তার হাত থেকে এক বিশাল লেজার বিম নির্গত করে গতিবালক ফারহানকে আছড়ে ফেলে দিলো সেখানে এবং মাটিতে পড়ে ফারহান কাতরাতে শুরু করলো। এসব দেখে নিশু সচকিত হয়ে গেলো এবং সে সাথে সাথে অতি দক্ষতার সাথে অনুবালককে নিয়ে আস্তে করে সামনের দিকের থেকে পেছন চলে এলো।
একজন টাইম ট্রাভেলার যিনি এই ভর্টেক্স করে এসেছেন এবার তার দিকে সবাই তাকিয়ে হতভম্ব হয়ে গেল। এই কারণে যে, এ তাদের ডক্টর ইকবাল।
'আরে এটা কিভাবে সম্ভব?' চোখে মুখে বিস্ময় তিহানের। ডক্টর ইকবাল তাদের দেশের বেশ বড়ো একজন সায়েন্টিস্ট। কিন্তু এই ইকবালের বেশভূষা বেশ অদ্ভুত কিসিমের। এ সম্ভবত অন্য পৃথিবীর ইকবাল!
তখন লোকটি সামনে এসে বললো, 'হ্যালো ইয়ংম্যান কি খবর? তোমাদের তো আজ অনেক বড় দিন। কারণ আমার হাতেই তোমাদের মৃত্যু হবে। আমাকে পাঠিয়েছেন ডার্ক মাল্টিভার্সের সুপার লর্ড। তিনি তোমাদেরকে মারার জন্য আমাকে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। তাই আমি তোমাদের জন্য মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে এই পৃথিবীতে এসেছি।
তখন নিশু বললো, 'তোমার মতো ঘড়েলকে অনেকবার আমাদের তক্তা দিয়ে মেরে সমান করে দিয়েছি। আর তুমি আমাদের সাথে এমন করে কি বুঝাতে চাচ্ছো? তুমি কি অনেক বড় মাপের টেকনো টপার? তুমি কি অনেক বড় মাপের সুপার সোলজার? আমাদেরকে আমাদের সাথে অযথা তুমি মারামারি করতে এসেছো। তখন ইকবাল বললো, 'আমি একজন নেতা। আমি একজন লিডার। আমি একজন ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট। আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব সুপার লর্ডের আদেশে দমন করতেই হবে এবং তোমরা আমার শত্রু কারন আমি যেই জিনিসটা নিতে এসেছি সেটা নেওয়ার পথে কাঁটা হলে তোমরাই শত্রু এবং তোমাদেরকে যদি এখন দমন করতে না পারি তাহলে আমার এই জিনিস পৃথিবী থেকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না।
ঠিক তখনই অণুবালক বললো, 'আচ্ছা তাহলে তোমাকে এখনই সবক শেখাতে হবে। কিন্তু কি নেবে না নেবে তার হিসাব কষার আগেই তোমাকে আমরা মাটিতে পুঁতে ফেলবো। যদি মারামারি করি তবে বোঝা যাবে কার গায়ে কতো জোর।'
কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ করে গতিবালক তার গায়ের উপর দিয়ে চলে গেলে এবং বেস্ট জ্বালা করায় লোকটি বললো, 'এই ইকবালকে তোমরা ছেলেরা কি বোঝাতে চাচ্ছো? তখনই ইকবাল ক্রুদ্ধস্বরে বললো, ' আমি তোমাদেরকে একটা কথা বলতে চাই স্পষ্ট করে, আমার কাজের পথে যদি কাঁটা হয়ে দাঁড়াও তাহলে আমি তোমাদেরকে একদম নিঃশেষ করে দেবো।
পাঁচ.
ডক্টর ইকবাল খুব সহসাই তাদেরকে পরাস্ত করার জন্য সক্রিয় হয়ে উঠলো। তাদেরকে এত দ্রুত শেল মারার চেষ্টা করল তার পরও সে পারছিলো না। এতো এতো সাপোর্ট আর টেকনোলজিক্যাল কারণে সে অনেকটুকু এগিয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু, তিনজনে অনবদ্য দূরদর্শী সম্পন্ন হওয়ায় তারা বেশ খানিকটা তাদেরকে ইকবালের সমপর্যায়ে এগিয়ে নিয়ে গেছে। সবার আগে ডক্টর ইকবাল কে মারার জন্য বেশ যথেষ্টভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো। এদিকে রানার এর ছেলে গতি বালক ফারহান খুব দ্রুত এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করে এক ধরনের স্পিড ঠান্ডার ফিট করার চেষ্টা করছিলো। তারপরও চেষ্টা করছিলো যাতে ইকবালকে কোনভাবে ধরাশায়ী করে দেয়া যায়।
এদিকে ইকবাল ও বেশ খানিকটা অস্থির হয়ে উঠেছে। তিনজনকে একসাথে আক্রমণ করার এই বিষয়টা সে অনেক আগে থেকে তৈরি করে রাখলেও তার পক্ষে এখন আক্রমণ করার সেই বিষয়টি উঠে আসছে না। সে আক্রমণের চিন্তা করলেও আপাতত প্রতিরোধের দিকে মনোযোগ দিল। হঠাৎ করে একটা ফাঁকে সে চান্সটা পেয়ে গেলো। আসলে চান্স পাওয়ার জন্য তাকে অনেক কষ্ট করতে হচ্ছিলো কারণ তাকে মারতে হলে অবশ্যই নতুনভাবে আক্রমণ করতে হবে। তার গেট এর উপরে আর তাই তার হাতের ঠিক বামপাশের কাঁধের উপর থেকে বেরিয়ে এল একটি নতুন ধরণের অস্ত্র যার নাম বিএমইউ-৮৬ যেটা হালকা ধরণের ক্লাস্টার বোমা উৎক্ষেপণ করতে পারে এবং সেটি স্বয়ংক্রিয় হয়ে হঠাৎ করে সেখান থেকে ক্লাস্টার আউট করা শুরু করলো।
ধুমধাম করে গুলির মতো শব্দ হলো। কিন্তু খুব চতুর ভাবে সেটা কে পাশ কাটিয়ে গতি বালক ফারহান নিশো ও অনুবালক কে একসাথে বাইরের দিকে নিয়ে গেলো নিশু সেই লক্ষ্যভেদের থেকে। নিশুর কাছ থেকে একটা বড় ধরনের স্পাইক যেটা তার বাবার কাছ থেকে সে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, সেটা সে ছুড়ে দিলো। পরক্ষণেই সেটা এতো বড়ো একটা বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী সৃষ্টি করলো যে সেটা নিখাদভাবে কায়দামতো ইকবালের হাঁটুতে আক্রমণ করলো সজোরে। বাড়ি খাওয়ার পরেও ইকবাল এর ভেতর থেকে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া দেখা গেলো না। কারণ সে তো পুরোপুরি বুলেটপ্রুফ হয়ে এসেছে। শুধু একটু ভড়কে গেলো।
'চালাক ছেলে।' হা হা হা করে হেসে ইকবাল বললো।
তখন নিশু তাকে পাল্টা প্রশ্ন করে বললো 'তোমার সমস্যাটা কি? তোমাকে আমরা মারতে চাই না। আমরা তোমাকে প্রতিরোধ করছি। কিন্তু তুমি আমাদেরকে কেনো মারতে চাও? তখন ইকবাল বললো আসল কারণটা। বোঝা গেলো সে কি কারণে এই পৃথিবীতে এসেছে। তার পৃথিবীতে আসার কারণ সে ব্যক্ত করলো এভাবে, 'দেখো আমার দরকার সোর্স অফ আর্থস লাইফ।'
এটা শুনে বেশ চমকে অনুবালক পিছিয়ে গেলো। সে তার মায়ের কাছ থেকে এই জিনিসটা সম্পর্কে শুনেছে। কিছুদিন আগে যখন সে মাকে জিজ্ঞাসা করলো, তার মায়ের কাছ থেকে জানা গেল যে, 'এই বিষয়টা যে এই "সোর্স অফ আর্থস লাইফ" এই জিনিসটা হলো পৃথিবীর জীবনীশক্তি। এই পাথরটাকে যদি কোন কারণে ধ্বংস করে ফেলা হয়, তাহলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল শুকিয়ে যাবে। সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে নিমেষেই ঠিক যেমনটা পারমাণবিক বোমা মারলে হয়। ডায়মন্ড কাট যেটানিয়াম দ্বারা অটোমেটেড এই পাথরটির সাথে যেটা নিয়ে আমাদের পৃথিবীর একটা সম্পর্ক আছে সেই সোর্স অফ আর্থ লাইফকে আসলে পৃথিবীর কলিজা বললেও অত্যুক্তি হবেনা। আর যেটানিয়াম কাটতে চাইলে বাংলাদেশের ডি টাওয়ারেই আছে এমন প্রযুক্তি।
কিন্তু এই যেটানিয়ামের বিষয়টা বাকি দুজন জানে না। হঠাত করে অনুবালক খুব চিৎকার করে উঠলো।
'থামো তুমি কি চাইছো আমি জানি। এটা আমি শুধুমাত্র জানিযে, আমার বাবা মারা যাওয়ার আগে এটা হয়তো কোন একটা জায়গা থেকে পৃথিবীতে এসেছে কিন্তু এর কাছ থেকে পাওয়া খুব মুশকিল।কারণ জিনিস টা সম্পর্কে আমার মায়ের কাছ থেকে শুনেছি। আমার মাও জানে না, আমার বাবাও জানেনা এটা কোথায় লুকিয়ে রেখেছে।' ভিতরে ভিতরে মিথ্যা কথা বলে নিজের ভেতর কেমন যেনো অপমরাধবোধ হচ্ছে তিহানের ।
এটা শুনেই ইকবালের বেশ মাথা গরম হয়ে গেলো। তখনই সে ধুপ করে বসে বললো, 'তোমাদেরকে আমি এসে আবার দেখে নেবো। আমি আপাতত চলে যাচ্ছি। কিন্তু এটা মাথায় রেখো এই সোর্স অফ আর্থস লাইফকে আমার নিয়ে যেতে হবে সুপার লর্ডের কাছে। এটা সুপারের কাছে যদি আমি না নিয়ে যায় তাহলে আমার পরিবারকে সে মেরে ফেলবে। ধ্বংস করে দেবে আমার পুরো জীবন।'
তিনজনই খুব পরিশ্রান্ত হয়ে উঠেছে ততক্ষণে, কিন্তু ইকবালকে শেষ মাইর দিতে পারতো স্রেফ! কেন জানি হাত নিশপিশ করছিল নিশুর. সে খুব দ্রুত তার দিকে দৌড়ে গিয়ে তার হাতের ওয়েল্ডিং রড গুলো দিয়ে মারা শুরু করলো। এই মারামারি অহেতুক নয়। এটা মনের ভেতরে জমতে থাকা অজানা আতংকে উদ্বুদ্ধ হয়ে এগ্রেসিভ হয়ে বিপরীত পক্ষকে ধরাশায়ী করার কৌশল। কারণ, ইকবালের প্রধান শত্রু এখন এরাই। তাই ইকবাল কোনো কিছু করার আগেই ইকবালকেই চিরতরে শেষ করে দেয়া শ্রেয়। একসময় ইকবালের সুইটের কিছু কিছু অংশ বেশ অকেজো হয়ে গেলো। তখন ইকবালের চলতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো। কিন্তু সে দ্রুতই একটা ভর্টেক্স ক্রিয়েট করে ফেললো। নিশু জানতে পারে যে এই স্যুটকে যদি কোনো কারণে অকেজো করে দেয়া হয় তাহলে কিন্তু ইকবাল একেবারে দুর্বল হয়ে যাবে। ইকবাল ও বেশ বেশ দ্রুত গতির সাথে সেট করে আস্তে আস্তে ডার্ক মাল্টিভার্সের দিকে দৌড়াতে শুরু করলো। ওদিকে রানার এর ছেলে গতি বালক ফারহান ও বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে এই ইকবালকে ধরে রাখার জন্য। কারণ, ইকবালকে যদি কোনো কারণে আটক করে ফেলতে পারে তাহলে তার সমস্ত প্ল্যান ভন্ডুল করে ফেলা যাবে কিন্তু সবাইকে হতাশায় ডুবিয়ে ইকবাল সে টাইম ট্রাভেলের ভর্টেক্স এ প্রবেশ করল এবং ভর্টেক্স কিছুক্ষণের মধ্যে বাতাসে মিলিয়ে গেল।
'ধ্যেত শালা! কি হলো এটা এখন? এই শালাকে যদি আমরা ধরে ফেলতে পারতাম, তাহলে কত ভালো হতো। এখন কি জবাব দেবো বাবাকে?' বলল নিশু।
নিশুর একথা শুনে রানারের ছেলে গতিবালক বললো, 'আরে এখন বলে কি লাভ হবে? ও তো আসলে অনেক দ্রুত গতির সাথে চলে গেছে। আর ওর মাথায় অনেক বুদ্ধি রাখে ও। তুই কি চাস আমরা ওর সাথে সাথে ওখানে পৌঁছে একটা বিপদ ডেকে আনি?
তখন নিশু বললো, 'কি বললি? হ্যাঁ এই শালা ইকবালের সাথে তোর সাথে কানেকশন আছে। আর আমার নিজেরও একটা সন্দেহ হয়েছিলো ও সুপার লর্ডের ডানহাত। এই ইকবালকে আমি হারিয়ে দিয়ে এসেছি। আমি না আসলে এটা কে করতো? আর প্যাঁচটা ওখানে গিয়ে আলভী করেছে। কাজটা কি ভালো হয়েছে?'
তখন অণুবালক তাকাল ফারহানের দিকে। 'কী বললো নিশু এটা? তোর কারনে ঘটেছে এই বিষয়টা। আমি তো জানতাম না।
নিশুর দিকে তাকিয়ে ফারহান বললো, 'দেখো ইকবাল সুপার লর্ডের ডান হাত ছিলো। ডার্ক রানারকে আমাদের এই আলভী, ওকে একটা কম্পিটিশনে মেরে চলে আসে পৃথিবীতে আমার বাবার সাথে। এরপর থেকেই সুপার লর্ড আমাদের পৃথিবীর বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। আমরা ওকে ধ্বংস করার জন্য প্রস্তুত আছি। এখন যেকোনো সময় সে পৃথিবীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে এবং সেটা সে করেই ফেলেছে, তার অন্য আরেকজন লোককে দিয়ে।'
এরপর বেশ ভয় পেলো তিহান। তার চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ। 'কী বলিস এই সম্পর্কে তো আমি কিছুটা হলেও ভয় পাচ্ছি। ওর হাতে তো অনেক শক্তি দেখছি। নিয়ারেস্ট অমনিপোটেন্ট। এ শক্তির কাছে মানে অনেকটা সর্বশক্তিমান টাইপের। ওর হাতে তো তাহলে আমাদের পুরো পৃথিবী ছারখার হয়ে যাবে ও যদি পৃথিবীতে আসে?'
তখন তার দিকে তাকিয়ে নিশু বললো, 'আমি আছি তো। আমি থাকতে তোদের ভয় কিসের? আমি দরকার হলে টাইম ট্রাভেল করে তোর বাবাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবো।'
তখন গতি বালক ফারহান তার দিকে তাকিয়ে চোখ বড় বড় করে বললো, 'টাইম ট্রাভেল করে তিহানের বাবাকে নিয়ে আসবি মানে?'
তখন তিহান হোসে বললো, 'কেনো তুই আছিস না, তোকে নিয়ে অতীতে চলে যাবো।'
ছয়.
তিনজন কথা বলতে বলতে হঠাৎ করে আবার ভর্টেক্স চালু হয়ে গেল দেখা গেলো। কিছু বিদঘুটে চেহারার মানুষ তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। তাদের জীর্ণশীর্ণ শরীরে অসংখ্য লোম। মুখে বিষাক্ত সাপের মত চিকন জিহ্বা। অনেকটা ছোট শিশুর মতো কিংবা শ্বাপদের মতো ক্রল দিয়ে দিয়ে দিয়ে তারা এগিয়ে এলো তাদের কাছে। একটা সময় হঠাৎ করে উপলব্ধি করলো তারা, প্রাণীগুলো তাদের দিকে খুব দ্রুত এগিয়ে আসছে। তখন রানারের ছেলে গতি বালক ফারহান এক এক করে তাদেরকে ভর্টেক্সে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করলো। কিন্তু একটা সময় দেখা গেল যে যতোটুকু ভর্টেক্সে সে দিয়ে আসছে, তার থেকেও বেশি পরিমাণ তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। আস্তে আস্তে ভর্টেক্স থেকে বিপুল পরিমাণ ঐ সমস্ত টাইপের মানুষ বেরিয়ে আসছে। শেষ পর্যন্ত না পেরে নিশু মারা শুরু করলো তাদের। এমন মার দিলো কেউ কেউ আহত হয়ে পড়ে গেছে। কিন্তু হঠাৎ করে একজন নিশুর উপর একেবারে নিজেকে ছেড়ে দিতে শুরু করলো। তখন নিশু বুঝতে পারলো এরা নিশ্চয়ই সেই প্রাণী, যেটার কথা বাবা বলেছিল মানে রাতের প্রহরী কাছ থেকে শুনেছিলো। সেদিন বাবা বলেছিলো অনেক ঘটনা এদের সম্পর্কে। যা শোনা গিয়েছিলো সেটা রীতিমতো ভয়ংকর।
এই প্রাণী গুলোকে বলা হয় কাম্পা। কাম্পারা খুব ভয়ঙ্কর রকমের প্রাণী। ডক্টর ইকবাল একবারে, মানে প্রথম পৃথিবীর ডক্টর ইকবাল পৃথিবীতে পাতালদেশের সায়েন্স ল্যাবে এক ভয়ংকর ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য ডক্টর ইকবাল স্বীকার করেছেন তাদেরকে দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞের কাজ করিয়েছেন, মানে রাষ্ট্র পর্যায়ের প্রায় সব অপরাধমূলক কাজ ডক্টর ইকবালেরই করা। যখন ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সেটা বেশ বড় ধরনের একটা ঘটনা ছিল। নিচে মানে পাতালপুরীতে কিছু সাইন্টিস্ট এর নিজস্ব একটা ল্যাব ছিলো। ইকবাল পাতালে গিয়ে সেখানকার নর-নারী যারা বড় বড় সায়েন্টিস্ট, সেখানে তাদের তদবির করা শুরু করেছিলেন তাদের বলেছিলেন, তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে নিয়ে স্পেশাল কিছু কাজ করতে হবে এবং তাদের দিয়েই পাতাল দেশে ভাইরাস ছড়িয়ে দেন। একটা সময় তারা হঠাৎ করে সবাই কি কারণে যেন পাগল হয়ে গেলো, পাগলের মত আচরণ শুরু করলো। এক রাতেই লম্বা লম্বা চুল, হাতে বড় বড় নখ এবং বিদঘুটে চেহারা।এছাড়া তাদের শরীর ভর্তি লোম দেখা দিলেও পরে জানা গেল ডক্টর ইকবাল তাদেরকে এক ধরনের বায়োকেমিক্যাল পুশের মাধ্যমে এই ধরনের প্রাণীতে পরিণত করেছে। তারা পরিণত হয়েছে কাম্পাতে এবং তাদেরকে নিয়ে অনেক রকম মিথ প্রচলিত আছে। জানা যায়, কাম্পা যদি কাউকে ধরে আঁচড়ে দেয় তাহলে কিন্তু অনেক ধরনের রোগ হয়ে থাকে এবং অনেক সময় যে ভিকটিম থাকে সেই একসময় কাম্পাতে পরিণত হয়।
নিশু আজ প্রথমে প্রথমে বেশ ভয় পেলেও আস্তে আস্তে নিজেকে সামলে নিলো এবং আস্তে আস্তে দেখা গেলে সে সবাইকে মার দিতে শুরু করেছে। যদিও তার শরীরে কোন ধরনের আঁচড় পড়েনি তবুও সে একটু টেনশনে রয়েছে কারণ এই ধরনের অাঁচড় পড়লে সে কিন্তু হয়ে যেতে পারে কাম্পা। তবে সে কিন্তু হয়নি তা নাহলে অবশ্যই তার চামড়া ভেদ করে ভাইরাস ঢুকে যেতে পারে। তবে কাম্পারা সেটা তো পারেনি আঁচড় দিতে, কিন্তু তার এক ধরনের স্পেশাল সেন্সের কারণে নিশু ইলেকট্রিক ওয়েল্ডিং রড দিয়ে মারা শুরু করলো। সবাই মোটামুটি যারা যারা তার কাছে আসছিলো ধরাশায়ী হয়ে গেলো। ওদিকে তিহান একটু চেষ্টা করতে লাগল যে, তার শরীর থেকে কোন ধরনের কসমিক রশ্মি নির্গত করা যায় কিনা এবং দেখা গেল সত্যিই সে কয়েক হাজার ভোল্টের শক্তি যেন সে একাই তার
বের করেছে। তিহানের হাত থেকে নির্গত রশ্মি দিয়ে ধ্বংস করে দিলো। কয়েকজনের তো কমপক্ষে রক্তের ছিটে ফোঁটাও দেখা গেল না যে, তিহান এমন শক্তিশালী লেজার বিম নির্গত করেছে। এমনকি সেখানে মাংস নয়, মাংস সর্বস্ব শরীরটাই সেখান থেকে প্রায় চলে গেছে কাম্পাদের। এমন সময় হঠাৎ করে হলো কি, একটা লোক, ভর্টেক্স থেকে বের হয়ে এলো। ভর্টেক্সের বাইরে এসে সেটা হঠাৎ করেই খুব দ্রুতগতিতে এদিকে-সেদিকে যাওয়া শুরু করলো এটা দেখে গতি বালক ফারহান ও বেশ নার্ভাস হয়ে গেল সে এতটাই নার্ভাস হয়ে গেল গেল যে সে চলাচল বন্ধ করে দিল এবং দ্রুত গতিতে দৌড়ানো কারো পক্ষে সম্ভব হলো না। এরপর হঠাৎ করেই দেখা গেল সেই লোকটি হঠাৎ গতিবালকের কন্ঠনালী চেপে ধরে একটা আছাড় দিল এবং আশাটাকে হওয়া মাত্রই ফারহান ওরফে গতিবালক সেখানেই অজ্ঞান হয়ে গেলো। এদিকে তিহান সেই লোকটিকে মারতে শুরু করলো।
তিহানের এই আচরণে লোকটা বেশ অবাক হয়ে গেলো। তখন সে জিজ্ঞেস করলো, 'তোমার নাম কি?'
তখন লোকটাকে তিহান জানালো তার নাম তিহান। তারপর অণুবালককে তখন লোকটা বললো, 'আমি কালো পৃথিবীর সলিম শেখ। আমি ডাক মাল্টিভার্সের সুপার লর্ডের নির্দেশে এখানে এসেছি তোমার বন্ধু ফারহামকে মারার জন্য এবং তাকে মারতে না পারলে ডক্টর ইকবালের সমস্ত প্ল্যান ভেস্তে যাবে।'
খুব দ্রুত এসে তিহান ও নিশু সামনে দাঁড়ালো তার এবং দুজন মিলে মারতে শুরু করল সেই সেলিম শেখকে। সেলিম সেখ বললো, 'আমাকে মারা এত সহজ নয় আমাকে মারতে হলে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হবে তোমাদের। এই নাও বলে সে তার মনন শক্তি দিয়ে দিয়ে দুজনকেই উড়িয়ে দিলো কিন্তু কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে হঠাৎ করে নিশু সেই অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ালো। কারণ তার শরীরের ভেতর একটা এনার্জি কম্পাউন্ড আছে। সেটা থেকে পুশ বের হয়ে তাকে হঠাৎ করে জাগিয়ে তুলল এবং নিশু তার ইলেকট্রিক রড উড়িয়ে দিলো। সেই সলিম শেখ প্রচণ্ড ব্যাথায় চিৎকার করে উঠলো এবং সাথে সাথে ভর্টেক্সে করে পালিয়ে গেল।
সেদিন সন্ধ্যায় তারা তিনজন মিলে বৈঠকে বসলো। রাতের প্রহরী মিশু যখন ওদের সাথে বৈঠকে বসলো, তখন তাদের বললো, 'আমি তোমাদেরকে সাহায্য করতে চাই।'
তখন নিশু বললো, 'তোমরা বড়রা আর আমরা একসাথে এক কাজ করবো। ঠিক আছে। কিন্তু বাবাকে এখানে আমি এন্ট্রি করাতে চাই না।'
তখন মিশু বেশ জিজ্ঞাসু সুরে নিশুকে জিজ্ঞেস করলো, 'কেন আমি বড় বলে?'
নিশু বললো 'না এই প্রবলেমটা আমরা তিনজন মিলে করতে চাই। কারণ, যেহেতু তরুণ সংঘ কে আমরা আবার ইউনাইট করেছি তাহলে আমাদেরকে উচিত, একসাথে কাজ করে সেই প্রবলেমটা সলভ করা। যদি আমরা করতে না পারি তাহলে কিন্তু আমরা আমাদের ব্যর্থতার পরিচয় দেবো।'
তখন মিশু বেশ হেসে বললো, 'ঠিক আছে তোমরা যদি কাজ করতে চাও তাহলে করো।' ছেলে বেশ দ্বায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে।
তখন অনুবালক বললো, 'আমি এই জোটকে শিক্ষা দিতে চাই। এজন্য আমি চাই আমি আমার বাবাকে ফিরিয়ে আনতে। সেখান থেকে যেখানে দামাহানের কাছে আমার বাবা মারা যায়। সেখান থেকে আমার বাবাকে ফিরিয়ে নিয়ে আমি সুপার লর্ডের সমস্ত চ্যাংড়া পোলা পাইনের সাথে লড়বো।'
এই কথা শুনে সবার প্রায় চোখ কপালে উঠলো মিশু তখন জিজ্ঞেস করল তিহান কে, 'তুমি কিভাবে তোমার বাবাকে নিয়ে আসবে।'
তখন তিহান বলল আমি ফারহানের প্যারালাল ইউনিভার্সের মাধ্যমে ইভেন্টটা যেখানে ছিলো, সেখান থেকে বাবাকে ফিরিয়ে আনবো। তখন নিশুর এই আইডিয়াটা তো আমার আসলে খেয়াল ছিল না হয়তো। কিন্তু পেছনে অতীতে গিয়ে আমরা ইভেন্টটাকে অন্যরকম করে দিতে পারি। দেখা যাবে আমরা সুন্দর করে সবাই এভাবে ফিরিয়ে আনব আমাদের তনয়কে, মানে অনুমানবকে ওরফে আমার বাবাকে।'
মিশু তাদের তিনজনকে বললো, 'তোমরা বসো একটু। আমি তোমাদেরকে সাহায্য করতে চাই কিছু বিষয় নিয়ে। তখন তারা অপেক্ষা করতে লাগলো। অপেক্ষা করতে করতে একটা সময় তিহানের বোরিং লাগছিলো। সে হঠাৎ করে তাদের বাকি দু'জনকে হাসাতে লাগলো বিভিন্ন বিষয়ে। দেখা গেলো আসলে কথা বলতে বলতে তারা বেশ প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। মনে হচ্ছে যেন অনেক দিনের বন্ধুত্ব। আসলে বন্ধুত্বের কোন সীমারেখা নাই। বন্ধুত্ব অল্প সময়ে হয়ে যায় এবং হঠাৎ করে মিশু চলে এলো। একটা জিনিস দিলো নিশুর হাতে।
নিজের হাতে নিয়ে নিশু বললো, 'এটা কি?'
মিশু বললো, 'তুমি যখন তাকে সাহায্য করবে প্যারালাল ইউনিভার্সে তখন তোমাকে অবশ্যই অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে তখন থেকে সেভ করতে হবে তনয়কে। তখন এটা দিয়ে তুমি মারতে পারবে। এটা হল কসমিক আর্মর। এটা দিয়ে তুমি যে কোন ধরনের শক্তি কে প্রতিরোধ করতে পারবে। প্রতিরোধ করার জন্য তোমাকে অবশ্য অনেক ঝামেলা পোহাতে হবে। বিভিন্ন রকমের বাটন আছে। এখানে ধরো, কেউ তোমাকে টেলিপ্যাথি সিস্টেম দিয়ে আটকাতে চাইলো। সিস্টেমের মাধ্যমে তাকে বশে আনতে চাইলে সেটাকে প্রতিরোধ করার জন্য এখানে বাটন টা টিপে দিলে সেও তোমাকে বক্স করতে পারবে না বা ফ্রিজ করতে পারবেনা। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের কসমিক রশ্মি নির্গত হয় এটা দিয়ে যা শত্রুর শরীরে আগুন জ্বালা ধরিয়ে দিতে পারে। এটা শুধু প্রতিরোধ সিস্টেম নয়, এটি এক ধরনের আক্রমণাত্মক একটি মাধ্যমও। যাও। বেস্ট অব লাক'।
সাত.
টিডিটি বা টেরিস্ট্রিয়াল ডাইমেনশনাল ট্রান্সপোর্ট ডিভাইস এমন এক ডিভাইস, যা দিয়ে আপনি মহাজগতের যে কোনো জায়গায় অতীত কিংবা বর্তমান সময়ে এমনকি ভবিষ্যতে চলে যেতে পারবেন। আজ অতীতে এসেছে তিহানরা। এক দৃষ্টিতে তারা দামাহানের দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্ত তারা সন্তর্পণে এগোচ্ছে, কড়ায় গন্ডায় হিসাব দামাহানকে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য। দামাহান যাতে টের না পায়, সেজন্য দামাহানের দিকে সতর্ক দৃষ্টি তাদের। তাই স্ট্র্যাটেজি অন্যরকম অন্য রকম হওয়া উচিত এবং সেটাই করছে তারা। দামাহান বেশ রাগের সাথে অনুমানবের দিকে তেড়ে আসছে, এমন সময় হঠাৎ করে একটা বীম লেজার বের হয়ে গেলো নিশুর কসমিক কস্টিউম থেকে। এবং অণুমানবও বেশ অবাক হয়ে গেলো বিষয়টাতে। ততোক্ষণে দামাহান তার গলা চেপে ধরেছে এবং গলা চেপে ধরায় বাকিরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়লো। কারণ সবাই জানে যে দামাহান কেমন ভয়ঙ্কর। কিন্তু সবাইকে অবাক করে তার পেছনে এসে দাঁড়ালো ৩ জন যুবক।
তারা হঠাৎ করে খুব বড় ধরনের প্রতিশোধ নিলো এবং প্রত্যেকে দামাহানের এর উপর আক্রোশ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লো। এদিকে দামাহানের পেছনে পেছনে একজন এসে ঘ্যাঁচ করে তার ইলেকট্রোফায়েড রড ঢুকিয়ে দিলো দামাহানের পিঠের পেছনদিকে। দামাহান প্রবল বিস্ময়ে, প্রচন্ড জোরে আর্তচিৎকার করে উঠলো। ওদিকে সবাই থতমত খেয়ে গেছে। দামানের হাত অণুমানবের গলা থেকে নেমে গেছে এবং দামাহান তার পিঠের পেছনটা চেপে ধরে বিকট চিৎকার করছে খুব জোরে জোরে। সে লাফাতে শুরু করলো সেখানে এবং সেই ইলেক্ট্রোফায়েড রড, সেটা আরো ভালোভাবে ঠেসে ঢুকলো তার পিঠের পেছনে। তার হাত থেকে ইলেকট্রোফায়েড রডটি গিয়েছে দামাহানের শরীরে। যার কথা বলছিলাম সে আর কেউ নয় সে হচ্ছে নিশু।
যতক্ষণে নিশু এই ঘটনাটা করে বসেছে, ততক্ষণে তার পেছনে পেছনে দাঁড়িয়ে আছে তারই বাবা মিশু। তবে বর্তমানে মিশুই হচ্ছে অতীতের মিশু। মিশু তার দিকে তাকিয়ে বললো, 'তুমি কে? তোমাকে আমি চিনতে পারছি।
তখন নিশু বলল, 'আমি ভবিষ্যৎ থেকে এসেছি. আমি তোমার ছেলে মিশু' এবং একথা শুনে মিশু হতচকিত হয়ে গেলো। সে বললো, 'কিভাবে সম্ভব? তুমি কিভাবে এলে তখন সে বললো, 'বাবা আমি টাইম ট্রাভেল করে এসেছি অতীতে এবং আমাদের সময়ে আঙ্কেলকে নিয়ে যেতে এসেছি।
এটা শুনে বেশ অবাক হয়ে গেলো মিশু এবং সে বললো, 'এটা কি সম্ভব এবং তোমারই পরিধেয় বস্ত্র বা আর্মর, এটাতো আমার হাতের নকশা করা। যেটা আমি আর কিছুদিন পরেই তৈরি করতে যাচ্ছিলাম দামাহানের জন্য।
মিশুর এই কথা শুনে বেশ হাসতে শুরু করলো নিশু। কারণ, সে জানতো যে, তার বাবা আসলে তার জন্য এই শিরোস্ত্রাণটি তৈরি করতে যাচ্ছিলো। মিশু এই সম্বন্ধে নিশুর কাছ থেকে সমস্ত কিছু শুনে নিলো এবং বললো, 'ঠিক আছে। তোমার কথা বিশ্বাস করলাম।'
নিশুকে মিশু বললো, 'আমার একটা কথা সেটা হলো, তুমি তো জানো আমি রাতের প্রহরী। এই কথাটা তোমাকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে তুমি আমার ভবিষ্যৎ।
তখনই নিশু বললো, 'আমি সেটা অবশ্যই মেনে নিবো। কিন্তু এখন দামহানকে মেরে ফেলতে হলো তনয় আংকেলকে বাঁচিয়ে নেয়ার জন্য। আমাদের দামাহানকে মারতেই হলো।'
বিষয়টা নিশুকে বেশ দুশ্চিন্তায় ফেলে দিলো। শত হলেও ছেলেতো। তার গায়ে একটা প্রাণী হত্যার রক্ত। তখন নিশু বললো, 'তুমি এই কাজটা নাও করতে পারতে। হয়তো অন্য কিছু দিয়ে আঘাত করে তাকে মাটিতে ফেলে রাখতে পারতে।'
ওদিক থেকে অণুবালক এসে বললো, 'আমার বাবা কে বাঁচিয়ে রাখাটা জরুরি ছিলো। কারণ ভবিষ্যতে আমার বাবা বেঁচে থাকবে না। আমরা যে ভবিষ্যৎ থেকে এসেছি সেখানে দেখেছি, আমার বাবা নেই।' সে জন্যই তো আমি আমার বাবাকে নিয়ে যাচ্ছি।
এদিকে তনয় ওরফে অণুমানব বেশ হতচকিত হয়ে তাকিয়ে আছে। তিনজন তরুণের দিকে তাকিয়ে সে বললো, আমি কিভাবে যাবো এই ভবিষ্যতে? কারণ, আমার স্ত্রী তো এই মুহূর্তে সন্তানসম্ভবা। আমি কি আমার স্ত্রীকে ফেলে তোমাদের সাথে যাবো?
তখন তনয়ের এ কথা শুনে তিহান তার বাবার দিকে তাকিয়ে বললো, 'বাবা আমি যে তোমার সন্তান সেতো তুমি বুঝতে পারছো? তুমি ভবিষ্যতে গেলে আমাকে এবং আমার মাকে, দুজনকে একসাথে পাবে। কিন্তু তুমি যদি এখন থেকে যাও তাহলে আমাকে পাবেনা।'
তখন তনয় বললো, 'আচ্ছা ঠিক আছে আমি যাচ্ছি তোমাদের সাথে। তোমরা এগোও।'
এই বলে সে সময় ভর্টেক্সে তারা তিনজন তরুণ যখন উঠলো তার কিছুক্ষণের মধ্যেই অনুমানব এটাকে আস্তে করে বন্ধ করে দিলো। তখন নিশু হায় হায় করে উঠলো। ওর ভর্টেক্সের ভেতর থেকে চিল্লিয়ে বললো, 'আপনি কেনো যাচ্ছেন না আমাদের সাথে? আপনি না গেলে তনয় আঙ্কেল, কিভাবে নীহারিকা আন্টি বেঁচে থাকবে? বলেন?!
তখন অণুমানব বললো, 'আমি এখন যদি আমার স্ত্রীর সাথে সময় কাটাই তাহলে হয়তো ভবিষ্যতে আমরা তিনজনে একসাথে থাকবো। কিন্তু এখন এই তরুণ বয়সে আমি যদি যাই, তাহলে নীহারিকা পাবে হয়তো। কিন্তু, আমি আমার বর্তমান স্ত্রীকে নিয়ে খুব শংকায় থাকবো।'
তখন তিহান, নিশো এবং গতি বালক ফারহানের দিকে তাকিয়ে বললো, 'ঠিক আছে আমি আমার বাবাকে এখানে রেখে যাই। তাহলে অন্তত আমাদের ভবিষ্যৎ টা সিকিওর হবে। এই বলে সে চিৎকার করে বললো, 'বাবা বিদায়! তোমার সাথে অবশ্যই দেখা হবে।' এই বলে সে ভর্টেক্স লক করে দিলো এবং ভর্টেক্স কিছুক্ষণের মধ্যে বাতাসে মিলিয়ে গেলো। ততক্ষণে ভর্টেক্স করে তারা সবে টাইম ট্রাভেল করা শুরু করেছে এবং চারপাশে অসংখ্য অপরাধীকে দেখা যাচ্ছে সেই কিউ জোনের ভেতর। সেদিকে তাকিয়ে তারা তিনজন খুব অবাক হয়ে দেখলো, সেখানে ভবিষ্যতের টাইমলাইন সেলে অনেক জনের ভেতর একজন আটকা পড়ে আছে। সে হলো সুপার লর্ড। তার মানে, তারা আটক করতে যাচ্ছে ভবিষ্যতে?
আট.
ভর্টেক্স এ করে নিজের গ্রহে ফিরলো তারা তিনজন। সবার মন খারাপ হয়ে আছে। নিশ্চিত ভেবেছিলো যে, অনুমানব অর্থাৎ তাদের তনয় আঙ্কেল তাদের সাথে আসবে। কিন্তু তাদের তিনজনকে অবাক করে দিয়ে তিনি অতীতেই থেকে গেছেন। এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে, কারো প্ল্যান সফল হবে না। অবশ্য তিহান সারাটা পথ নির্লিপ্ত ছিলো। তিহান ভেবেছিলো যা, সেটাই হয়েছে। তনয় ওরফে তিহানের বাবা অণুমানব আসবেনা। তার বাবাকে তেমন চাপ দেয়নি, নিয়ে আসার জন্য। তাই তিহান চুপচাপ ভর্টেক্স করে চলে এসেছে নিজের পৃথিবীতে। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় লেগেছে ফারহানের কাছে। একজন গতি বালক হিসেবে সে যা করার করেছে। সাহায্য সেটাই, যেটা মানুষের উপকারে আসে। কিন্তু এখানে উপকার করেও তেমন কোনো কিছুই হলো না। সেই ক্ষেত্রে, আশাহত হয়ে সবাই যেভাবে ফিরে আসবে তিহান এটাতে খুবই মর্মাহত হয়েছে। শেষে সবাইকে তিহান উদ্দেশ্য করে বললো, আচ্ছা যাই হোক যেটা হয়ে গেছে হয়ে গেছে। এখন আমাদেরকে তো এটা নিয়ে মন খারাপ করলে চলবে না। আমরা আমাদের বাসায় ফিরে যাই। গিয়ে দেখা যাবে, কি হবে না হবে। কারণ, ইকবালকে তো যে করেই হোক, খেল দেখাতেই হবে এবং আমরা যদি ওকে কোনমতে চারদিক থেকে চাপ দিতে পারি তাহলে হয়তো সুফল ও চলে আসতে পারে। সেগুলো নিয়েও আমরা আলোচনা সাপেক্ষে মিটিং বসিয়ে আমরা যুদ্ধের প্ল্যান করতে পারবো।'
এটা শুনে সবাই খুব খুশি হয়ে গেলো। খুশি হওয়ারই কথা, কারণ এই ভাবে যদি তিহান তার মনোবল টা ধরে রাখতে পারে তাহলে হয়তো তারা সবাই মিলে ধরে ফেলতে পারবে ইকবালকে। ইকবালকে যেভাবে হোক, শাস্তিটা দিতেই হবে এ পৃথিবীতে মারামারির করার কোন ধরনের এক্তিয়ার সে রাখেনি।
এদিকে সবাই আস্তে আস্তে যার যার বাসায় ফিরে গেলো এবং ফিরে যেতে যেতে হঠাৎ করে তিহান লক্ষ্য করলো, তাদের বাড়ির সামনে চেনা-পরিচিত একটা মুখ দাঁড়িয়ে আছে। মুখটাকে খুব চেনা চেনা লাগছে। চুলগুলো লম্বা উস্কোখুস্কো। এক পলকে তাকিয়ে হঠাৎ করে সে চিৎকার করে উঠলো, 'বাবা! বাবা তুমি এখানে? আমরা তোমাকে কত কত কত সাধনা করে, ওখান থেকে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু, তুমি আসোনি। তখন তনয় হেসে বললো, ' হা হা হা! বাবা তুমি অতীত থেকে অনেক কিছু চেঞ্জ করে দিয়েছো। তোমার এই রদ বদলের কারণে পুরো টাইমলাইন টা অন্যরকম হয়ে গেছে। তাইতো আমি নিজের স্বীয় জায়গায় আবার আসীন হয়েছি এবং দেখো তোমার মা আর আমি একসাথে আছি এখানে, তোমার জন্য এবং তোমাকে আমি ওভাবে জীবনের শেষ পর্যন্ত সমস্ত কিছু দিয়ে যাবো। তুমি আমার কাছ থেকে বাবার স্নেহ, ভালোবাসা পাবে। তিহান জড়িয়ে ধরে কাঁদলো।
নিজের ভেতর খুব আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠলো তিহানের। সে তার বাবাকে দেখে যেনো আত্মবিশ্বাসের ভাব চূড়ান্ত করে ফেলেছে। সে এবার নিজেকে একা না, এটা ভাবতে শিখলো। সে এখন ভাবছে, কিভাবে বাবাকে নিয়ে ইকবালকে একেবারে ধ্বংস করে দেয়া যায়। এ কারণেই ইকবাল যদি পৃথিবীতে বারবার আসে তাহলে হয়তো ওর কারণেই পৃথিবীতে অশান্তি বিরাজ করবে এবং ইকবালকে চূড়ান্ত পর্যায়ের একটা ধাক্কা দিতে হবে। সেজন্য, সে চিন্তা করছে কিভাবে কি করা যায়। অবশ্য ইকবালকে যদি কোনো কারণে এক্কেবারে মেরে অন্যদিকে পাঠিয়ে দেওয়া যায়, তারপরও সুপার লর্ডের সেই চ্যালেঞ্জ কিন্তু থামানো যাবে না। কারণ, সে আসবে বলেছে। আসবে মানে আসবেই। এটাই যে সেটা প্রতীয়মান হয় যে সুপার লর্ড অনেক চ্যালেঞ্জিং। অথচ যেকোনো কিছুই কিছুই হোক তার পৃথিবীতে আসা থামাবে না সে। তাই এটা ভেবেই যেন তনয়ের এবং তিহানের গা শিউরে উঠলো।
তিহান চিন্তা অনেকক্ষণ ধরে করছিলো কিভাবে তারা ইকবালকে থামিয়ে দিবে। তখন সে বললো, 'বাবা আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে।'
তখন তনয় বললো, 'কি?'
তিহান বললো, 'বাবা একটা কাজ করা যায়। ইকবালকে সারপ্রাইজ দিতে পারো তুমি। আমি কালকে ইকবালকে এবং সলিমকে একসঙ্গে ধরতে গিয়ে যখন দেখবো, আমি পারছিনা কিংবা আমরা তিনজন মিলে হয়তো দুজনকে ধরাশায়ী করতে পারছি না; তখনই তুমি চলে আসবে।'
ছেলের মুখে একথা শুনে তনয় যেনো খুব খুশি হলো। আসলে তা নয়, সে তার ছেলের ম্যাচিউরিটি লেভেল দেখে বেশ খুশি হলো।
ইকবালের ব্যাপারে তথ্য নিয়ে আসার জন্য সে গতি বালকের সাহায্য নিলো। ফোন করলো তাকে। তখন গতি বালক ফারহান বললো, 'হ্যাঁ তুই যেটা ভাবছি, আমিও সেটা চিন্তা করছিলাম। আংকেল আছে এখন। আমাদের শক্তি দ্বিগুণ ছিলো। তুই আর আংকেল মিলে দুজন মিলে যখন ইকবালকে চমকটা দেবে তখন তার মনে হয় ওখানেই জীবনের চরম শিক্ষাটা পাবে।'
তখন তিহান হেসে উঠলো। বললো, 'ওরে বোকা এত সহজ নয় ইকবালের সাথে। সে কিন্তু, সলিম শেখকে কাছে রেখেছে।তুই যদি ভাবিস যে তোকে পেয়েও কোনো কিছু করতে পারবে না, তাহলে এটা ভুল কথা। কারণ সুপার লর্ড কিন্তু এখনো আশা বাকি রেখেছে। যদি ও কোনো কারণে চলে আসে তাহলে কিন্তু আমাদের বারোটা বেজে যাবে।'
তিহান কথা শেষ করে তার বাবা কে গিয়ে বললো কথাগুলো। তখন তনয় একটু চিন্তিত হয়ে পড়লো। বললো,'আসলে সুপার লর্ড সম্পর্কে আমার ধারণা নেই। তবে সে যে দামাহান থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী হবে সেটা বোঝা যায়। দামাহান যদিও অনেক শক্তিশালী। সে এমন একজন, যেঅন্য গ্রহ থেকে পৃথিবীর উপর খবরদারি করতে চেয়েছিলো। কিন্তু, সে পারেনি। (এটা জানতে হলে পড়তে হবে বাংলাদেশের অতিমানবেরা অমনিভার্স 'কিলিং ডিসেম্বর-৫' অর্থাৎ পঞ্চম খন্ডে পাওয়া যাবে।)
ইকবাল যেখানে সবসময় আক্রমণ করে বসে সেই জায়গাটা হচ্ছে পৃথিবীর চারটি ভর্টেক্স পয়েন্টের একটি এবং সেখানে সে আসে। সে অবশ্য এখানে বাংলাদেশে, ঢাকায় ডেরা বেঁধেছে। এটা অনেকটুকু জানা গেল কিন্তু ওর বাসায় গিয়ে ওকে আঘাত করা যাবে না তাহলে হয়তো সিভিল কেস এর মধ্যে পড়ে যেতে হবে। কারণ, প্রথম পৃথিবী মানে আসল পৃথিবীর ইকবাল একই রকম এবং মামলাও খেয়ে যেতে হতে পারে। কারণ ইকবালের দ্বিতীয় সত্তা কিন্তু সরকার ধরতে পারবেনা। ইকবাল হয়তো দেখিয়ে দেবে সে বাংলাদেশের কোন মানুষ এবং তার এনআইডি আছে। যথা সম্ভব এটা শুনে বেশ কিছুক্ষণ চিন্তা করতে লাগলো ফারহান। তখন সে তনয় কে বললো, 'তুই একটা কাজ করতে পারিস। ওপেন চ্যালেঞ্জে চলে যা। তাহলে হয়তো ইকবাল আসলে লুকোচুরি খেলে তাকে আক্রমণ করতে পারবো আমরা।'
ভর্টেক্স পয়েন্টে এসে ইকবালকে ওপেন চ্যালেঞ্জ দিলো তনয় এবং বললো, 'তুই যদি না আসিস, তাহলে তোর যত ট্রিক্স আছে সব আমি জানি। সেগুলো নষ্ট করতে যা প্রয়োজন সব আমার জানা। তোকে শেষ করে দেয়া আমার জন্য কোন ব্যাপার না। তুই যুগে যুগে জনমে জনমে অণুমানবের এবং অনুবালকের একটা বড় শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছিস। এখন এই সময়ে এসে যদি আমার সাথে না চ্যালেঞ্জ না ধরিস তাহলে আমি তোকে ধ্বংস করে দেবো এবং তুই কিন্তু তখন আর আমাদের ফারহানকে ডার্ক মাল্টিভার্সে ঢুকাতে পারবি না। আমি এখন এক্সট্রিম লেভেল এ আছি। তখন হঠাৎ করেই যেন খুব দ্রুত চলে এসেছে ইকবাল। সে বললো, 'আরে কুলাঙ্গার, এখনো মানুষ হলি না। ছোট বাচ্চা, ছোট বাচ্চার মত থাকনা। আমাকে এসময় যদি ওপেন চ্যালেঞ্জ করিস তাহলে নিজের কিরকম সেন্স অব হিউমার আছে তোর জানা উচিত। নিজের ভেতর একটু লজ্জাতো থাকা উচিত।'
তখন অনুবালক হঠাৎ করে আকাশে উঠে গিয়ে একদম ঝড়ঝাপ্টার মত একটা জিনিসের কাণ্ড ঘটিয়ে বসলো। সে আকাশের মেঘ অণুতে বিভাজন করে এসিডে রুপান্তর করল' এবং সেটা সরাসতি ইকবাল ইকবালের উপর ফেললো।
ইকবাল হো হো হা হা করে হেসে উঠল। সে বলল এসিড বর্ষণ করছিস আমার লোহার বর্মের উপর। লোহা গলাবি? তুই আমার সাথে পারবি না। তখন হঠাৎ করেই তিহান হাতের একটা চুটকি মেরে ইকবালের সুট গায়েব করে দিলো।
ইকবাল প্রথমে বেশ অবাক হলেও নিজে নিজেকে সেকেন্ডের মধ্যে সামলে নিলো এবং সে বলতে লাগলো, 'এত বোকা কেন তুই? জানিস না আমি ব্যাকাপ রাখি সবসময়?' ইকবাল তার কোমরের বেল্টের গ্রিপে থাকা একটা সুইচ টিপে দিলো এবং সাথে সাথে সেই বেল্টের থেকে একটা টেকনো স্যুট তৈরি হলো। তার গোটা শরীর লোহার আবরণ দিয়ে ভরিয়ে ফেললো। তৈরি হয়ে গেলো তার শিরস্ত্রাণ।
এদিকে তিহান সেটা দেখে হো হো করে হেসে উঠলো। বললো, 'নরকের কীট নিজেকে কি মনে করিস? তুই কি জানিস তোকে এই মুহূর্তে শেষ করে দেয়ার জন্য আমরা কতজন প্রস্তুত?
ইকবাল তাচ্ছিল্যের সুরে বললো, 'নিকুচি করি তোরে। সব আমার হাতে আছে। সলিমকে ডাকছি দাঁড়া। এই দেখ একটা চুটকি মারলাম।'
চুটকি মারার সাথে সাথে সলিম সেখ হাজির হয়ে গেলো। সলিমকে দেখে সবাই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়লো। কারণ সলিমের এই ব্যাপারটা যেনোতেনো বিষয় নয়। তবে এদিকে নিশু আর গতিবালক ব্যস্ত রাখতে চেষ্টা করছে সলিমকে। ওদিকে হঠাৎ করে ইকবাল একটা সুইচ টিপতেই এবং সেখানে যেন এক মহানারকীয় কান্ড ঘটে গেল। ভর্টেক্সটা চলে আসতেই, হঠাৎ করে সেই ভর্টেক্সর ভেতর থেকে দেখা গেল একটা মুখ। তখন গতি বালক ফারহান চিৎকার করে উঠলো, 'আরে! এ তো সেই সুপার লর্ড। সুপার লর্ড এখানে চলে আসছে। তাড়াতাড়ি ভর্টেক্স টা বন্ধ কর নিশু।'
এরপর হঠাৎ করে নিশু একটা জিনিস জুড়ে দিলো সে ভর্টেক্সটার বাইরে থেকে ফ্রেমিং করে দিলো। মানে ওখান থেকে কেউ আসতে পারবেনা। বুম করে একটা বিকট বিস্ফোরণ হলো এবং সাথে সাথে ভর্টেক্সটা মিলিয়ে গেল সেখানেই।
নয়.
তিহান, ইকবালের সাথে অনেক বুঝে শুনে চলতে গিয়েছে। এই কথাটা সবারই জানা। কিন্তু ইকবাল এমন চিট করে তিহান কে যে অনেক দূরে পাঠিয়ে দেবে, এটা আসলে কেউ বুঝতেই পারেনি। অবশ্য এই দিক থেকে, বলতে গেলে তিহানের এক্সট্রা অর্ডিনারি পাওয়ার বা যে ক্ষমতা সেটা অনুযায়ী ইকবাল একেবারেই নগণ্য সেটা বুঝতে পারেনি। কারণ, যদি সে তার ক্ষমতার অন্যতম অংশ এটম ম্যানিপুলেশন প্রয়োগ করে তাহলে কিন্তু ইকবাল পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। ইকবালের জন্য আলাদা রকমের স্পেকুলেশন তৈরি করতে হলো ফারহানকে এবং তিহান নিজেও বেশ কিছুটা স্বাপ্নিক ছিলো এ ব্যাপারে। এটা হলো একটা ব্যাপার। কিন্তু সবচেয়ে বড় একটা ইস্যু আসলো, যখন দেখা গেলো যে সলিম সেখ যখন পৃথিবীর উপর জোরেশোরে একটা খুব বড় ধরনের আঘাত করলো তখনই সেই প্ল্যানটা ভেস্তে দিলো অনুমানব তনয়।
ফারহানের কাছে যখন বললো অনুমানব তনয়, তখন তিহান জিনিসটাকে বেশ গুরুত্ব সহকারে নিলো।এইজন্য, যে সে তার বাবা ও মিশু আংকেলকে একতাবদ্ধ হতে বললো। মিশু ও খুশি হয়েছে তার বন্ধু তনয় এখানে পৃথিবীতে আছে বলে। সে আসলে বিজ্ঞানের উপর ভরসা করেই তনয়ের সাথে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে চাচ্ছে। তিহান প্রথমেই একটা প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করতে চাইলো অনেকটা বড়োসড়ো। কিন্তু সেই একটা কথায়, একটা দিক থেকে চিন্তা করলো যদি কোনো কারণে সুপার লর্ড চলে আসে তবে কিন্তু খেলার ছক পাল্টে যাবে। কারণ, কাম্পা, সলিম আর ওদিকে ইকবাল এই তিনজনকে হয়তো কোনো রকমে আটকে দেয়া সম্ভব। কিন্তু সুপার লর্ডকে কোন ভাবে না। যেটা তারা বুঝতে পেরেছে এই নিশুর কাছে থেকে। নিশুও যেটা বলে, সেটা সব সময় সঠিক হয় কেনো জানি। ও আর ওর বাবার উপর অনেকটা ভরসা রেখে নিশ্চিন্ত মনে কাজ করা যায়। তাই তারা চিন্তা করলো ইকবালকে কোনো কারণে যদি ক্ষমতাহীন করা হয় সেজন্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার কোন বিকল্প নাই। তাই বুঝে শুনে সে একটা প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করার জন্য পৃথিবীর উপরিভাগে চলে এলো।
ধরে ধরে এস্টেরয়েডগুলোকে নিয়ে পৃথিবীর চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিতে লাগলো। ঠিক যেমন ইটের গাঁথুনি সব একত্রে মিলে যখন একটা সুন্দর ফলের মতো হলো, তখন সেগুলো যেন অনেকটা স্বয়ংক্রিয় হয়ে উঠলো। মনে হচ্ছে যখন সলিম শেখ আসবে, হয়তো কোন একটা অসুরের শক্তিতে তিহান এগুলো পাঠাবেই সলিম শেখের দিকে। কিন্তু, সেটা কোন শক্তির বলে? শারিরীক নাকি আত্মিক? তার উপর অনুমান যদি সঠিক হয় তাহলে তাকে কোন রকমে থামানো যাবে। কিন্তু আত্মিক হলে তাকে কোনোভাবেই থামানো যাবে না।
এভাবে একটা সময় সমস্ত ধরনের কাজ সম্পাদন করলো তিহান। কিন্তু সে জানতো না তার জন্য কত বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। যখন সে পিছনে ফিরে তাকালো, তখন দেখতে পেলো এই ভয়ংকর সলিম শেখ মহাশূন্যে তার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে আছে।
'ওয়েল ইয়ং জেন্টলম্যান! তুমি কি করছো? তোমাকে পেয়ে গেলাম একেবারে হাতের নাগালে। তোমার বাপ কি জানে আমরা এখানে এসেছি?
তখন তিহান বেশ রাগের স্বরে বললো, 'হারামজাদা আমার কথা তোদের মনে ছিলো তাহলে?'
'আমার সাথে একা পেয়ে লড়াই চলবে নাকি? মহাশূন্যে চলে এসেছি। তোদেরকে তো আসলে ছেড়ে দেয়া যায় না। মন ছাড়তে চায় না। তোদেরকে এখানে খতম করবো।'
এটা বলার পর যখন সলিম তার দিকে তাকালো তখন তার মনের ভেতরে এক ধরনের ভয় সৃষ্টি হলো। সে ভাবলো সলিম যদি কোনো কারণে তাকে মহাকাশে মেরে চলে যায় তাহলে তাকে কোনভাবে আর খুঁজে পাবেনা। ইকবাল যে কি বিপদ সাথে করে নিয়ে এসেছে!
তখন তিহান বললো, 'সলিম তুমি যতই জারিজুরি করো, যত কিছুই হোক না কেনো, সব সময় মাথা রাখবে যে-খারাপ সে খারাপ। তার খারাপের প্রায়শ্চিত্ত তাকেই করতে হবে। আর প্রায়শ্চিত্ত যদি করতে না পারো তাহলে তোমাকে নরকের আগুনে পুড়ে মরতে হবে। এটা মাথায় রাখবে। তখন সলিম কিছু বলল না, শুধু একটা মুখের হাসি দেখানোর সাথে সাথে একটা চুটকি বাজালো। হঠাৎ করে তিহান লক্ষ করলো সে আর তার জায়গায় নেই। সে যেন মহাশূন্যের ওপর গভীর দিকে চলে যাচ্ছে, যেখানে সূর্য থাকে। সেদিকে সলিম সেখ ঠিক একটা সময় এসে তিহান কে জড়িয়ে হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে গেলো এবং চলে এলো পৃথিবী ছেড়ে অনেক দূরে। এলো ঠিক সূর্যের সামনে এখান থেকে পৃথিবীতে একটা বিন্দুর মতো দেখা যাচ্ছে। সলিমের ঠিক পাশেই এসে দাঁড়িয়েছে ইকবাল।
সলিম শেখ তখন তাকিয়ে রয়েছে দিহানের দিকে। বললো, 'কোথায় গেলো তোমার শক্তি বাচ্চা? তুমিতো সত্যিই এখনো পর্যন্ত প্রদর্শন করতে পারোনি। তোমার ক্ষমতার কোনো দাম নেই। কেনো জানো? কারণ তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আমার ভেতর আছে এটা হচ্ছে একটা ঐশ্বরিক শক্তি, যার সাথে তুমি কখনো পেরে উঠবে না। এটা শুনে মাথা গরম করে তাকালো তিহান সলিমের দিকে। হঠাৎ করে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে হাতের তালুর ধাক্কা দিয়ে সূর্যের দিকে পাঠিয়ে দিলো। আস্তে আস্তে সূর্যের দিকে ছুটতে শুরু করেছে তিহানের দেহটা। আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাচ্ছে সে। গরম কমলার রস নির্গত হচ্ছে সূর্য থেকে। না, তাকে তাকে দেখতে অনেকটা কালো বিন্দুর মত লাগছে। ইকবাল সেই দৃশ্যটা দেখে মাথা ঘুরিয়ে তাকালো পেছন দিকে।
ইকবাল খুব আত্মবিশ্বাসের সাথে তাকিয়ে তার দিকে। সলিমকে বললো, 'কাজ কি সমাধান হয়েছে সলিম?
সলিম হেসে বললো, ' জ্বি, জনাব! আপনার কর্মসম্পাদন হয়েছে।'
দশ.
তিহান চলে যাওয়ার নয় দিন পার হয়ে গেলো। ইকবাল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ এখনো পারেনি। পৃথিবীর অনুমানব বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় তার যে শক্তি আছে সেগুলো প্রদর্শন করে যাচ্ছে এবং অনুমানবের আক্রমণ প্রতিরোধে ইকবাল ও কিছুটা স্থিতি অবস্থায় আছে। ইকবালকে ঠেকানোর জন্য অবশ্য ইতিমধ্যে মিশু ও রানার এসে হাজির হয়েছে। মিশু তার সমস্ত রকম শক্তি ও ক্ষমতা নিয়ে তাদের উপরে আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে এসেছে। এদিকে রানার, ত্বরণ ও গতিবালক ফারহানকে নিয়ে সেই ইকবালের পিছনে ধাওয়া করছে। কিন্তু, ইকবাল প্রতিবারে নিজেকে বাঁচিয়ে নিচ্ছে তার সহযোগী সলিম ও কাম্পার পাওয়ারের কারণে। তাই সে এখন অনেকটুকুই নিশ্চিতভাবে নিরাপদ। তবে বেশ ভাববার বিষয়, সুপার লর্ড কয়েকদিন পরেই যদি চলে আসে তাহলে; হয়তো অবশ্যই পৃথিবী কে দখল করে নিতে পারা যাবে এবং পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেলে কিন্তু আস্তে আস্তে পৃথিবীর উপরে সুপারহিরোদের কর্তৃত্ব কমিয়ে আনা যাবে। এটা ভেবে ইকবাল তার নিজের ডেরায় বেশ হাসিখুশি ভাবে চেয়ারে বসে ছিলো। এমন সময় হঠাৎ করে সে একটা গুড়ুম আওয়াজ পেলো আকাশ থেকে। সেই আওয়াজে সে মহা বিরক্ত হয়ে বললো, "আবার কি?"
সলিম বললো, 'এখন তো কেউ আসার কথা নয়। তাহলে কে এল ইকবাল ভাই?'
এদিকে সলিমের চোখ বড় বড় হয়ে গিয়েছে আকাশের দিকে তাকিয়ে। 'আরে একে এযে একজন সূর্য পুরুষ তার গোটা শরীর আগুনে জ্বলছে যেনো।'
সে নিজের প্রচন্ড গতিতে পৃথিবীতে আসছে ঠিক তাদের বরাবর। এমন সময় সে চিৎকার করে উঠলো। 'ইনকামিং' বলে সে ইকবালকে সাথে সাথে একটা কেবিনের ভিতরে ঢুকিয়ে দিলো এবং নিজেই একটা প্রতিরক্ষা ব্যূহ হয়ে গেল।
সেই সূর্য পুরুষ যখন গোটা ভবনের একটা অংশ ফেটে ইকবালের উপরে এসে থামলো, ততক্ষণে প্রায় ওই অংশটা পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। তখন সলিম শেখের দিকে তাকিয়ে বললো, 'কোথায় বল?! তাকে ডাক! আমি আজকে ওকে শেষ করে দিবো।'
তাকে দেখে সলিম শেখ রাগে গজগজ করতে বললো, 'তুই কে?'
তখন সেই সূর্যপুরুষ বললো, 'আমি অগ্নিপুরুষ মহাকালের সাক্ষী ওরে কাপুরুষ! আমি অনুবালক।'
তিহানের এই নতুন রূপ দেখে আতঙ্কে এবং বিস্ময়ে চিৎকার করে উঠলো সলিম। সূর্যয় চলে গিয়ে সেখানকার এত ক্ষমতা কিভাবে শুষে নিয়ে এল তিহান? এর গায়ে আগুনের নীল ও হলদেটে শিখা, এটা দেখে সে আসলে খুব ভেঙে পড়লো। সে মানসিকভাবে হয়তো কিছুটা দুর্বল হয়ে যাচ্ছে মনে হলো। কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে সলিম শেখ একেবারে তিহান বরাবর তার সেই চোখ থেকে রশ্মি ছেড়ে দিলো। চোখের রশ্মি, হাতে এক লহমায় নিয়ে সেটাকে পানিতে পরিণত করে দিলো অনুবালক। বললো, 'তুই আমাকে এখনো বোধহয় চিনিস নি। আমি হচ্ছি অনুমানবের ছেলে অনুবালক। গর্দভ!'
ভীষণ পুষ্ট শরীরের ঝাঁকালো চুল লম্বা সলিমের গোটা শরীরটা একটা মহাজাগতিক শক্তির আধার। এমন সময় সে হঠাৎ করে ভ্যানিশ হয়ে তার বিপুল পরিমাণ বেশি শক্তি দিয়ে গ্রাস করার চেষ্টা করলো তিহান কে। পিছন থেকে গলায় হাত চাপায় আটকা পড়লো তিহানের পেছনের গলার অংশ। কিন্তু তখনই সে সলিমকে অবাক করে দিয়ে ডান হাতটা একেবারে হাত পুড়িয়ে দিলো। সলিম শেখ আতঙ্কে ও ব্যাথায় চিৎকার করে উঠলো। তার হাত পুড়ে গেছে অনুবালকের আগুনে। এটা সে কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারলোনা। এটা দেখে বেশ ভয় পেয়ে সেই কুঠুরির ভিতর আরো বেশি যেনো সেঁধিয়ে গেলো ইকবাল। সেখানেই থর থর করে কাঁপতে লাগল। এমন সময় তার মাথায় এলো যে আমি যদি এখন সুযোগ পেয়ে স্যুট পরে তাকে মারতে পারি, তাহলে হয়তো আমি নিজেকে রক্ষা করতে পারবো। কিন্তু স্যুট ছাড়া এখানে প্রতিরক্ষা করা অসম্ভব। এটা ভেবেই সে সাথে সাথে তার শরীরে কাঁধের উপরে অ্যাটাচ করা একটা বাটন ক্লিক করলো এবং সাথে সাথে স্যুটটি চলে এলো। একটি মাত্র স্যুট যার প্রতিস্থাপন অটোমেটিক হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। এই স্যুটটি টেকনোলজিক্যাল এডভান্সমেন্ট এর কারণে বেশ ভালোভাবেই ডিজিটাল হয়ে গিয়েছে। অংশে অংশে বা খণ্ডে খণ্ডে থাকা কয়েকটি শিরস্ত্রাণের অংশ জন্ম দেয় এবং গোটা শরীর আবৃত হলে তখনি সে প্রচন্ড শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
গোটা শরীরে যখন সেই ডিজিটাল শিরস্ত্রাণ তার গায়ে ফিট হয়ে গেলো, স্যুটটি তার গোটা শরীরে লেগে খাপে খাপে হয়ে গেল। তখন সে উঠে দাঁড়ালো আর তিহানের দিকে ছুঁড়ে দিলো অবিশ্বাস্য সেই কয়েক হাজার ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা সম্পন্ন এক বোমা। তিহান সেটাকে হাতে নিয়ে খেলা করতে লাগলো। সেই শক্তিকে সে বলের মত করে ফেললো। তিহান বেশ অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইলো। ইকবাল তখন পরমাণু কেন্দ্রীকরণ একটা প্রোজেক্টাইল বোমা ছুঁড়ে দিলো তিহানের দিকে। তিহানের দিকে ছুঁড়ে দেয়ার পরপরই তিহান সেটা ধরে গাপ করলো।
তখন তিহান একটু ছিটকে গিয়ে মাটিতে পড়লো এবং বললো, 'ইকবাল কিরে তুই কি বানিয়েছিস? আর আমার দিকে ছুড়ে মারলি এটা?'
তখন ইকবাল বললো, 'তুই যেটা নিয়ে কাজ করিস, সেটা নিয়েই আমি কাজ করেছি নেগেটিভ ভাবে; যেটায় তোর অসুবিধা হবে।'
তখন ইকবাল আরেকটি ছুঁড়ে দিতেই তখন অগ্নিদৃষ্টিতে সেটা মুহূর্তের মধ্যেই যেন ভ্যানিশিং ক্রিম এর মত হারিয়ে গেলো এবং সেখানে জায়গার উপরেই ধ্বংস হয়ে গেলো।
ইকবাল বেশ অবাক হয়ে গেলো। বললো, 'তুই এটা কিভাবে পেয়েছিস? এই শক্তি তো তোর আগে ছিলোইনা।
তিহান বললো, 'আমি যখন সূর্যে চলে গিয়েছিলাম, সলিম শেখ যখন আমাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলো সূর্য তে; তখনই কোন একটা নেগেটিভ পাওয়ার কন্সাম্পশন আর আমার শরীরে এক হয়ে গেছে। তখন থেকে আমি যখনই কোন বস্তুর দিকে তাকাই, সেটা সাথে সাথে ধ্বংস হয়ে যায়। এর মানে হলো শক্তি বিকেন্দ্রীকরণে আমার যে শক্তি ও সামর্থ্য আছে সেটা সূর্য থেকে আরও বেশি রূপে এসেছে। যার কারণে আমার চোখ যে কোন জিনিসকে চোখের পলকের মাধ্যমে আমি ধ্বংস করে দিতে পারবো।'
এ কথা শোনার পর পরই ইকবাল তিহানের দিকে একটা বিশাল বড় ধরনের আক্রমণ দেয়া শুরু করলো। সে তার হাতের বাহুডেরে থাকা এবং আটকে থাকা একটা মিসাইল রকেট সিস্টেম চালু করে দিলো। এই ছোট্ট মিসাইল সিস্টেমটা প্রজেক্টরের মাধ্যমে সরাসরি আক্রমণ করে বসলো তিহানকে। রকেট হওয়াতে এর ভেতরে থাকা সেই ছোট ছোট গুচ্ছ বোমা গুলো পড়তে শুরু করলে, তিহান তখন হেসে বললো, 'তোর সব খেল খতম। তুই কি আগের মত ভেবেছিস যে তুই আমাকে মেরে ফেলে দিতে পারবি? আমাকে আঘাত দিয়ে যখন করতে পারবিনা, তোর এসব গাইডেড মিসাইল দিয়ে মোটেও না।'
এমন সময় শয়ে শয়ে কাম্পা সেখানে হাজির হলো। যেনো চারপাশ থেকে ইকবালকে ঘিরে ধরেছে আর ওদিকে সলিম শেখ গোঙাতে গোঙাতে কখন যে উঠে পড়েছে তাদের পেছনে, খেয়াল নেই এবং ঠিক তখনই তার আশেপাশে দেখা গেল তার পরিচিত চেনা সেসব মানুষ গুলোকে। অনুমানব, তারপর রাতের প্রহরী, নিশু, রানার তারপর গতিবালক ফারহান এবং সবশেষে ত্বরণ। এদের চারজনের সাহায্যে তিহান যেন একত্রে একটা বিশাল শক্তি প্রদর্শন করতে শুরু করলো। কিন্তু সাথে সাথে তার পিঠের পেছনে সলিম শেখ ভোজবাজির মতো হাজির হয়ে আক্রমণ শুরু করে দিলো। তার হাতে থাকা ধারালো লোহার নখ বসিয়ে দিলো তিহানের পিঠে।
তিহান এমন যন্ত্রণা পেলো। এমন যন্ত্রণা যে তার শরীরের ভেতরে এক অদৃশ্য শক্তি ঢুকে গেছে। এদিক থেকে তিহানের পিঠে ঢুকে যাওয়ায় তার শরীরের শক্তি কমে আসছে যেো।ন সে আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। এটা দেখে তাড়াতাড়ি মিশু চলে গেলো তিহানের কাছে। তার মুখ বরাবর একটা জিনিস ঢুকিয়ে দিলো। অনূমানব লোহার একটা ভারি পাইপ অণুতে বিভাজন করে সেলিম শেখের গলা বরাবর তাক করলো। এতে দেখা গেলো গলার একটা বেড়িতে পরিণত হয়েছে সেটি। গলায় সেটা আটকে যাওয়াতে সলিম শেখ সেখানে ধপাস করে পড়ে গেলো। অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে বোধহয় সলিম শেখ। ওদিকে ইকবালের দিকে গেছে রানার, ত্বরণ ওরফে আলভী ও অণুমানব। ইকবালের শরীর থেকে ফটা ফট সমস্ত শিরস্ত্রাণের মানের বর্মের খন্ডগুলো ভেঙ্গে পড়তে শুরু করলো এবং এটা শুধুমাত্র সম্ভব হয়েছে অনুমানবের কারণে। সে পরমাণু শক্তিকে তার মনন শক্তির সাহায্যে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে ইকবালের গোটা শিরোস্ত্রাণটাকে অণু-পরমাণুতে কনভার্ট করে নিয়েছে। যার কারণে, গোটা শরীরের যত কিছু অংশ আছে; সমস্ত খন্ড গুলো গুঁড়ো হয়ে গেলো ইকবালের আর্মর স্যুট থেকে।
ইতিমধ্যে নিশু এসে বিশাল লম্বা ইলেক্ট্রোফায়েড রড দিয়ে সমস্ত কাম্পাকে মুখ ধরে ধরে মারতে শুরু করলো। যেহেতু তারা মানুষ নয়। অদ্ভুত রকমের প্রাণী, তাই মিশু ওরফে রাতের প্রহরী সেটাতে তাই কোন বাধা দিল না। নিশু সমস্ত কাম্পাকে মেরে সেখানে হঠাৎ করে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো। তিহানের শরীর থেকে আস্তে আস্তে লালচে আগুনের শিখা টা যেন কমে গেছে। ওকে এখন প্রায়ই নিস্তেজ লাগছে। এমন সময় নিশু উদ্ধার করে অনুমানবকে ডাক দিলো। 'আঙ্কেল' চিৎকার শুনে নিশুর দিকে তাকালো অণুমানব।
মিশু, সে তার মুখোশের গ্লাসে থাকা এ আইতে নিজের চোখ দিয়ে স্ক্যান করে বুঝতে পারলো কিছু একটা। চিৎকার করে উঠলো, 'ও মাই গড এটাতো এক ধরনের বিষ ইঞ্জেক্ট করে দিয়েছে সলিম।এই অদৃশ্য বিষটাকে তিহানের শরীর থেকে বের করতে না পারলে তিহান পুরোপুরি মারা যাবে।'
তখন কান্নাকাটি শুরু করে দিলো আলভী ও গতি বালক ফারহান। ফারহান বললো, 'আঙ্কেল ও কে বাঁচানো যায় না?'
নিশু স্তব্ধ হয়ে গেছে। মিশু ও রানার কোমরে হাত দিয়ে চিন্তিত ভঙ্গিতে তাকাচ্ছে এবং এদিক সেদিক তাকিয়ে কোনো কূলকিনারা করতে পারছে না।
তখন হঠাৎ করে তাদের সামনে চলে এলো তাদের অকৃত্রিম বন্ধু-"গ্র্যাভিটি মাস্টার" ইব্রাহিম। ইব্রাহিম তার বন্ধুর দিকে তাকিয়ে বললো, ''অণুমানব ভয় পেয়ো না।'
ইব্রাহিম দু'আঙ্গুলে দুই হাতের তর্জনী সরাসরি তিহানের দিকে তাক করলো এবং ওর মুখ দিয়ে সেই অদৃশ্য বিষটি বের করে আনলো। তিহান আস্তে আস্তে হঠাৎ করে চোখ মেলতে শুরু করলো। তারপর দেখা গেলো তিহানের দিকে সবাই বিস্ময়ের চোখে তাকিয়ে আছে। এমন সময় হঠাৎ করে তিহান দপ করে জ্বলে উঠলো অপেক্ষমান জনতার সামনে। গোটা শরীরটা লালচে কমলা আগুনে বিস্তৃত হলো। সবাই ভয় পেয়ে চারপাশে ছড়িয়ে গেলো। তখন সে দাঁড়িয়ে বললো, 'কি হলো? কি হয়েছে? আমি এতক্ষণ এখানে ছিলাম কেনো?' সবাই বোঝাল ব্যাপারটা তখন।
গ্র্যাভিটি মাস্টার ইব্রাহিমকে আস্তে করে বুকে টেনে নিল তিহান। আজকে যদি আপনি না থাকতেন আংকেল, তাহলে হয়তো আমি মারা যেতাম। তখন গ্র্যাভিটি মাস্টার তার মাথার ওপরে হাত বুলিয়ে আদর করতে লাগলেন। বললেন, 'আমাদের ছেলেকে যদি আমরা বাঁচিয়ে না রাখি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অতিমানবেরা কিভাবে পৃথিবী কে বাঁচাবে? তাই এসব না ভেবে তুমি শুধু তোমার কাজ করে যেতে হবে, এটাই সব সময় মাথায় রাখবে।'
প্রবীণের কথায় নিজেকে বেশ আশীর্বাদপুষ্ট মনে হলো। তিহান তখন তার বন্ধুদের জড়িয়ে ধরলো। আনন্দের কান্না। কিন্তু সে আনন্দের কান্না কি সব সময় থাকবে? না হয়তো। কাল কোনো একটা ভয়াল রাত নেমে আসবে আবার। আমরা তখন শুনবো না হয় রাত নামার গল্প।
রাতের প্রহরী- রাত নামার গল্প
এক.
পুরানো ঢাকায় লাল নীল স্বপ্নের সন্ধ্যা নেমে আসতেই ঘরে ফেরার তাগিদ বেড়ে যায় মানুষের। আজ এতো বছর ঢাকার বয়স। যেনো নিজস্ব গন্ডি থেকে বেরুতে পারেনি আসল ঢাকা। এই ঢাকাই তো রাজধানী। এই ঢাকাই তো প্রাণ। এই পুরানো ঢাকার পরতে পরতে মিশে আছে অসম্ভবের রাজ্যজয়। এখানেই তো ইতিহাস গড়ে উঠেছেছে কয়েকশো বছর। বাংলার মুসলিম দর্শনের ভিত গড়েছে এই ঢাকা। মসলিন, মুঘলে মিলেমিশে একাকার হয়েছে।
এই ঢাকা কতকালের স্মৃতিবিজড়িত ইতিহাস বহন করছে কে জানে? এক সময় কার সেই নবাবী আমলের খাসকামরা ওয়ালা বড় বড় প্রাসাদ এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে আছে এবং কালের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দেশে বহন করছে কৌতুক, কত স্মৃতি কে নিয়ে বেড়াতে হচ্ছে পুরান ঢাকার সেই প্রাসাদোপম ভবনগুলো এবং তারা আজও সেই স্বাক্ষর বহন করে চলেছে ঢাকার জন্য। ঢাকা এখন যেন অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। ঢাকার বিস্তৃতি ঘটেছে নদীর এপারে ওপারে। দেখতে বড় মায়াময় এ ঢাকা, আবার নিষ্প্রাণ ঢাকার প্রাণ নিয়ে সন্দিহান ঢাকাবাসীরাই।
সেই ঢাকা আজ এখনও একই রকম আছে। এই ২০৩৮ সালে। তবে ফরাজি বাড়িটা বদলে গেছে বাইরে থেকে। মানুষগুলো ও নেই আগের মতো। শুধু নেই জাইমা। তার কোমায় চলে যাওয়া যেনো বদলে দিয়ে মিশুকে। সেই বিশ বছর আগে যেমন উচ্ছ্বল উজ্জ্বল জাইমা ডেলিভারির সময়টাতে মিশুর মুখে হাত রেখে বলেছিলো, "আমার ছেলে তোমার মতোই হবে। কঠিন, কোমল, সৎ, নির্দয়।"
ঢাকার মেয়র হওয়ার পর থেকে মিশুকে অনেক ঝড়ঝঞ্ঝা সহ্য করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়েছে এবং খুব ভালোভাবে সমস্ত ঝামেলা চুকিয়ে এই রাতের প্রহরী রোলটা সবসময় প্রমাণ করতে পেরেছে এবং সেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে কতটুকু তা নির্ভার থেকে দ্বায়িত্ব পালন করে সেটাও বুঝিয়েছে সাথে সাথে। তার ছেলেও তাকে সাহায্য করতে করতে একটা দক্ষতায় পৌঁছে গেছে। নিশু আসলেই খুব ভালো এবং সৎ নির্ভীক হয়েছে তার বাবার মতো, যেমনটা তার মা বলেছিলো এবং নিজস্ব সবকিছু ছাপিয়ে নিজের একটা অস্তিত্ব প্রমাণ করেছে গোটা ঢাকার ভেতর। সে আজ আতঙ্কের নাম অপরাধীদের কাছে তার বাবার মতই।
কিন্তু মায়ের অনুপস্থিতি নিশুর মনের ভেতরে খুব পীড়া দেয়। মাকে ছাড়া যে কোনো সন্তানের জীবন যে অচল এটা শুধুমাত্র বুঝিয়ে দিয়েছে মায়েরে কোমা। মায়ের কোমা থেকে উঠে আসা টা তার জন্য বেশ গর্বের এবং সৌভাগ্যের হবে বলে সে আজও বিশ্বাস করে। নিশু মনে করে সে তার মা-বাবা তিনজন মিলে গোটা ঢাকায় চষে বেড়ানোর মতো সেই ক্ষমতা রাখে। তার মা যে কত বড় একজন বীরাঙ্গনা ছিলেন এই ঢাকার জন্য সেটা সে তার বাবার কাছ থেকে এবং বিভিন্ন নথিপত্র থেকে শুনেছে। আর তাইতো সে তার মা-বাবার গুণ গুলি চারিত্রিকভাবে খুঁজে পেয়েছে তার নিজের ভেতরে এবং আজও সে সেটাই বহন করে চলেছে।
সেই নিশুর আজ আঠারো পার হলো। সাথে আছে ইউনিভার্স ৩ এর দ্বিতীয় গ্রহ থেকে আসা, সতেরো সদ্য পা দেয়া প্রেমিকা নিশিথীনী। দুজনের একসাথে ক্রাইম ফাইটিং অনেক বড় একটা ভূমিকা রাখছে এ শহরে। সাথে মজিদ কাকার অসম্ভব ভালোবাসা সংসারে রেখেছে এক অন্যরকম ছাপ। মিশুর প্ল্যান মেয়র পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর নিশু ও নিশিথীনীর বিয়ে দেয়া। তবে, সে আরও দু তিন বছর পর। আপাতত নিশু "অতন্দ্র প্রহরী" তকমা নিয়ে সেঁটে থাকুক অপরাধ দমনে।
নানা হাসমত ফরাজির গ্লোভটা পড়ে রাত বারোটার আগেই নিশু টহল দিচ্ছে। তার অবশ্য এখন ব্যাক আপ দরকার নেই। তবে ইদানীং শুনেছে যে কে একজন শহরে এসেছে দাপট দেখাতে। এতোটুকু দেখারও দরকার নেই। কিন্তু লোকটা সরাসরি রাতের প্রহরীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। যদিও জানেনা যে মেয়র মিশুই রাতের প্রহরী।
চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসে মিশু। এই চ্যালেঞ্জ নিতে নিতে পঞ্চাশের কাছাকাছি বয়স হয়ে এলো মিশুর। ছেলে বড় হয়ে এলো। ফরাজি কন্সোলিডেটেড এক সুউচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। শহরে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, রাহাজানি শূন্যের কোঠায় নেমে যাচ্ছে। তবে কেউ বিশ্বাস না করুক, ভেতরে ভেতরে যে মাফিয়া অ্যাক্টিভিটি বেড়ে গিয়েছে সেটা মিশু স্বীকার করে। এই বিষয়ের নিরাপত্তা মিশু দিতে পারছেনা। কারণ, এক পক্ষকে ধরপাকড় করলে আরেক পক্ষের উত্থান হয়। তবে, আজ ফয়সালা হলো। ফয়সালা হলো মিশু এর বিরূদ্ধে নামবেই।
একটা মিশনে এসেছে সে মোহাম্মদপুরে। একটা সোর্স বলছে এখানে নাকি রাতে বেশ হই হুল্লোড় করে জিম্মি, অপহরণ করে একদল গ্যাং। মূলত এই গ্যাং লিডার কে ধরতে হবে। যদি কোন কারণে এই সোর্স সেই লোকটার কথা এক্সপোজ করে দিতে পারে তাহলে তাকে ধরে ফেলা খুব সহজ হবে। কারণ, ওই লোকটার মধ্যে নাকি খু্ঁজে পেয়েছে এক ধরনের অলৌকিক শক্তি। তার অলৌকিক শক্তি দিয়ে মূলত ঢাকার মাফিয়া চক্র কে এক হাতে নিয়ে নিয়েছে এই লোকটি। তবে ভাসাভাসা তথ্য উদঘাটনের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে যে, এই লোক পৃথিবীর কোন অতি মানবীয় শক্তির মানুষ নয়। সে অবশ্যই এই মহাজগতের কেউ একজন হবে যে তার শক্তি দিয়ে গোটা মাফিয়া চক্র কে কব্জা করে নিতে চাচ্ছে। এমন কথা বেশ দৃঢ়ভাবে বলেছে সোর্স। তাই মিশুর সাথে একমত হয়নি। সে তাই একা এই অভিযানে নেমেছে। যদি কোন ক্রমে ধরা খায় ওই গ্যাংলিডার,কাঙ্ক্ষিত ঐ লোকটিকেও তাহলে ধরে ফেলা যাবে। এই ধরনের একটা কথা শোনা যাচ্ছে অতিমানব পাড়ায়।
দুটো পাঁচ তলা বিল্ডিং এর উপর থেকে মিশু দাঁড়িয়ে নিচ থেকে উপর, উপর থেকে নিচে পর্যবেক্ষণ করছে। একটা গাড়ী এসে থামলো দুই বিল্ডিং এর মাঝখানে এরপর ব্যাগ দিয়ে একটা লোককে দেখা গেল গাড়ি থেকে নেমে ঢুকে যেতে। তাকে দেখেই সচকিত হয়ে দুজন দুজনের দিকে তাকালো একে তো চেনা যাচ্ছে। এই লোকটাকে বহুবার সরকারি আমলাতন্ত্রের ভেতরে মিশু ও নিশু দেখেছে। মিশু এবং নিশু কথা বলছিলো যাকে নিয়ে, সে উদীয়মান একজন মাফিয়া। তার উত্থান হয়েছে সাথে সাথে। এটা দেখে মিশু বেশ খানিকটা অবাক হয়ে গেছে। মিশুর মতে গত কয়েক বছরের আগেও এতো
ভালো অবস্থা ছিল না। হঠাৎ করে গত এক-দেড় বছরের মধ্যেই সে প্রচুর টাকা পয়সা কামিয়ে আঙ্গুল ফুলিয়ে কলাগাছ বানিয়েছে। দুজন নেমে আসলো নিচে এবং ব্যাকডোরের সামনে যখন টোকা দিলো তখন বিশালদেহী একজন লোক এসে দরোজা আঁকড়ে দাঁড়ালো।
'কি চাই? বলুন, আপনারা কেন এসেছেন এখানে?'
ঝটিতি প্রশ্নে গভীর ভাবে তাকে দেখলো মিশু। মিশু বললো, 'এসেছি একটা কাজে। কিন্তু এখন কোন কোড বলতে পারবোনা। তুমি নিশ্চয়ই জানো যে আমি রাতের প্রহরী। তোমার সাথে আমার অনেক কথা হবে পরে। কিন্তু আমাকে আপাতত ভেতরে যেতে দাও। তখন লোকটা হঠাৎ করে মিশুর গলা চেপে ধরতেই মিশু আচমকা একটা তায়কোয়ান্দো কিক দিলো বুক বরাবর। ওঁক করে একটা আওয়াজ হলো। মনে হলো যেন লাথিটা খেয়ে সে চোখে অন্ধকার দেখা শুরু করেছে। মিশুর ব্যক্তিগতভাবে বানানো স্পেক্টাম গ্রানাইট বুট। সত্যি সত্যিই গ্রানাইট গলিয়ে বুটের নীচে চারপাশে দেয়া হয়েছে। যে খায় সে বোঝে। সাথে সাথে লোকটা ওর বুকে হাত দিয়ে মাটিতে বসে পরলো। ইশারায় দেখালো সোজা ওদিকে।
লম্বা করিডরের পরে সামনে এগিয়ে যেতে দেখা গেলো আরেকটি দরজা। দরজার মাঝখানে একটা কাঁচ। কাঁচের সেই ফ্রেম ভেদ করে আসছে। লাল রঙের আলো। দরজায় টোকা দিতেই একজন লোক সেও বিশালদেহী পথ আগলে দাঁড়ালো। বললো, 'কার কাছে এসেছেন?'
কোন উত্তর না দিয়েই, মিশু ঘুসি মেরে বসলো তার পেটে। আগের মতোই লোকটা এবার এক ঘুষিতে চিৎপটাং হয়ে পড়ে রইল মাটিতে। এটা দেখার সাথে সাথে দুজন লোক এলো তেড়েমেরে তার কাছে এবং মিশুর পায়ের সামনে ছিল একটি পাথরের টুকরো। পাথরের বাড়ি খেলে মাথায়, যে কারোরই অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ার কথা। অবিশ্বাস্যভাবে পাথর ডিগবাজি খেয়ে ছুটলো, একজন নয় দুটো মানুষের দিকে। প্রথমজন বাড়ি খেয়ে পড়লো পরের জনের মাথায়। দুই মাথা ঠুকে গেলো। দ্বিতীয়জন দেয়ালে ঠুকলো। প্রায় একই সাথে একই সময়ে ধড়াম করে পড়লো দুজন এবং সাথে সাথে বিকট চিৎকার করলো তারা। দুজন মিলে চিৎকার করায়, সেটা শুনে বেশ কয়েকজন লোক ডজনখানেক হবে; সশস্ত্র অবস্থায় দৌড়ে এলো এবং প্রায় ১২ ফুট দূরত্বে থেকে গুলি করা শুরু করলো। ভাগ্যিস নিশু ও মিশুর দুজনের গায়ে কিন্তু মেটাল আর্মর স্যুট ছিলো। এমন সময়ে মিশু তার কোমরের বেল্টের খাপ থেকে হঠাৎ করে দুটো ছোট ছোট পাকুড় ফলের মত জিনিস ছুঁড়ে দিলো তাদের মাঝখানে।
'এই জিনিসটাকে এটাকে বলে স্ক্র্যাকার। এটা খুবই ভয়ঙ্কর একটা জিনিস। এটা বিস্ফোরিত হলে হাড্ডি ফেটে যাবে কিন্তু মাংস ছিঁড়ে যাবে না। তাহলে কেন তোমরা দুধের বাচ্চারা শুধু শুধু আমাদের সাথে ঝামেলা বাধাতে আসো? যাও ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে যাও।'
এটা বলে মিশু হাঁটা শুরু করতেই একজন তার পা ধরে ফেললো। সাথে সাথে নিশু তারপর পিঠের পিছন থেকে একটি ইলেকট্রো রড বের করল এবং ধামাধাম প্রত্যেকটা মানুষকে মাটিতে ফেলতে লাগলো সেটা দিয়ে এবং সবাই প্রায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেলো। মিশু চিৎকার করে ওঠে এবং দ্রুত গিয়ে নিশুর হাত ধরে ফেলল। বলল,'এইভাবে এত ভায়োলেন্ট হওয়া মানায় না। অন্তত নিজের দিকে খেয়াল রাখো। তুমি মানুষের ক্ষতি করলে তোমারই ক্ষতি হবে। কথাটা কতবার তোমাকে বলেছি?'
ভেতরে ঢুকতেই একটা লোককে দেখা গেলো। সম্ভবত সে এ গ্যাং এরই লোক। কিন্তু তার প্যান্টের মাঝখানে দিকে তাকাতেই নিশু হেসে দিলো। বললো, 'কিরে লোকজন ছাড়াও না একেবারে অচল তুই। কিছু বলার আগেই প্যান্ট ভিজিয়ে দিলি? তাহলে তো তোকে জেরা করার সময় দু তিনটে চড়-থাপ্পড় মারলে কতো বিতিকিচ্ছিরি কান্ডই না হতো মনে হয়। থাক আর বলবো না। আচ্ছা এবার বল। আমার বাপের সাথে কথা বল।
মিশু তার দিকে তাকিয়ে বললো, 'তোমার নাম ফুরকান। তাই না? আচ্ছা আমাকে এখন একটা কথা বলো তুমি যেই যেই গ্যাং লিডার দের সাথে কথা বলো। তোমাদের সে কনফারেন্স কোথায় হয়?'
তখন গ্যাং মেম্বারকে কে দেখা গেলো ভয়ে আতঙ্কে মিশুর দিকে তাকিয়ে আছে। নিশুও তার দিকে এরকম চাহনি দিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে আর ভাবছে বেচারা এভাবে থাকে তাহলে আমি মার দিলামনা। হয়তো সেখানেই হার্টফেল করে মারা যাবে।
তারপরে নিশু হুংকার দিলো, “মুখ খোল! কথা বলছিস না কেনো? তোকে কিছু জিজ্ঞেস করা হয়েছে। কনফারেন্সটা কোথায় হয়?” এবং লোকটা সম্ভবত পেটের ভিতর সেঁধিয়ে উঠলো মনে হয়। হঠাৎ করে তার পিঠের একদম শেষ দিকে পচাৎ করে আওয়াজ হলো। বুঝা গেলো সে কাপড় টা নষ্ট করে দিয়েছে।
মুখটা উচ্চারণ করলো, 'উত্তরা রোড নম্বর ৩। ওখানে একটা বিল্ডিং আছে তিন তালা। উঠতে গেলে সব বুঝতে পারবেন রাতের বেলা।'
দুই.
সেই রাতেই তারা তিনজন মিলে একসাথে ওই বিল্ডিং এর ছাদে উঠে গেলো। বিল্ডিংটা যেহেতু তিনতলার ছাদ, সেটা ফুটো করে মিটিং কনফারেন্স রুমে ঢোকা কোন ব্যাপার না। তাই তারা সেটা মনে করে সেখানে ঘিরে দাঁড়ালো এবং একটা এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস মিটিং রুমের বরাবর বসালো। একদম সেকেন্ডে জায়গাটা ধ্বংসস্তুপ হয়ে গেলো কোন রকম আওয়াজ ছাড়া।ই মিশু এবং নিশু ও নিশীথিনী তারা তিনজনই একেবারে কনফারেন্স টেবিলের উপর এসে পড়লো তাদের এই পড়া দেখে সবাই খুব অবাক হয়ে গেলো। সাথে সাথে কয়েকটা মেশিনগান তাদের দিকে তাক হয়ে গেলো এবং গুলি করে ফেলল একজন। তারা তিনজনই মাথা নিচু করে ফেললো। এরপর মিশুর হাত থেকে তিন তিনটে স্ক্র্যকার বেরোলো সাথে সাথে।
তিন দিক থেকে তিন মুখী আক্রমণ শুরু করলো তিনজনেই। এদিকে নিশু তার ওয়েল্ডিং রড দিয়ে ধামাধাম কয়েকজনকে বাড়ি মারলো। কারেন্টের শক খাওয়ায় লোক গুলো সেখানেই জ্ঞান হারালো। ওদিকে নিশীথিনী তার জায়গায় থাকা প্রায় ৬-৭ জন কে একাই অস্ত্র ছাড়াই মেরে একেবারে ছেড়ে দিলো। আর আগে যে বসেছিল কনফারেন্স টেবিলের মাঝখানে তার গলা চেপে কাছে আনলো। লোকটার মাথা পুরোপুরি বেল করা। ন্যাড়ামাথা এবং পুরো ক্লিন শেভ। ও শার্ট-প্যান্ট সবকিছু পরেই একেবারে কর্পোরেট স্টাইলে বসেছে। লোকটার দিকে তাকিয়ে নিশীথিনী বললো, 'কি নাম তোর?'
তখন লোকটা বললো, 'আমার নাম মফিজুল আলম।'
'তুমি কি গ্যাঙ লিডার?' জিজ্ঞেস করল মিশু।
তখন মফিজুল বললো, 'না আমি গ্যাঙ লিডার না। কি চান? বলেন।'
তখন মফিজুল কে জিজ্ঞেস করল মিশু, 'আমার প্রশ্নের উত্তর দাও। শহরে যে এসেছে ওই লোকটার নাম কি? সে কি কোনো মাফিয়ার লোক নাকি অন্যকিছু?
তখন মফিজুল বললো, 'জ্বি স্যার উনি কিন্তু বাইরের লোক। উনি এখানের মাফিয়া চক্রের কেউ হয়না।'
মিশু জিজ্ঞেস করলো, 'তোমাদের মাফিয়া চক্রের ভেতরে কে কে আছে? এই কনফারেন্স রুমের সবাই আছে এখানে যারা আছে তারা সবাই মাফিয়া লোকজন? তাদের মাফিয়াদের নেতা কে?'
তখন লোকটি বললো, 'আমি আমার বসের নাম জানিনা। কারন উনার নামটি সংখ্যা দিয়ে শুরু এবং তিনি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভাবে আমাকে তার নামটি না জানতে বলেছেন।'
তখন নিশু নিস্তেজ হয়ে গেলো। বললো, 'তোমার বস এর নাম কি? সেটা আগে বল।'
তখন লোকটি বললো, 'উনার নাম আননোন।'
নামটি শুনে তিনজনই তিনজনের দিকে তাকালো। কারণ এই নামটি আসলে বারবার ঘুরেফিরে অনেক জায়গা থেকে সোর্স হিসেবে আসছে এবং মিশুও সেটা বুঝতে পারছে না কেনো? কিভাবে? হয়তো কোন ধরনের সোর্স কোডে ওকে ধরা য়েতো। তখন তাকে আবার জিজ্ঞেস করা হলো তার বস কোথায় বসে? কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো সে। এরপর জানালো সে জানে না।
নিজেদের অবস্থানে ফিরে এসে মিশু, নিশু ও নিশীথিনী তিনজন মিলে বেশ গুছিয়ে একটা প্ল্যান করল যে, এটা কি আসলেই চক্রান্ত নাকি অন্য কিছু? তারা কিছুই বুঝতে পারছে না ওদিকে মাফিয়া চক্র বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং তাদেরকে ধরে আটকে রাখতে হবে। যেভাবে ড্রাগস, স্মাগলিং, লোকাল মদের ব্যবসা বেড়ে যাচ্ছে তাদের থামাতেই হবে। না হলে গোটা শহর ওরা লোপাট করে দিতে পারে। সমাজে অসামাজিক ব্যাপার বেড়ে যাবে। ব্যাপার যেটা নিয়ে কথা হচ্ছিলো, ওই লোকটির কথায়; মফিজুল ইসলামের কথায় যা বোঝা যাচ্ছে। আগামী কয়েকদিনের ভিতরে গোটা ঢাকা শহরে অরাজকতা ছড়িয়ে পড়বে এবং যেকোন প্রকারে অপরিচিত ব্যক্তি এসে গোটা দেশকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এটা হয়তো শুধুমাত্র দেশে-বিদেশে অর্থনৈতিক ভিত্তি ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে সে।
এরপর নিশু বললো, 'আমরা একটা কাজ করতে পারি। আমরা তিনজন মিলে তিন দিকে চলে যাবো। আর তখন যদি কোন ধরনের থ্রেট পাই আননোন পার্সন থাকে তাহলে অবশ্যই তিনজন মিলে আবার একত্রিত হবো।'
তখন নিশীথিনী বেশ আপত্তি জানালো, 'সে বললো সেটা কেমন করে হয়?'
তখন সে বলতে লাগলো, 'আমরা এত কষ্ট করে একটা প্ল্যান করলাম। কিন্তু একা হওয়ার দরকার টা কি? একসাথে থাকলে তো কাজ হয়।'
তখন মিশু বললো, 'আমার এতে কোন সমস্যা নেই আমার কাজ করতে কোন অসুবিধা হবেনা। আমি বেপরোয়া। আমার এসব সম্বন্ধে কোনো ভয় নেই। তাই আমি যতটুক করতে পারি ততটুক করব আমার ইচ্ছা মত আমি নিজেকে চালাতে পারবো তোমাদের যদি ভয় হয় তবে একটা মাত্র হয়ে আমি দিতে পারি কিন্তু বিপদ আসলে কোন বিপদ কে নিজের কাঁধে তুলে নে বানা সাহসে ভর করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
কোন কিছু করা আর কোন কিছু করার আগে প্ল্যান করা এই দুয়ের মধ্যে বিস্তর আকাশ-পাতাল তফাৎ আছে। যখন আপনি নিজের আপন মনে কোন একটা কাজ করে করতে থাকবেন তখন সেটা মধ্যে অবশ্যই পরিশীলতার ছাপ ধরা পড়বে। কিন্তু নিখুঁতভাবে একটি পরিকল্পনা তৈরী করলে সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে সেটা রূপদান করার মধ্যে একদম অন্যরকম একটা বিষয় থাকে। এই ক্ষেত্রে যেটা সব সময় কাজ ভালো করে সেটাকে প্ল্যান বলে এবং প্ল্যান ছাড়া আসলে কোন কিছুই করা সম্ভব নয়। তাইতো মিশু আজ অবধি তার এই এত বছরের ক্যারিয়ারে সে অনেকাংশেই সফল।
এই বিষয়টা সে শুধু একাই বছরের-পর-বছর করেনি। তাকে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন জন হয়তো সাহায্য করেছে এবং সেই সাহায্যের মাধ্যমে সে আস্তে আস্তে উন্নয়ন এবং তার কাজের পরিধি আরও বিস্তৃত ও ব্যাপ্তি ঘটিয়েছে। কোন কাজ যখন কেউ নিজের মন থেকে খুব ভালো ও বড় করার চেষ্টা করে, সাথে পরিকল্পনা মাফিক এগিয়ে যায় তবে সাফল্য আসে। তবে আজ কেন জানি মিশুর একটু খটকা লাগছে। মনে হচ্ছে কোন না কোন কিছু একটা ঘটতে চলেছে শহরজুড়ে। যা কখনোই আগে হয়নি এবং যদি হয়ে থাকে তাহলে হয়তো তাতে ব্যাতায় ঘটবে।
তিন.
মিশু এবং নিশু দুজনেই আলাদা হয়ে গেলো এবং নিশীথিনী ওদেরকে মনিটরিং করার জন্য বেজমেন্টে বসে কাজ করা শুরু করেছে। ইতিমধ্যে মিশু চলে যাচ্ছে এমন এক জায়গায় যেখানে কারো কোনো পা পড়েনি ও শহর পার হয়ে পার হয়ে সাভারের পথে পা বাড়ালো। এইটা আসলে অনেক কষ্টসাধ্য কাজ। তবে মিশুর কাছে এসব জিনিস খুবই সহজ সহজ বোধ্য কারণ তাকে অতীতে অনেকবার এমন অভিযানে বেরিয়ে পড়তে হয়েছে। একটা সময় মিশু যখন ঢাকা শেষ করে সাভারের ভিতরে ঢুকলো। তখন তার কাছে বেশ একটা আড়ষ্ট ভাব আসলো। মনে হল কারন সে আগে কখনো এমন ধরনের সেন্স ফিল করে নি। তার এই আড়ষ্ঠ ভাব দূর করার জন্য সে কিছুক্ষণ শরীরটাকে ওয়ার্ম আপ করার চেষ্টা করলো।
মিশু অতীতেও অনেক ধরনের অপারেশনে গিয়েছিলো। কিন্তু একটা বিশেষ কারণে সে আজ কেন জানি অত্যন্ত সন্দিহান হয়ে উঠেছে। তার ইন্দ্রিয় প্রখরভাবে তাকে বলে দিচ্ছে যাতে সে এই ধরনের অপারেশনের না যায়। একটা সময় এসে একটা পাঁচতলা বিল্ডিং এর উপর থেকে নিচের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলো যে একটা সূত্র সে খুঁজে পাচ্ছে আপাততঃ। নীচে নেমে সে আস্তে আস্তে এদিক সেদিক তাকালো। দেখলো একটা লোক পাশের এক ভবনের নীচে বসে আছে। ঐ লোকের কাছে সে যেতে লাগলো এবং খেয়াল হলো লোকটা তার দিকে তাকিয়ে ছিলো অনেকক্ষণ ধরে। তার বেশভূষা দেখে লোকটা বলে উঠল যেখানে আছো, সেখানেই দাঁড়াও। তোমার সাথে আমার কাজ আছে। তুমি যে মিশু সেটা আমরা ভালোই বুঝি কিন্তু তুমি এখানে কেনো আসলে সেটা আমাদেরকে আগে জানতে হবে। বলো কেনো এসেছো?
তখনি মিশু বললো, 'আমি যে লোকের কাছে এসেছি সে লোককে আমার দরকার।'
তখন লোকটি বললো, 'তোমার ওই লোকের কাছে যাওয়ার জন্য অনেকগুলো প্রটোকল পার হতে হবে। তুমি কি সেটা করতে প্রস্তুত?' সেটা বলার পরে মিশু বেশ চমকে গেলো। বুঝতে পারলো যে এখানেই সে লোকটি আছে। সে শক্ত ঘাঁটি গেড়ে বসেছে।আর অনেক জল ঘোলা হয়ে গেছে।
লোকটাকে আপাতত বিশ্বাস করে মিশু যেতে লাগলো সামনের দিকে এবং লোকটার সাথে একটা বাড়ির পেছনের গেটে গিয়ে দাঁড়ালো। সেখান থেকে সে হঠাৎ করে দেখতে পেলো সেই দরজা। আছে। দরজাটা আছে। দরজাটার কথা বলা হয়েছিলো আগের যাদের যাদের সাথে মারামারি হয়েছে। তাদের ওখানে কারো একজনের কাছে মিশু জেনেছিলো। এবার বেশ চমকে চমকে গেলো কারণ যেমনটা বর্ণনা করা হয়েছিল ঠিক তেমনটাই। সেই পথেই তারা যাচ্ছে এবং পথ ধরে এগোতে এগোতে একটা সময়ে লাল-নীল রঙের করিডর গুলো শেষ হলে এবং মিশু একটা সময় সেই জায়গার ভিতরে গিয়ে ঢুকলো। সেখানে দরজায় কড়া নাড়লো লোকটা এবং কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে গেল কয়েকবার তার দরজায় বাড়ি দেয়ার কারণে হয়তো দরজাটা খুলেছে। তার মানে, এখানে গোপন কোড আছে দরজা নক করার।
এতোটুকু পথ পেরিয়ে আসার পর আঁচ করলো মিশু একটা বড় ধরনের কিছু ঘটতে চলেছে যেটার জন্য তার মন অত্যন্ত সন্দিহান হয়ে উঠছিলো। দরজা খোলার সাথে সাথেই বিশাল এক কামরা দেখা গেলেও তার সামনে মিশু বেশ হতচকিত হয়ে গেলো। সে যেনো এসেছে আদালতের মত একটা জায়গায়। তখন লোকটা তার দিকে হেসে বললো, 'ওয়েলকাম টু দ্য বিবেকের আদালত।' এটা শুনে মিশু সেখানে দাঁড়িয়ে গেল। এমন সময় বিচারকের যে আসন সেখানে কেউ একজনকে মুখোশ পড়ে বসে থাকতে দেখা গেলো। সে তার বজ্রকণ্ঠে বলতে লাগলো, 'অর্ডার অর্ডার'।
এটা শুনে মিশু তাকালো তার দিকে এবং মিশুর মনে হলো যেন সে কোন আদালতে এসেছে। মিশুকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করা হলো, 'অপরাধীর নাম কি?'
তখন লোকটি বললো, 'ওর নাম হচ্ছে মিশু। সে নাকি ঢাকা দক্ষিণের মেয়র।'
'আচ্ছা ও এইখানে কি জন্য এসেছে এবং ওর কি আজকেই শেষ বিচারের দিন? বিচারের দিনে ওর কি ধরনের বিচার করা হবে?
সেটা জিজ্ঞেস করার পর মিশু তাকিয়ে বললো, 'আমার বিচার? আমি কি করেছি? আমার কোন ধরনের অপরাধ হয়েছে? আমি তো কোন অপরাধ করিনি।'
তখন মুখোশ পরা আরও একজন লোক তার দিকে তাকিয়ে বললো, 'খামোশ আপনি অনেক বড় ধরনের গোস্তাকি করেছেন। আপনার এই ভুলের কারণে আমাদের গোটা শহরের মানুষজনকে পস্তাতে হচ্ছে।'
তখন মিশু বললো, 'কি বলতে চাও সরাসরি বলো। আমাকে খুলে বলো।'
তখন আরো একজন মুখোশ ধারী লোক বললো, 'মুখোশধারী সবাই এখানে বসে আছে।'
কারোর মুখ মুখোশ উন্মোচন করা হয়নি এবং সবাই তার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তখন লোকটি বলতে লাগলো, 'তোমার অপরাধ তুমি পুরো শহরের যত ধরনের অপরাধী আছে তাদেরকে ধরে ধরে জেলে পুরিয়েছো এবং ইচ্ছেমতো তুমি তোমার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছো।
তখন মিশু বললো, 'আমি এ ধরনের কোন ধরনের কাজ করিনি। কারন আমি দিনের বেলা মেয়র আর রাতের বেলা রাতের প্রহরী, এটাই হচ্ছে আমার আসল রূপ।'
'অর্ডার অর্ডার' বলেই বিচারকের আসনে যিনি আসীন ছিলেন তিনি হঠাৎ করে তার দিকে তাকিয়ে বললেন, 'আগে তোমার অপরাধ গুলো বর্ণনা করতে হবে না হলে তোমার বিচার হবে কিভাবে?' তখন সবাই সমস্বরে চিৎকার করে উঠলো, 'হ্যাঁ হ্যাঁ! এর বিচার করতেই হবে।'
তখন বিচারক বললো, 'সর্বসম্মতিক্রমে আজ এই সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আমরা এই মর্মে বিচার কার্য সম্পাদন করছি যে, রাতের প্রহরী ওরফে মিশু। তাঁর সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ অভিযোগ তার বিরুদ্ধে যা এসেছে তার প্রত্যেকটি প্রমাণিত হয়েছে এবং তিনি এই দণ্ডের সাথে সম্মত হচ্ছেন যে, হয় তিনি প্রকাশ করবেন তিনি একজন মেয়র হয়ে রাতের বেলায় রাতের প্রহরী হয়ে কাজ করছেন অথবা এই মর্মে তাকে এক ধরনের শাস্তি পেতে হবে। সেটা হলো তার শরীরের প্রতিটি জয়েন্ট ভেঙ্গে দেওয়া হবে।
এটা শোনার পর মিশু বেশ চমকে গেলো। সে বললো না আমি এর কোনটাই করবো না কারণ আমি যদি আহত হই তাহলে মেয়রের কার্যক্রম কে সামলাবো কিভাবে? তখন বিচারকের আসনে লোকটি বলে উঠল সেটা না হয় ভারপ্রাপ্ত মেয়র করবে করে দেখাবে। কিন্তু আপাতত তোমাকে তোমার শাস্তি পেতেই হবে। তখন মিশু বললো, 'ঠিক আছে আমি মার খেতে প্রস্তুত। আমাকে মারো, কিন্তু এক শর্তে, আমার সাথে তোমাদের লড়তে হবে। এই রুমের যতজন আছে সবাইকে আমার সাথে লড়ে তারপরে আমাকে হারাতে হবে। এ কথা শোনার পর হইহই করে সমস্ত টেবিল চেয়ার থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে কয়েক ডজন লোক এসে মিশুর সাথে মারামারি করতে লাগলো এবং মিশুর উপর চড়াও হলো। মিশু মার খেতে খেতে আচমকা বিভ্রান্ত হলো এবং লোকগুলো তার শরীরের প্রত্যেকটা জায়গায় আঘাতে পর্যুদস্ত করে ফেললো। এমন তর আঘাতে মিশু পারলো না। শরীর মানতে চায়না। বয়স হয়েছে তো। একটা সময় হাল ছেড়ে দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।
"যাও একে এর বাসার সামনে ফেলে আসো।"
চার.
রাত তখন তিনটাে বাজে। ফরাজিদের গেটের সামনে একটা ভ্যান এসে থামলো চারদিক থেকে এস এস স্টিল পরিবেষ্টিত এই গেটটি অত্যান্ত শক্তিশালী ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে এবং এর কোনো জানালা নেই। তাই ভ্যান এর ভেতরের আরোহীরা চুপচাপ পিছনের দরজা খুলে নিচে নেমে এলো এবং একটা বস্তা ফরাজিদের বাড়ির গেটের সামনে ফেলে, আস্তে করে আবার তারা ভ্যানে উঠে চলে গেলো। বস্তাটা ক্যামেরায় দেখেছে মজিদ কাকা এবং সে এটা দেখে বেশি হতচকিত হয়ে গেলো। কারা এই বস্তাটা ফেলে চলে গেছে? সে তাড়াতাড়ি দৌড়ে এলো। গার্ডকে বললো, 'দরজা খুল।' তাড়াতাড়ি গার্ড দুজন দৌড়ে গেলো গেটের কাছে। বস্তা দেখে ইতিউতি চাইলো। তাও মুখ চাওয়াচাওয়ির পর কি মনে করে দরজাটা খুললো। সাধারণত দারোয়ানদের এ বাড়ির কেউ রিকোয়েস্ট করে রাখে না। কিন্তু কেনো যে মজিদ কাকা এমন হন্তদন্ত হয়ে আসলো! ছুটে আসার কারণ এটা না যে নিতান্ত কোনো বিষয় নিয়ে তার মাথায় কিছু একটার চিন্তা ঘুরে চলেছে এবং খোলার সাথে সাথে তারা বেশ অবাক হয়ে গেলো। বস্তার ভেতর থেকে একটা মুখ উঁকি দিয়েছে। সেটা তাদের প্রাণ প্রিয় মানুষ মিশু। এটা দেখে তারা বেশ চিৎকার শুরু করলে এবং তখন মজিদ কাকা তাদেরকে শব্দ করতে মানা করলেন।
মিশুর শরীরের প্রতিটা জায়গায় আঘাত দেখা যাচ্ছে। এবং দেখা যাচ্ছে এমন বেশি মার দেওয়া হয়েছে ওকে যে, যেখানে মেরেছে ওখানেই কালশিটে পড়ে যাচ্ছে এবং পড়েও গেছে অনেক জায়গায়। রক্ত জমাট বেঁধে সেখানে লালচে কালো একটা দাগ যেনো বসে গেছে। শিশুর মাথার বেশ কয়েক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যাবে। সেখান থেকে রক্ত ঝরে পড়ছে এবং মিশুর এই অবস্থা দেখে মজিদ কাকা হতবাক হয়ে গিয়েছে সে কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না। সে সাথে সাথে তার পায়জামার ভেতর থেকে মোবাইলটা নিয়ে পকেটে হাত রেখে সবাইকে কল করতে শুরু করলো সবাইকে।
গ্রুপ কলে বললো, 'নিশু নিশীথিনী, তোমরা দ্রুত চলে এসো বাবারা। আমি তো পারতাছিনা। এইহানে তো একটা মহা কান্ড ঘইটা গেছে। আমাদের মিশুরে কারা জানি বস্তায় কইরা ফালাইয়া থুইয়া গেছে। এহন মিশুর অবস্থা খুবই গুরুতর। আমার হাতে কইরা কিছু করন যাইবো না। বাঁচান লাগবো। ওর যদি কিছু অয়। আমি এহন একলা চাইতে না পারি, কিন্তু তোমরা যদি না আসো তাইলে কিন্তু অনেক বড় বিপদ হইবো। ইমারজেন্সি ট্রান্সপোর্ট মোটর সিস্টেম এ চইলা আসো।'
নিশু ও নিশীথিনীর সাথে কথা বলার পর তারা বেশ উত্তেজিত হয়ে পড়লো এবং এদিকে মজিদ কাকা দ্রুত মিশুর একটা শরীর সুস্থ করার জন্য প্রাইভেট মেডিকেল সিস্টেম তৈরি করলেন। আগে তো বাঁচাতে হবে। আগে না বাচালে তো পরের। বিপদ ঘটে যাবে। আর বেশি সময় নিতে চায়না সে। কোন ধরনের অঘটন না ঘটার এমন প্রত্যয় মনের মধ্যে রেখে আস্তে আস্তে শরীরটাকে ড্রেসিং করা শুরু করলো। ড্রেসিং করা প্রায় যখন শেষ তখন হঠাৎ করে নিশু বিরক্তিকরভাবে উদয় হল এবং একটা বিকট চিৎকার করলো, 'বাবা! বাবা তোমার কি হয়েছে। তোমাকে কে মেরেছে?'
মিশুর এখনো জ্ঞান ফেরেনি। এটা সে বুঝতে চাইছে না। সে এসেই বাপের এই অবস্থা দেখে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করল এবং চোখের পানিতে মুখ ভিজিয়ে একাকার। এক নিবিষ্টে শূন্য চোখে তাকিয়ে রইল মজিদ কাকার ব্যান্ডেজ করা এবং মজিদ কাকা ব্যান্ডেজ লাগানো প্রায় শেষ করে ফেলেছে। বললো, 'এহন ডাক্তার ডাক দিতে হইবো। আমি ত না অয় সবকিছু ব্যান্ডেজ কইরা রক্ত পড়া বন্ধ করছি। তিনটা হাড্ডি চুরমার হইয়া গেছে হাঁটুর। আর বাঁচানো সম্ভব কিনা। আমি জানিনা। এখন তুমি ডাক্তার সুরাইয়ারে ডাইকা আনো। উনি তোমার বাপের পারসোনাল ডাক্তার।'
সুরাইয়া আসার পর চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলেন মিশুর প্লাস্টার করা শরীরের ওপর। গোটা শরীর জুড়ে প্লাস্টার করে রেখেছে মজিদ কাকা। তখন সুরাইয়া বললেন, আপনি বেশ ভালো কাজ করেছেন। অন্যান্য ব্যাপার শুনে যা মনে হচ্ছে সেটা হলো ওর গোটা শরীরটা ভেঙে দিয়েছে ওরা। মানে এখন শুধু ভেতরে জিনিসগুলো অক্ষত থাকলে হয়। আমি জানিনা কি হবে।'
তখন মজিদ কাকা বললেন, 'আমারে একটা জিনিস বইলা গেছিলো অনেক আগে। সেটা আমি আপনারে বলতাছি। আপনি শুনেন এই যে উনি এই অবস্থায় আছে, উনি আমারে অনেক আগেই ইঙ্গিত দিছিলেন। এইরকম কিছু একটা হইবো। আর আমারে এই ইনজেকশনটা দিয়ে গেছেন বলছেন যদি কোনদিন আমার শরীরের অবস্থা খুব বেশি খারাপ হইয়া যায় মারামারিতে, আমি যদি এমন অবস্থায় বাসায় ফিরি কিন্তু আমার জ্ঞান না থাকে চলাফিরার তাইলে যেন আমারে এই ধরনের ইনজেকশন আমার দেওয়া হয়। একথা শুনে কপালে চিন্তার ভাঁজ খুলে গেলো সুরাইয়ার। তার মনের কোনে যেন আশার আলো চিলিক দিয়ে উঠেছে।তিনি বেশ উৎসুক ও উৎফুল্ল হয়ে উঠলেন।
'সেটা আগে বলবানা আমাকে মজিদ কাকা? আমাকে দাও ইনজেকশনটা। এখনই দাও। ছোট সাইজের ইনজেকশনটা হাতে নিলেন সুরাইয়া এবং তিনি সেটা দেখে বললেন আরে এ তো খুব ভালো একটা ওষুধ। বিদেশ থেকে এসেছে। এটা যদি এখন পুশ করি তাহলে চব্বিশ ঘন্টার ভিতরে জানা যাবে যে তার অবস্থা কি ফিরবে, কি ফিরবে না।'
সুরাইয়া ইনজেকশনটা পুশ করে দিলেন এবং বললেন, 'আমার আর কোন কাজ নেই। আমি আপাতত এখন যাচ্ছি। নিশু তাকিয়ে রয়েছে তার বাবার দিকে খুব ভীত সন্ত্রস্ত মনে। কি হচ্ছে? কে কাজটা করলো এবং তারা এ ধরনের কাজ করতে কি আগে থেকেই প্ল্যান করেছিলো? তাকে এভাবে ধ্বংস করার পেছনে কার মদদ থাকতে পারে?'
অনেক সময় নির্ভীক মানুষের মনের ভেতরে কাঁপুনি ধরে যায় ভয়ে। ভয় মানুষের উপর চেপে বসে তখন জগদ্দল পাথরের মতো। মানুষ ভয়কে অগ্রাহ্য করতে পারে না। কিন্তু করা থেকে নিজেকে অনেক সময় দূরে সরিয়ে রাখতে পারে ঠিকই। কিন্তু আজ কেন যেন নিশু সেটা পারল না। নিশ্চয় বুঝতে পেরেছে তার জীবনে এসে অন্তিম মেঘ ঘনিয়ে এসেছে। আকাশে কালো মেঘ বিরাজ করছে। তার জীবনে এবং এই মেঘটাকে সরিয়ে সূর্যকে সামনে আনতে পারলে হয়তো সকালটা হবে সুন্দর।
'একটা কথা তোমাকে বলা উচিত আমার মনে হয়।' তখন নিশীথিনীর কথায় নিশু মাথা ঘুরে তাকাল নিশীথিনীর দিকে। একটা শূন্য দৃষ্টির চোখে তাকিয়ে থাকার মতো, কি করবে ভেবে কূল পাচ্ছে না সে। কারণ অদূর ভবিষ্যতে বাবার দায়িত্ব না তাকে পালন করতে হবে এবং এই সম্পর্কে সে খুবই খুবই সন্দিহান। আর এই মাফিয়া রেঞ্জ থেকে পরিত্রান পেতে হলে তার নিজের রাতের প্রহরী হওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। সে যেনো সেটা বুঝতে পেরেছে। কারণ, উত্তরাধিকার সূত্রে এটা করার কথা তার। নিশীথিনী ও তার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো, 'আমি বুঝতে পারছি তোমার ব্যাপারটা। তোমাকে এখন তোমার বাবার দায়িত্বটা নিতেই হবে নিশু। যে করে হোক ডু অর ডাই সিচুয়েশন চলে এসেছে। শহরের গ্যাং ও মাফিয়া চক্র সক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। তুমি দেখতে পাচ্ছো আগের থেকে আমরা দু'মাস আগেও এতোটুকু এক্টিভিটিস দেখতে পাইনি। তারাও কিন্তু তোমার বাবার সাথে অত বেশি মারামারি লাগেনি।
কিন্তু ইদানীংকালে দেখা যাচ্ছে তাদের তৎপরতা বেড়ে যাচ্ছে এবং আমার মনে হচ্ছে কেউ একজন তাদেরকে এসব করতে প্রলুব্ধ করছে। তোমার উচিত এই মুহূর্তে আস্তে আস্তে নিজেকে তৈরী করে নেয়া এবং তোমার বাবার জায়গায় আসীন হওয়া। তখন নিশু উঠে দাঁড়িয়ে বললো চোখের পানি মুছে, 'আমার বাবার এই উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া পথটা আমাকে ধরতে হবে নিশি। আমি এখনই তৈরি। তোমার হাতে থেকে স্যুট দিয়ে দাও আমার দায়িত্বটা বুঝে নেয়ার জন্য। দাও বাবার স্যুট দাও।'
তখন নিশিথিনী স্যুট এনে দিলো তাকে।
'আজ থেকে তুমি রাতের প্রহরী।'
পাঁচ.
আকাশ সমান সব দালান কোঠা এবং উপরে বিরাজমান,বিশাল বায়ুমন্ডলে মেঘে মেঘে ছেয়ে গেছে আজকের আকাশ। অন্ধকার রাতে সেই মেঘ ফুঁড়ে যেন চাঁদের আলো থেকে তার প্রতিফলন ঘটছে চারপাশে। শরৎে ঢাকার আকাশ সব সময় এমন হয় এবং যারা ঢাকায় বসবাস করে তারা জানেন চারপাশ থেকে আকাশকে আলোকিত করে রাখে ঢাকা শহর। ডিভাইন গ্রুপের অফিস বিল্ডিং এর ছাদের উপরে দাঁড়িয়ে নিশো দেখছে গোটা শহরকে। শহরের সারি সারি দালান যেন দাঁড়িয়ে রয়েছে আকাশচুম্বী হয়ে। উপর থেকে নিচের দিকে তাকালে নিজেকে মনে হয় যেনো এখনি একটা বিশাল হাত বেরিয়ে এসে টেনে নিয়ে যাবে। যেকোনো মানুষ উপর থেকে নিচের দিকে তাকালে ভয় পেয়ে যাবে এবং মনে করবে যে সে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছে। আসলে কিন্তু তা নয়। ভয় পাওয়া আর আত্মহত্যার প্ররোচনা নিশুর নেই। তাই যারা আত্মহত্যার প্ররোচনায় ভোগে তাদের দলে নিশু নেই। সবসময় চেষ্টা করেনিজেকে বিরত রাখতে এ সব থেকে।
বাবার গ্যালারিতে সযত্নে রেখে দেওয়া গোল্ডেন স্যুটটা নিজের গায়ে খুব ভালোভাবে এঁটেছে। সে হ্যাংলা বা স্যুটটা কোন ধরনের টাইট-ফিট ধরণের এমনটা নয়। সে বিভিন্ন ধরণের আন আর্মড অস্ত্র নিয়ে এসে বসিয়েছে এবং ত্রিশ-চল্লিশ ধরণের মানে বলা যায় পরবর্তীতে যে কোনো মিশনে কাজে লাগাতে পারবে। এর সাথে সাথে তার সমস্ত ধরনের অস্ত্র আছে। সেগুলো তৈরি করে কোমরের গ্রিপে রেখেছে। তার কাছে বেশ কয়েকটি গ্র্যাপনেল গান কোমরের পিছনে আটকানো রয়েছে। দেখা গেলো, সেই গানগুলো দিয়ে আকাশ চিরে দালানের দেয়ালে তাক করলে সেটা ছাদে আটকে নিজেকে ধরে রাখতে পারার একটা সক্ষমতা প্রকাশ পায়। এই গ্র্যাপনেল গান দিয়ে সে অনেক দূর যেতে পারবে। এই শূন্যে ভাসার তাগিদে সে যেন নিজেকে সঁপে দিয়েছে। কারণ ওয়াচ আউট না করলে অপরাধীদেরকে ধরা সম্ভব হবে না। একথা সে বহু আগে থেকেই বুঝেছে। তাই গোল্ডেন স্যুট কে বেছে নিয়েছে এই একটা কারনে যদি কোনো কারণে সুপার লর্ড চলে আসে সেই স্যুট দিয়ে ধরাশায়ী করা সম্ভব। এটা ছাড়া আর কারো পক্ষেই সম্ভব নয় অন্য কোন স্যুটের মাধ্যমে।
দুইশ গজের ভেতরে একটা ভবনের চারতলায় আলো জ্বলে উঠলো এবং নিশু বুঝলো এটাই সেই কাঙ্ক্ষিত দালান যেটার জন্য সে অপেক্ষা করছিলো। দেড়শ মিটার দূরত্বের জন্য গ্র্যাপনেল গানের ট্রিগার টিপে দিলো সে। নিখুঁতভাবে তাক করলো এবং সরাসরি সেখান থেকে স্পাইক গিয়ে তার তাক করা দেয়াল আঁকড়ে ধরলো। কামড়ে ধরে পড়ে রইলো স্পাইক। আর সেই রশি অটোমেটেড হয়ে তাকে ধরে সরাসরি নিয়ে চলে গেলো ছাদের দিকে এবং সে আস্তে আস্তে সেই ভবনের একেবারে ছাদের কাছাকাছি পৌঁছে গেলো। হাই ডেফিনিশন সাউন্ড ট্রানস্মিশন যন্ত্রটা সে জানালার পাশ দিয়ে লাগিয়ে দিলো যাতে শব্দগুলো তার কানে চলে আসে ক্ষুদ্রতম ওয়েভ থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে এবং সেখানে ইয়ার ফোনটা কানে লাগাতেই সব অস্পষ্ট শব্দ, স্পষ্টভাবে তার কানে আসতে লাগলো। শুনতে পেলো কিছু লোকের কথোপকথন। তাদের কথাগুলো ছিল অনেকটা এরকম- 'সুপার লর্ড যদি আসেন তাহলে তাকে আমাদের এখান থেকে কোন ভাগ-বাটোয়ারা দিতে হবে না। কিন্তু তিনি গোটা পৃথিবীর করায়ত্ত তো নিজের করে নেবেন এবং পৃথিবীকে তিনি নিজের ক্ষোভ জানিয়ে তাঁর ইচ্ছা পূরণ করবেন। তাই তাকে আমরা বরং আস্তে ধীরে আসার আমন্ত্রণ জানাই। হয়তোবা, একটু ঢিলেঢালা ভাবে আমন্ত্রণ জানালে তিনি আসবেন না। কিন্তু কোনো কারণে তিনি যদি এসে যান, তাহলে আমাদের উপর কর্তৃত্ব করবেনই। সাথে গোটা দুনিয়া চালানোর জন্য নিজের লোকবলকে কাজে লাগাবেন।
কথা শেষ হবার সাথে সাথেই বিল্ডিং এর ছাদের উপর আকাশ ভেঙে পড়লো। এত জোরে আওয়াজ হলো যে জানালার কাঁচ ভেঙ্গে গোটা গ্রিল খুলে চলে এলো। এতো বড়ো সনিক বুম! তাদের সামনে উদয় হলো একটা সাক্ষাৎ নরক। এর মধ্যে তারা ভয়ে কাঁপতে লাগলো। এ যে সাক্ষাৎ যম দুত রাতের প্রহরী। রাতের প্রহরী ভেতরে ঢুকেই ধামাধাম সবাইকে তার ইলেকট্রোফায়েড রড দিয়ে মারা শুরু করলো এবং রড দু দিকে প্রসারিত করে সে যেভাবে একটা ঘূর্ণন দিলো; তার সেই ঘোরাতেই একটু রডের আঘাতে তারা সবাই ধরাশায়ী হয়ে গেলো। দেখা গেলো কেউ মাটিতে চিত পটাং হয়ে শুয়ে আছে। কারো হাঁটুমুড়ে, কারো হাঁটু চেপে চিৎকার করে মাটিতে গড়াগড়ি করা শুরু হয়ে গেলো। একরকম বীভৎস দৃশ্যের অবতারণা হয়ে গেলো।
একটা সময় রাতের প্রহরীর সেই লেভেলের মার দেয়া বন্ধ হলো এবং সবাই প্রায় এক রকম বাকরুদ্ধ হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইলো। ধীরে ধীরে আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ালো। এরপর একজনকে কলার ধরে সামনের দিকে টেনে নিয়ে গেলো নিশু। একটা চেয়ার লক্ষ্য করে এমন আছাড় মারলো যে সেখানেই লোকটা জ্ঞান হারিয়ে, চেয়ার ভেঙে বসে পড়লো।
জ্ঞান ফেরার পর লোকটা হাত-পা বাঁধা দেখলো নিজের। বাকি সবারই একই অবস্থা। এরপর নিশু মানে আমাদের বর্তমান রাতের প্রহরী একে একে সবাইকে জেরা করা শুরু করলো। প্রথমে একজনের দিকে তাকিয়ে সে বললো, 'বল সুপার লর্ড কোথায়?'
তখন একজন বললো, 'সুপার লর্ড কোথায় আছে আমরা জানি না। আর তাকে খুঁজে বের করতে হলে তোমাকে নিজেই খুঁজে বের করতে হবে।' এমন সময় একজনকে দেখলো মিশু বেশ রাগত ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে তার সামনে গিয়ে একটা ঠাস করে থাপ্পর মারলো।
বললো, 'অপরাধ করিস, আবার বড় বড় চোখ করে থাকিস?!
মাথা নিচু করে তখন নিজের দিকে তাকিয়ে লোকটা বললো, 'আর তোমরা যে আমাদের লোকজনকে ধরে ধরে বেধড়ক পেটাও সেটা কি ভালো না খারাপ? নিজের বাচবিচার নিজেই করো। নিজের বিচার নিজে না করলে কোনদিন নিজের দোষকে তুমি খন্ডাতে পারবে না।
তখন নিশু বললো, 'ও আচ্ছা তুমি কি হাতেম তাই, মানে গোটা শহরকে তোমরা কষ্ট করে মেহনত করে খাওয়াও? দশজনকে খারাপ পথে নিয়ে যাবে আর আমরা সৎ নির্ভীকরা বেঁচে থাকতে পারবো না?'
লোকটাক ঘৃণার সুরে মিশুর দিকে তাকালো। এতোক্ষণ শরীর বাঁকা হয়ে ছিলো। তাই একটু গা ঝাড়া দিয়ে প্রথমে সিধে হলো। "আমরা সমাজকে নষ্ট করছি? আরে আমাদের সমাজের দোষ আমরাই দেখিনা। আমরা যখন্ গরীব ছিলাম তখন এই সমাজ কোথায় ছিলো? এখন নিজেদের যখন শক্ত করে তোলার চেষ্টা করছি তখন আমাদের মতো মানুষ কি সমাজ নষ্ট করছে? আমি তো মনে করি তোমরা এই খুচরো আইন দিয়ে সমাজ করে ধ্বংস করছো মানুষদের।'
নিশু দম মেরে বসে ছিলো এতোক্ষণ। এবার বলে উঠলো, 'অপরাধের মাধ্যমে জীবন চালানো আর সৎ ভাবে জীবন-যাপন করা যারা মিলিয়ে ফেলে তাদের উচিত বোকার স্বর্গে বাস করা। সেজন্যই তো সব জীবনটাকে শুদ্ধ মনে হয়না। কিন্তু সৎ ভাবে নিজেকে এই জীবন লড়াইয়ে শামিল করা অনেক ভালো একটা ব্যাপার নয় কি?'
লোকটা তখন চলে গেলো মিশুর সামনে। কারণ সে জানে এখন সুপার লর্ডের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে দেয় তাহলে নিশু হয় ওর সাথে সুপার লর্ডের যুদ্ধ চাইবে। তাতে সুপার লর্ড অনুমতি দিয়ে দিবে তার লোকজনকে যেটার জন্য মানুষই পৃথিবী ছাড়া হয়ে যাবে। সুপার লর্ডের আর্মি সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে। এই ভয়ে সে নিশুর দিকে ইতঃস্তত বোধ করে তাকালো। নিশু তাকে চোখ দিয়ে একটা ইঙ্গিত দিলো। ভরসার ইঙ্গিত।
'কিছু হবেনা ভরসা দিচ্ছি। তোমার কিছু হবে না।' বললো নিশু।
লোকটা তখন পাশের লোকটার দিকে তাকানোর পরে পাশের লোকটাকে দেখে ওর মনে হলো সম্মতি দিয়েছে। মানুষ সেও। চায় না যে সুপার লর্ড পৃথিবীতে কর্তৃত্ব বজায় করুক এবং সাথে সাথে নিশুকে লোকটা বললো, 'এখন ঠিক আমাদের পৃথিবীর আকাশের উপরে আছে।'
এ কথা শোনার পর নিশুর মনে হলো যেন তার পায়ের নিচ থেকে জমিন সরে গেছে। সে কোন একটা অতল গহবরে নিজেকে ছেড়ে দিয়েছে এবং সে অতল গহবরে পড়তে পড়তে যেন সে কোন ঠাঁই খুঁজে পাচ্ছে না। একটা সময় নিশু গ্যাংস্টারদের বলে উঠলো, 'এখন তাহলে সময়। সুপার লর্ডকে চ্যালেঞ্জ জানানো উচিত। আমি চ্যালেঞ্জ করলে সুপার লর্ড অবশ্যই আমার সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে এবং ওর বিরুদ্ধে আমি অবশ্যই যাবো যুদ্ধে। যাইহোক সে আমার সাথে পারবে না।
একথা শুনে লোকটা বললো, 'বেশ তবে তাই হোক। তুমি তোমার দলে আমাকে সাথে যুক্ত করো।'
মিশু একথা শুনে লোকটাকে বললো, 'তোমার নাম কি? তুমি আমার দলে যদি থাকতে চাও তাহলে অবশ্যই তোমাকে আমার কথা মত চলতে হবে এবং তোমার দলে যে লোকজন তাদের কে আমি সাহায্য করবো। তোমরা আমাকে অবশ্যই সাহায্য করবো।'
লোকটা বললো তখন, 'আমার নাম রাফি। আর এই পাশের জনকে দেখছো এর নাম ইসমাইল। আর ওর নাম হচ্ছে জাহাঙ্গীর।'
জাহাঙ্গীর অকপটে স্বীকার করলো যে, নিশুর সাথে লিংক থাকলে অবশ্যই তারা একসাথে যুদ্ধ করতে পারবে। কিন্তু বাগড়া দিয়ে বসলো ইসমাইল। সে বলল আমি তোমাকে হেল্প করতে পারি কিন্তু কথা হচ্ছে তোমাদের সাথে আমাদের যে দ্বন্দ্ব সেটা বিদ্যমান থাকবে। আমরা শুধু সুখে থাকার জন্যই মোটামুটি এমনটা করছি তবে একথা মনে করো না যে তোমার সাথে এখানেই আমাদের যুদ্ধ শেষ। সুপার লর্ডকে বিট দিতে পারলে আমরা আবার আমাদের সেই পুরনো ট্র্যাকে ফিরে যাব।
ছয়.
বৃষ্টি চলে গেছে। বৃষ্টির দিন শেষ হওয়ারও অনেক অনেক দিন পেরিয়ে গেছে এখন। ভাদ্র মাস। এই ভাদ্র মাসেই হঠাৎ করে আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা আবারো দেখা দিয়েছে। কেউ বুঝে উঠতে পারছে না। এমন ঘোরতর বর্ষা শেষ হওয়ার পর আবার কেন সেই পুরনো রূপে চলে এসেছে বর্ষা? মনে হচ্ছে যেন এখনই বর্ষার নতুন মৌসুম শুরু হচ্ছে। আসলে কিন্তু তা নয় একটা যুদ্ধের দামামা বাজতে চলেছে সামনে এবং সেটা ভেবেই কেন যেন আশঙ্কায় মন দুশ্চিন্তায় ভরে উঠেছে। নিশুর ও নিশীথিনীর কোমরে একটা ওয়েদার ফোরকাস্ট ও এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল কিউব যন্ত্র আছে। এই দুটো যন্ত্র দিয়ে মোটামুটি এক ধরনের ইনডিকেশন পাওয়া যায়। কিন্তু এদিক থেকে নিশুর এর সম্পর্কে জানার জন্য সময় নেই। কারণ তাদের মনে হচ্ছে সুপার লর্ড আসার সম্ভাবনা আছে এবং আসলে তাদের কি ধরনের প্রিপারেশন নেওয়া দরকার? সেটার চিন্তাও তাদের মধ্যে চলমান আছে তারা আগে থেকেই সমস্ত কিছু পরিকল্পনা করে রেখেছে। এদিকে মনে হচ্ছে, সামনে অনেক বড় ধরনের একটা ঝড়ঝঞ্জার ভেতর দিয়ে তাদেরকে যেতে হবে।
ইয়ারফোন দিয়ে নিজে নিজেই অনেক জনকে কল করলো নিশু। নিজের অতিমানব অনেক বন্ধুর সাথে কথা হয়েছে। অনেকের, যেমন অনুবালক এবং গতিবালক তারা দুজনেই সম্মতি দিয়েছে তাদের সাথে বসার জন্য এবং তারা দুজন মিলে আজকে দেখা করার কথা ছিলো। কিছু কথা সুপার লর্ড নিয়ে আলোচনা সাপেক্ষে নিশুর হেডকোয়ার্টারে একটা গোপন চেম্বারে ঢোকার জন্য আলাদা গোপন খাঁজে বসানো একটা কলিং বেল বসিয়েছে। এই গোপন কলিং বেল দিয়ে কিন্তু মোটামুটি জানা যায়, খুব কাছের কেউ এসেছে নিশুর কাছে।
'এসো।' অণুবালক ও গতিবালক দাঁড়িয়ে ছিলো এতোক্ষণ। লাউডস্পিকারে নিশুর গমগমে গলা শুনে চমকে উঠলো তারা। স্বয়ংক্রিয় দরজা খুলে গেলো। ভেতরে ঢুকে নিশুকে আলিঙ্গন করলো তারা।
নিশু এবং অনুবালক, গতি বালক তারা তিনজন মিলে বেশ আলোচনা করলো কি করা যায়। তখন নিশুর মাথায় এমন একটা বুদ্ধি এলো যে সে সাথে সাথে বলেই ফেললো, 'একটা জিনিস! সেটা হচ্ছে আমাদেরকে আগে ভেবে দেখতে হবে এই যে সুপার লর্ড আছে তার কি কি ধরনের পাওয়ার, সেটা নিয়ে ঘাঁটতে হবে।'
তখন ডার্ক মাল্টিভার্স ডেটাবেজ খুলে বসলো নিশিথিনী। সেখানে দেখা গেলো সুপার লর্ড এর বেশ কিছু পাওয়ার আছে, যার মধ্যে বেশি ভয়ংকর হচ্ছে টেলিলেকিনেসিস এবং এই পাওয়ার বেশি শক্তিশালী কেনো এটা নিয়েও বিস্তর আলোচনা হলো। এছাড়াও তার মধ্যে এক ধরনের ম্যাজিক্যাল ইম্প্রেশন আছে এটা দিয়ে তারা বেশি তথ্য উদঘাটন করতে পারলো না।
অণু বললো, 'এই লোকের তো দেখি রাশভারী। অবশ্যই কারণ এই 20 বছরে যেমন-তেমন সুপারভিলেন হয়তো আমরা দেখেছি। অনেকের সাথে আমরা যুদ্ধ করেছি কিন্তু ওর শক্তির ধারে কাছেও আগের গুলো আসতে কিন্তু পারবেনা। কারণ আগের ভিলেনদের হয়তো দু তিনটা পাওয়ার ছিলো এবং এর কাছে হয়তো অনেক ধরনের পাওয়ার আছে বলে আমি মনে করি। সে রিয়েলিটি ওয়ারপিং করতে পারে। সে যে কোন কিছুর উপর দিয়ে ঝড় বইয়ে দিতে পারে এবং বিশেষ ক্ষেত্রে বায়ুর গ্রাস কিন্তু নিয়ে আসে তার হাত দিয়ে। এই ক্ষেত্রে আমি বলতে পারি তার যে বজ্রশক্তি আছে সেটা দিয়ে সে কিন্তু অনেক বিপদ ঘটাতে পারে। কারণ বজ্রশক্তি একটা বড় ধরনের শক্তি ও কিন্তু এছাড়া ম্যাজিক্যাল অন্যান্য রিলেটিভিটির ক্ষেত্রে কিন্তু হাত দিয়ে যে কোন বস্তুকে একসাথে তুমি দুমড়ে মুচড়ে দিতে পারে হাতের ইশারায়। সুতরাং দুমড়ে-মুচড়ে দেওয়ার এই যে শক্তি সে কিন্তু বেশ অন্ধকারে করতে পারে এবং সে বুঝতে পারে যে তার শক্তির দৌড় কতটুকু, যেটা আমরা অন্ধকারে টের পাবো না। সুতরাং আমাদেরকে অবশ্যই এ ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে। আর একটা কথা যে ব্যাপারটা না বললেই না আমাদের তিনজনকে তিন দিক থেকে আক্রমণ করতে হবে এবং আমাদের শুধু তিনজনকে দিয়ে হবে না। আমাদের সাথে আরও কয়েকজনকে থাকতে হবে যারা এই ধরণের কাজে আমাদেরকে সাহায্য করবে। এক্ষেত্রে আমার চয়েস ইরিনা এবং ত্বরণ।'
'এত কম লোকবল দিয়ে কি ওকে ঠেকানো যাবে? আমার মনে হয় না, আমার মনে হয় এক্ষেত্রে গোপন সংঘের সবাইকে টেনে আনলে ভাল হবে।' ফারহান বললো। তখন নিশু তাকাল গতিবালকের দিকে।
'ভালো বুদ্ধি দিয়েছো। তোমার কথাটা মাথায় রাখলাম। তাহলে আমাকে মনে সম্ভবত জাফর আঙ্কেল কে বলতে হবে। আইরিন আন্টিকেও বলতে হবে। তারপর ওদিকে আছে লিটা-সাব্বির জুটি এবং এটা ছাড়াও তাদের সাথে সাথে আছে বলারস ভাই বোন। এই দুই ভাই বোন থাকলেও আমাদের টিম কিন্তু বেশ শক্ত পোক্ত হবে। অবস্থান ভালো থাকবে। তবে একটা কথা শুধু যে আমরা ছোটরা থাকবো এবং বড়রা থাকবে না সেটা না। চাইলে আমাদের বাবা-মা আমাদেরকে সাহায্য করতে পারে।' বিজ্ঞের মতো বলে উঠলো নিশু।
এমন সময় গতিবালক খুব উৎফুল্ল হয়ে নিশুর সামনে এসে বললো, 'আচ্ছা একটা কাজ করলে কেমন হয় নিশু বলতো?
তখন বলল নিশু, 'কেমন?'
'যদি হোস্ট প্রাণীটাকে নিয়ে আসি তাহলে এইহোস্ট প্রাণীকে ব্যবহার করে আমরা একটা এভিল ফোর্স ক্রিয়েট করতে পারি। তখন তার দিকে দুজনেই ঘুরে তাকালো।
নিশু বললো, 'এই কথা তো আগে মাথায় আসেনি।'
অনুবালক বললো, 'তবে আমরা যদি হোস্ট আনি, আমাদের ভেতরে ডাক মাল্টিভার্সের যে রিয়েলিটি ম্যাজিক কন্সেন্ট্রেশন সেটা কিন্তু আমাদের ভেতর বিদ্যমান হয়ে যাবে এবং আমরা শুধু আমাদের নিজেদের শক্তি না, আরো অন্যান্য শক্তিও কিন্তু ব্যবহার করতে পারবো তখন।' সেই কথায় সবাই সায় দিলো এবং নিশু ও গতিবালক সাথে সাথে চলে গেলো ডার্ক মাল্টিভার্সের ওখানে। ডার্ক মাল্টিভার্স থেকে প্রাণীটিকে ধরে নিয়ে আসলো। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি কিভাবে হলো সেটা কেউ বুঝলো না।
তখন গতি বালক এসে বললো, 'আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে আমি যখনই তাকে ব্যবহার করতে চাই সে আমার কথা শুনে ফেলে। সে আমারই এক ধরনের ভক্ত বলা যেতে পারে। একটা পোষা কুকুরের মতন। যেটা করাতে চাইবে সেটা করবে। এর সাথে সাথে বেশ ভালো একটা সাফল্য পাওয়া সম্ভব হয়। তখন নিশো এবং অণুমানব দুজন মিলে এই মাল্টিভার্সের প্রাণীটাকে একটা চেম্বারে বসে ছিলো। চেম্বারের ল্যাবে কিছুক্ষণের মধ্যে মাল্টিভার্সের প্রাণী থেকে জিনোম সিকোয়েন্স বের করে তার এনার্জি লেভেল অনুযায়ী তার কোষ থেকে এক ধরনের কেমিক্যাল পাওয়ার তৈরি করলো। সেটা এক ধরনের ইনজেকশন পুশ করার জন্য তারা তিনজন তিনটা চেয়ারে বসলো এবং তখন সেই প্রাণী থেকে এক ধরনের কেমিক্যাল উত্তীর্ণ হতে লাগল এবং সেগুলো সরাসরি পুশ করা হলো। কিছুক্ষণের মধ্যে অতন্দ্র প্রহরী হয়ে উঠলো মহাশক্তিশালী একজন এবং বাকিদেরও একই শক্তি চলে এলো শরীরে। তারা তিনজন মিলে দেখাতে শুরু করলো তাদের থেকে কি শক্তি বের হতে পারে। এমন সময় ঘরের বাইরে কালো তরলের বৃষ্টি পড়া শুরু হলো এবং তারা তিনজনই তিনজনের দিকে তাকালো। তাদের তিনজনের চোখ সাদা থেকে কালো হয়ে গেল এবং তখন বোঝা গেলো তাদের ফুল প্রেসারে পাওয়ার এসে গেছে। তারা বুঝতে পেরেছে মেঘ ঝরিয়ে বৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু, হঠাৎ আলখেল্লা পরা একটা ভয়ংকর চেহারা দেখে নিশিথিনী আঁতকে উঠলো। পুরো মুখটা ফ্যাকাসে। সাদা। এটা দেখে বেশ ভয় পেয়ে গেল নিশীথিনী। স্ক্রিনে সে সব দেখতে পাচ্ছে। সে দেখতে পাচ্ছে আরো অনেক কিছু সেই লোকটার সাথে সাথে পেছনে আসছে। এ ও দেখা গেলো ছোট ছোট অনেকগুলো শিপ সেই লোকের মাদার শীপের সাথে পৃথিবীতে নামতে যাচ্ছে। তখনই সে একটা লাল বোতাম টিপে দিল।
'সুপার লর্ড'
ভয়ংকর এক নিরবতা নেমে এলো যেনো চেম্বারে।
সাত.
পাঁচদিন আগের কথা। বিশু ফারহান ও তিহান তিনজন মিলে বৈঠকে বসেছেন তাদের আজকের মিটিং এর মূল কথা হল যে তাঁরা কীভাবে সুপার লোটো কে ধ্বংস করবে স্তরকে ধ্বংস করার জন্য একটা বিশাল প্ল্যান করেছে তারা তারা জানে যে এর উপর যদি একবার পৃথিবীতে অবতরণ করেন তাহলে যেকোনো মুহূর্তে পৃথিবীর সাথে একটা বড় ধরনের যুদ্ধ লেগে যেতে পারে আর সেই কথা চিন্তা করেই নিশু ফারহান ও তিনজন মিলে সেই প্লেনটা করতে বসেছেন প্ল্যান মাফিক এই সেই জায়গাগুলো ক্লিপ দিয়ে চিহ্নিত করছেন চিহ্ন দিয়ে মাছ করে এবং ক্লিপিং করে সবগুলো জায়গা সম্ভাব্য হিসেবে যাচাই-বাছাই করতে লাগল তারা শেষবার যখন তাহসান এসেছিল সে এমন একটা জায়গায় অবতরণ করেছে যে জায়গাটা অনেকটুকু স্বর্গীয় এবং সেটাতে কিসের উত্তর যজ্ঞ শুরু করতে চেয়েছিল কিন্তু সেখানে বাংলাদেশের বিমান ওড়া যখন একত্র হয়েছেন তখন সবাই মিলে প্রতিহত করেছে বেশ ভালোভাবেই এবং এই জায়গাটা এই কারণে ভালোবাসি কারণ এই জায়গাটা এত বড় বেশি দিগন্তবিস্তৃত এবং বিশাল একটি সিডিএম এর থেকেও দ্বিগুণ হতে পারে তাই দাম খানের মতো সুপার লোটো এখানে অবতরণ করেন প্রতিপালককে নিয়ে যেতে পারে।
জায়গাটা আগের মতই আছে 20 বছরের টু চেঞ্জ হয়নি অনেক বড় এবং বিশাল পাশ দিয়ে নদী বয়ে যাচ্ছে এবং আরো অনেক কিছু আছে নৈসর্গিক একটা ডিসিশন এটা সম্ভব হিসেবে ধরা যেতে পারে কিন্তু আমার কেন জানি মনে হচ্ছে এই এই ধরনের জায়গা থেকে এসে মরুভূমির মতো জায়গা গুলো বেছে নিতে পারে তখন পানির মূল্য তালিকা রাখা যেতে পারে কিন্তু কোন মরুভূমিতে সৌদিতে নাকি আরব আমিরাতে নাকি সাহারাতে নাকি রাজস্থানের মরুভূমিতে তখন কণ্ঠে কণ্ঠে বলল এখন আমার কেন জানি মনে হচ্ছে এই জায়গাটা মোটেও ওরকম নয় কারণ একটা ব্যাপার কি যদি এমন হতো যে সাগরের নামতে পারে তখন তারা এসেসমেন্ট করা শুরু করলো।
তখন হঠাৎ করে দিয়েছো পিছনের দিকে তাকাল 360live আঙ্কেল কোথায় লুকিয়ে গেছে জানিস তখন কেন জানিনা একটু চমকে উঠে বললো খবর জানিস কিভাবে তখন নিশি বলল এই ঘটনাটা আমাকে বাবা বলেছে কিন্তু বাবা জানেনা যে সুন্দরবন নাকি অন্য কোথাও ভাইয়ের বাবা সেটা নিয়ে খুব সন্দেহ প্রকাশ করছে তখন তার বাবাকে সাথে সাথে কল দিলাম কল দিয়ে জানতে পারল যে বাংলাদেশের সুন্দরবনের কাছে তখন নিশ্চিত হয় সে যখন তাকালো তখন দেখল দুজন তাকিয়ে আছে তার দিকে তখন তারা দুজনই বলল চল ওখানে হয়তো শুক্লার নামতে পারে কারণ যদি একবার সুন্দরবনকে ধ্বংস করে দিতে পারে তাহলে সুন্দরবন মোটেই সাথে সাথে আমাদের গোটা পৃথিবীতে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে যেতে পারে যেমনটা সেটা হল যোগাযোগ করার সময় করেছিল তখন তারা বেশ খানিকটা চিন্তিত হয়ে পরলো বিশু আমি শহরের ডরাই না আমার হাতে এতো বেশি সময় নেই আমি এখন যেটা করতে পারি তাদের জানিয়ে দিয়ে তৈরি আমার একটা বানাতে হবে তখন প্রায় সমস্যার জন্য কি বলে এটা নিয়ে অনেক শক্তিশালী পাসপোর্ট বানানোর প্রচেষ্টা আছে আমি তখন বলল এটা দিয়ে কি করবি তো এটাতে সব রকমের পাওয়ার থাকবে যেটা আমি বাবার একটা ল্যাবের ফর্মুলা থেকে পেয়েছি এবং উপলব্ধি করা যায় সেই সুখে থাকো তাহলে আমি মোটামুটি সুপার লর্ডকে হারিয়ে দিতে পারবো।
কিন্তু তখন তিহান উঠে দাড়িয়ে বললো ও উত্তেজিত হয় কিন্তু তুই তো একলা পারবি না আমি আর পাঠান ছাড়া কি এটা সম্ভব তখন নিশু বলল যে আরেক তোদেরকে ছাড়া কি আমি একলা আছি ফল্ল ডাক্তার বাহিনীকে হারাতে পারবো নাকি ওদেরকে তো অবশ্যই দরকার আছে তারপরও যদি না থাকে তাহলে আমি কিভাবে একলা এতগুলো শক্তির সাথে পেরে উঠব একটা অপশক্তিকে তুমিয়ে নি তাহলে আমাদের সবাইকে একসাথে যোগ প্রচেষ্টায় রিতুপান্নর এবং তার বাহিনীকে হারিয়ে দিতে হবে তাহলে আমরা বিজয়ী হতে পারব আর না হয় আমাদেরকে পরাজয় বরণ করে নিতে হবে এবং ওরা ধরে ধরে পৃথিবীর সব হিরোদেরকেই তো মেরে শেষ করে দেবে।
ফ্যাক্টরিতে অবশ্যই মিশু এবং তাদের যে হাইটেক ইঞ্জিনিয়াররা আছে তারা সবাই মিলে প্রস্তাব প্রথমেই একেবারে টাইটেনিয়াম দিয়ে তৈরি করা হলো শীতের একাংশ সব জায়গায় জন্মানো এবং উন্নত দেশগুলোর পক্ষ থেকে এবং প্রতিটি মুসলিমের সাথে জোড়া লাগিয়ে জিনিসটাকে এমন শক্ত ভাবে তৈরি করা হল যে সেটা দেখে নিজে নিজেই অবাক হয়ে গেল এবং শিশুর মনে হল সে উপলক্ষে হারানোর জন্য এটাই সবচেয়ে উত্তম পন্থা যেটা সে এতদিন ধরে অনুমান করে এসেছে তখন নিশ্চুপ দেখতে লাগল আস্তে আস্তে সেটা নিয়মের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে ইনস্টানিও এমন একটা পদার্থ যেটা কম্প্রেস করলে কাচের মত হয়ে যেতে পারে আবার লোহার মত শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং এটাকে ভাঙ্গা আসলে অসম্ভব এটা দিয়ে কারো শরীরে যদি আঘাত করা হয় তাহলে তার এক সেকেন্ডের মধ্যে মৃত্যু হবে কারন এটার পানি খেলে ইস্পাত ভেঙে চুরমার হয়ে যায় তখন নিশু একটা কল দিলো তার বন্ধুদের কে এবং সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এল ও ফারহান ফ্যাক্টরিতে এসে যখন দাড়ালো তখন তারা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম চুপচাপ দেখে মনে হচ্ছে এটা আসলে সুখ 929 হীরকখচিত জিনিস ইংলিশে আলো বিকিরণ করে ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে তার ভিত্তিতে সবার মাথা খারাপ হয়ে গেলো এবং তারা সবিস্ময়ে তাকিয়ে রইলো।
সুটটা গায়ে পরার সময় মেশিনগুলো চারদিক থেকে উপরে এলিমেন্ট গুলো একত্র করা শুরু করল এবং রিসোর্স রয়েছে সেগুলো ঠিক হয়ে গেল নিজের যখন উঠে দাঁড়াল সে জায়গা থেকে তখন মনে হল তাকে ভিনগ্রহের প্রাণীর মতো এবং হঠাৎ করে হাসতে লাগল তখন বিহান বল হাসছিস কেন তখন বলল এবার মজা বুঝতে পারল কি মনে হয় মনে আছে যে তার থেকেও যে অনেক শক্তিশালী পাওয়ারফুল মানুষ এই মহাজগতে ইহজগতে আছে তখন ফারহান বলল ইরানকে এবার আমাদের পালা আমরা হারবো না এবং সুপার লটকে হারিয়ে দেবোই।
এমন সময় ঝড় উঠলো নিশুর মোবাইলে এবং মুখগুলো 900va এটা যেন তেন কোন কারো নয় এটা সরাসরি হাসপাতাল থেকে আসছে তার মানে কি নিশু তার বাবাকে অথবা মাকে ফিরে পেতে চলেছেন ফোনটা ধরতে নিষেধ কলটা ধরে দেশটিতে লাফ দিয়ে উঠলো তখন হাসপাতাল থেকে বাসায় বাকি দুজনও বুঝা গেল কিছুটা হয়েছে ফারহান এবং তার দিকে তাকিয়ে রইল নিশু কল কেটে দিয়ে বলল বাবাকে ছেড়ে দিয়েছে বাবাকে আর থাকতে হবে না পাওয়ার কেন আসে এবং বাবা কালকে থেকেই আমরা বাসায় নিয়ে যেতে পারবো।
আট.
তিন দিন আগের কথা তখন মিশু প্রায় সুস্থ স্বাভাবিক হয়ে ঘরের ভেতর চলাফেরা করতে পারছে বয়স হয়ে যাওয়ায় তার শরীর তো আর বারণ তো নয় যেন বার্ধক্যের একটা ছাপ পড়তে যাচ্ছে তার শরীরে কিন্তু মিশু বদ্ধপরিকর সে এখনো অন্যের সাথে লড়তে পারবে বলে এবং সে সে তেমনি ভাবে রাস্তায় নামার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নিশু ও ফারহানের কাছে কিন্তু ফারহান বলেছেন এই মুহূর্তে আপনার এভাবে রাস্তায় নামা উচিত হবে না কারণ আপনি যদি এখন রাস্তায় নামেন আপনি কিছুদিন আগে হসপিটাল থেকে এসেছেন আপনার পক্ষে সেই যুদ্ধে যাওয়া সম্ভব হবে না তখন নিশি বলল দেখো আমার কাছে বেশকিছু এক্সট্রাঅরডিনারি টনিক আছে যেগুলো দিয়ে আমি খুব ভালোভাবেই লড়তে পারবো তখন বলল নিচু দেখো বাবা সেগুলো হচ্ছে তুমি দিতে পারবে কিন্তু যুদ্ধ শেষ করে আসার পর তোমার শরীর আর্তগোল সইতে পারবে না এমন কি হতে পারে তুমি মাইল্ড স্ট্রোক করে বসতে পারো তখন নিশি বলল না সেই ধরনের ম্যানেজমেন্ট শিক্ষিকার কাছে দেওয়া আছে টপিকটা জাস্ট গায়ে পোস্ট করলেই হবে আমার কাছে এটা অত বেশি ভয়ঙ্কর কিছু মনে হচ্ছে না এবং অনেকটা আমি গায়ে দিয়ে যদি যুদ্ধে নামতে পারে সুপারকে হারানো তোমার পক্ষে কোনভাবেই অসম্ভব কিছু হবে না এবং তুমি নতুন একটা বই খুঁজে পাবে ওকে ধ্বংস করার জন্য।
এভাবে কথা বলতে বলতে হঠাৎ করে নিঃস্ব একটা ডিসপ্লে সিগনাল পাঠানো মহাকাশ এর যেটা সুপার কাছে পেতে পারে এবং সেটার দেখলেই আপনাআপনি যুদ্ধংদেহী হয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করতে পারে মিনু বলল কি করছো তুমি নিশু নিশু বলল বাবা আমি সুপারের কাছে ডিসপ্লে সিগন্যাল পাঠাচ্ছি কারণ এটা যদি এখন শেষ করতে না পারি তাহলে হয়তো ভুল সত্য যে কোন সময় আক্রমণ করবে এবং আমরা অপ্রস্তুত অবস্থায় মারা যেতে পারে এবং ও পৃথিবী ধ্বংস করে চলে যাবে তখন মিশু বলল কাজটা ঠিক করছো কিনা জানিনা তবে এতে কিন্তু পৃথিবীর অনেক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে আর আমি চাই না পৃথিবীর কোনো ধরনের ক্ষতি হোক।
বেস্ট আঁটসাঁটভাবে নিশু কাঁথা গায়ে জড়িয়ে আছে নিশীথিনী এসে থাকি কিছুক্ষণ পরপর তার গা হাত পা মুছে দিচ্ছে নিজের বাবার মতোই অনেকটা সে থাকে বাবা ডাকে তাই তাকে বাবা ডাকা আর শশুর মশাই মনে মনে থাকা একই কথা নিশীথিনীর দিকে তাঁকিয়ে বললো মা তুমি তো জানো আমরা পুরুষরা সব সময়েই যুদ্ধংদেহী জাতি এবং যারা যুদ্ধ করে না তাদেরকে কাপুরুষ বলা হয় আমি মিশুকে আজকে যুদ্ধে যেতে বলছি এই কারণে যাতে সে যুদ্ধে গিয়ে অন্তত কিছু করতে পারে আমার ভয় নিজেকে হারিয়ে ফেলা নয় আমার ভয় নিশু কাপুরুষের মত যদি জীবন দিয়ে দেয় তখন নিশীথিনী সাথে সাথে মিশর মুখে হাত দিয়ে বলে বাবা আপনি এসব নিয়ে চিন্তা করবেন না নিজের প্রতি আমার যথেষ্ট আস্থা আছে এবং নিশু সেটা করে যেতেই পারে।
যতক্ষণ পর্যন্ত প্রাণ আছে ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে সুখ কিছুই না আর সে একটা জিনিস তৈরি করেছে যেটা আপনাকে দেখানো উচিত সাথে সাথে সুপার ওই পারে দাঁড়ানো টিভি টার ওপর একটা চালিয়ে দিল এবং রিমোট দিয়ে চালানোর সাথে সাথে বেশ অবাক হয়ে গেল সে বলে ডাকি তখন নিশীথিনী বলল এটা অগ্নিপথ পাওয়ার প্রটেকশন শিশুর চোখ কপালে উঠে গেল সমস্যা বলে এটা কে বানিয়েছে তখন নিশীথিনী বলে এটা নিশ্চিত তৈরি নিষেক মুচকি হাসছে তার দিকে তাকিয়ে মিশুক ভেতরে ভেতরে বেশ প্রাউড ফিল করল যেন গর্বভরে বুকটা ফুলে উঠলো তার নিজের ছেলের জন্য আজ অনেকদিন পর এমনটা গর্ববোধ হচ্ছে।
টেকনোলজি অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে নিষ্ঠুর হাইটেক ইঞ্জিনিয়াররা তার জন্য একটা ডিপফেক সফটওয়্যার তৈরি করেছে যেটার মাধ্যমে নিচু প্রায়ই তার মত অবিকল একটা চেহারাকে দিয়ে কথা বলাতে পারে এবং নিশু ওই মেসেজটা পাঠিয়েছে স্পর্শে টেকনোলজিঃ দিয়ে তার চেহারার অবিকল সেই তৈরি গ্রাফিক্সকে দিয়ে সে কথা বলিয়েছে সেভাবেই যেন বলেছে সেটা সরাসরি ভিডিওতে দেখা গেল সেখানে নিশু বলছে আমরা জানি তুমি আমাদেরকে মারতে আসে এবং আমরাও জানি যে তুমি পৃথিবী ধ্বংস করতে আসছ কিন্তু একটা কথা মনে রেখো এই নিশো এবং ফারহানার দেহে যতোটুকু আছে সেটুকু দিয়ে আমরা তোমাকে যে কোন ভাবে যেকোন রকমের পঞ্চতত্ত্ব করতে পারি এবং তুমি এটাও ভালো করে জানো যে আমরা একবার যদি তোমাকে ধ্বংস করতে পারি তাহলে আর কোন শক্তি আমাদের সাথে লড়ে উঠতে পারবে না সে যত বড় ওয়ার লর্ড হোক না কেনো।
তখন তিহান বেশ চমকে উঠে বললো এটা তুই তৈরি করেছিস তুই কি জানিস কত বড় বিপদ বয়ে আনতে পারে এই মেসেজটা কখন যে আমার হাতে এই মুহূর্তে এত বেশি কথা বলার সময় নেই কারণ এখন আমাদের কি চিন্তা করতে হবে পরিকল্পনা কতটুকু বাস্তবায়ন করা যায় পারলে পরিকল্পনাকারী বড় করতে হবে আমার এই মুহূর্তে যেটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে গোপন সংঘ বাংলাদেশের অতি মানব দেহের প্রত্যেকটা সুপার টিমকে নিয়ে একসাথে বসে সেই প্লেনটা কে বুঝানো এবং সুপারকে আটকানোর জন্য এবং সুপার যখন পৃথিবীতে অবতরণ করবে তাকে ধ্বংস করতে হবে এই মসজিদ নিয়ে আগাতে আগাতে হবে এবং সবাইকে এটাই বুঝতে হবে যে শুঁকে মারা গেলে আমাদেরকে অনেক অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
প্ল্যান এ যা করা হলো সেটা হচ্ছে যে একদিক থেকে তরুণ সংঘ আরেকদিক থেকে বাংলাদেশ বিমানের ভাড়া মানে মেয়েটা হিউম্যান এন্ড কমান্ডো অ্যালায়েন্স প্রজেক্ট এই ব্যাপারে সাহায্য করবে চারদিক থেকে চার রকমের আক্রমন করা হবে গোপনসহ ডান পাস থেকে এবং তরুণ সংঘ বাম পাশ থেকে মাঝখান থেকে হঠাৎ করে আক্রমণ করা শুরু করবে আর ওদিকে তিহান ফারহান ও নিশু একসাথে আক্রমণ করবে তখন মিশর কাছে জিনিসটা বেশি হয়ে গেল সে বলল সেটা তো বুঝলাম কিন্তু যদি কোনো কারণে একটা মিসটেক হয়ে যাবে একটা ভুল হয়ে যায় তখন কি করবে তখন বলল এর জন্য ব্যাকআপ হিসেবে আমরা বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন কাজে লাগাবো এবং তারা এসে সাথে সাথে আক্রমন করে বসবে সুপার লর্ড এর সবাইকে।
তখন বেশ প্রশংসা দৃষ্টিতে ছেলের দিকে তাকাল নিশু নিশু কে বলল নিশু তুমি যেটা ভালো মনে করো সেটাই তোমার উপর আমার আস্থা আছে শুধু এটুকু মনে রাখবে পিছপা হবে না যুদ্ধ থেকে এবং তোমার যুদ্ধ তোমাকেই করতে হবে এটা সবসময় মাথায় রাখবে আর হ্যাঁ একটা কথা সব সময় মায়ের কথা চিন্তা করবে মায়ের দিকে যদি তাকাও তাহলে মায়া দৃষ্টিতে তাকাবে এবং সেখান থেকেই তুমি অনুপ্রেরণা পাবে কারণ তোমার মা এই দুঃখ অবস্থায় তোমাকে জন্মদান করে চলে গেছে এবং সে কোমায় আছে এখন সে যদি কখনো ছেড়ে তাহলে তোমার মায়ের কাছে বিরক্ত নিয়ে আমি কথা বলতে পারব এবং তুমি যে তোমার বাবার নাম স্বাক্ষর রেখেছ সেটাও তোমার মাকে আমি বলতে পারব।
নয়.
গুড়ুম শব্দে কোথাও বাজ পড়ল যেনো। এক টানা বৃষ্টিতে চারপাশ ধুয়ে যাচ্ছে। মাছ ধরার জালটা নিয়ে নিয়ান খাইন যখন গেলো পাহাড়ি খাঁড়িটাতে, তখন এক অপূর্ব দৃশ্য ধারণ করেছে প্রকৃতি। ব্যাঙের ডাক শুনে মনে হলো বেশ খানিকটা বেড়েছে। অজানা কোনো ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে আছে যেনো চারিদিক। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই নিয়ানের। আসলে ভুটানের মানুষজন শান্তিকামী কিনা, এরা সহজে ভয়ে মরতে চায়না। সেটাই তার জন্য কাজে দিয়েছে। আচমকা একটা বিশাল দানবীয় শরীর এসে পড়লো যেন পাহাড়ি খাঁড়িটাতে। বিমান যুদ্ধ নয়, যেন উল্কা এসে বিস্ফোরিত হয়েছে জায়গাটায়। আচমকা এরকম ঘটনায় নিয়ান একটু নড়েচড়ে বসলো। এই বছর বয়সে অনেক কিছুই দেখেছে সে। কিন্তু আজ অব্দি এমন ঘটনা সে ঘটতে দেখেনি।
বিশাল আকার তার, আকৃতিতে অনেকটুকুই বড়ো মানুষের থেকে 'হওওও' করে বেশ খানিকটা আওয়াজ করলো। গোঙ্গানি কিনা বোঝা গেল না, কিন্তু যখন এক হাত দিয়ে দুই তিনটা গাছ উপড়ে ফেলতে লাগলো এরপর সচকিত হয়ে নিয়ান লাফ দিয়ে পিছিয়ে গেলো একটু তফাতে।
পিছিয়ে এসে দেখতে লাগলো কি হচ্ছে। ঠিক তখনই একটা ছোটখাটো, নাহ! অল্প বয়সী একটা ছেলে এসে আকাশে উড়তে উড়তে একই গাছ সজোরে চোখের ইশারায় বিস্ফোরণ ঘটালো আকাশে! বিস্ফোরণ নয় যেনো পুরো গাছটাকে অনু পরমাণু বিভাজন করে ছুঁড়ে দিলো আকাশ থেকে নেমে আসা লোকটার গা বরাবর।
ছুরির ফলার মতো নয়। সরাসরি গুচ্চ বোমার মত করে সেটা ফুটলো কিম্ভুতকিমাকার শরীরের লোকটার উপর। শরীরে এমন আঘাত পেয়ে লোকটা বিকট আর্তনাদ করে উঠলো।
আর সেই ছেলেটা বলে উঠলো, 'আমি অণুবালক। যে বা যারা এই মুলুকে অরাজকতা করবে বা করার চেষ্টা করবে তারাই এভাবে শাস্তি পাবে।'
ছেলেটার কথা না বুঝলেও নিয়ান মনের মধ্যে এক অদ্ভুত প্রশান্তি পেয়েছে মনে হচ্ছে। আর সেটাকে বাড়াতে আরো একদল মানুষ যেন সঙ্গ দিতে এলো অণুবালক কে। মানে আমাদের তিহানকে সাহায্য করতে চলে এলো। সেখানে সবার মাঝখানে একজনকে, তার সমবয়সী একজন তরুণ বয়সীকেকে দেখা গেলো। শরীরে অদ্ভুত সুন্দর এক বর্ম, আধুনিক সাজসজ্জায় সজ্জিত। আমাদের অণুবালক বলে উঠলো, 'ওয়েলকাম লিডার, আমাদের নিশু সাহেব এবার কি করবেন? তিহানের প্রতুত্ত্যরে আমাদের অতন্দ্র প্রহরী "নিশু" বলে উঠলো সবার উদ্দেশ্যে, 'কিল এবোভ অল। স্লটার অল দ্যা হিপোক্রেটস অ্যান্ড বিস্টস।'
মুম্বাইয়ের সিবিচে হঠাৎ করে একটা কিম্ভুতকিমাকার উড়ন্ত বস্তু দেখা গেলো। সেখান থেকে একটা সিড়ি বেরিয়ে আসলো স্বয়ংক্রিয় হয়ে এবং সেই স্বয়ংক্রিয় সিড়ি থেকে নামতে দেখা গেলো অনেক জন সৈন্যকে। তারা আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়তে লাগলো গোটা মুম্বাই জুড়ে। এছাড়াও বাংলাদেশ চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সী বিচ একইরকম ভাবে ছড়িয়ে পড়তে লাগলো। এরপর নিউইয়র্কে। সাথে আরো অনেক জায়গায় এবং আস্তে আস্তে ইউরোপ-আমেরিকা রাশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া এসব জায়গা থেকে ছড়িয়ে পড়ল আফ্রিকায়। যেখান থেকে আক্রমণ প্রথমে সেটা ভূটানে। কিন্তু তিহান সেখানে প্রমাণ করলো সে ধ্বংস একাই করতে পারবে খলনায়ক সুপার লর্ডের লোকদের। এবার নামতে শুরু করলো সুপার লর্ড।তাকে দেখেই হা রে রে করে তেড়ে এলো একদল অতিমানব। সুপার লর্ড ও কিন্তু সমস্ত ধরনের হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে তার হাত থেকে বজ্র ছুঁড়ে দিতে লাগল। লর্ডের আঘাতে সব প্রাকৃতিক স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেলো। এভাবে তার দল আস্তে আস্তে সারা পৃথিবী দখল করে ফেলতে লাগলো। এমন সময় সে সেখান থেকে অতি দ্রুত বেগে আকাশে উড়ে গেলো। তবে কিছুক্ষণের ভেতর একটা জায়গায় এসে নামল। এই প্রথম একটা ধাক্কা খেলো। সেখানে একটা অদ্ভুত রকমের বর্মপরা মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। তার এই ধরনের বর্মপরা দেখে সে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়লো। কিন্তু সে পরক্ষণে আবার খুশী হলো। কারণ, ওই মানুষটা ছাড়া আশেপাশে সমস্ত কিছুকে তার ক্ষুদ্র মনে হলো।
এমন সময় হঠাৎ করে তাকে আক্রমণ করে বসলো সেই মানুষটি। সে আর কেউ নয়। আমাদের মিশু। মিশুর আক্রমণে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বসলো সে। সুপার লর্ড মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো। এরকম আর সে আগে কখনো খায়নি। সে প্রথমে মিশুর দিকে তাকালো। তাকিয়ে বুঝতে পারলো যে মিশুকে মারা এত সোজা নয়। সে কিন্তু একেবারে সাধারণ একজন মানুষের মতো। তার শরীরে এতো বিশাল ধরনের সুপারপাওয়ার এলো কিভাবে? মিশুর কথা চিন্তা করতে করতে তার দিকে এক বিশাল রকমের লেজার চাবুকের বাড়ি মেরে বসলো নিশু। ব্যাথায় গুঙিয়ে উঠলো সুপার লর্ড। নিশু হেসে বললো, 'কি মনে করেছিলে তুমি?আমাদেরকে হারিয়ে দেবে এত সোজা? আমাদের কাছে তোমাকে হারানো কোন ব্যাপারই মনে করিনা।'
আর ঠিক তখনই নিশুকে অদম্য এক শক্তি দিয়ে আছাড় মারল সুপার লর্ড। সুপার লর্ডের এই বাড়ি খেয়ে ১৫ থেকে ২০ হাত দূরে গিয়ে যখন সে ছিটকে পড়লো, আবার উঠে দাঁড়ালো। তখন সুপার অবাক হয়ে গেলো ততক্ষণে অনুমানব বিশাল আকার একটা পাথর আকাশে তুলে নিয়েছে এবং সেটাকে অণু-পরমাণুতে বিভাজন করে সরাসরি ছুঁড়ে দিল সুপারের কাছে এবং সুপারের গায়ে লাগাতে চিৎকার করে উঠলো এবং সেই চিৎকারে আশপাশের সব কিছু বিদীর্ণ হয়ে গেল যেনো। এত জোরে শব্দ হলো যে আশেপাশে কয়েক মাইল পর্যন্ত শোনা গেলো।
এদিকে মুম্বাইয়ের বিচে এসে দাঁড়িয়েছে ধ্বংসা আইরিন এবং বলারস ভাই বোন। তাদের তিনজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সুপার লর্ডের সৈন্যরা যারা যারা এসেছিলো সুপারের নির্দেশে, তারা সবাই চলে আসতে না আসতেই তারা ধংস হয়ে গেলো। তাদের প্রায় অর্ধশত সৈন্যদের আইরিন প্রথমেই ধ্বংসাত্মক ওয়েভ ছুঁড়ে দিলো তাদের দিকে। তার সেই ধ্বংসাত্মক ওয়েভে তারা ছিটকে পড়লো মাটিতে এবং এর পাশাপাশি বলারস ভাই বোন বিস্ফোরক কিছু বল তৈরি করে ছুঁড়ে দিলো তাদের দিকে। প্রথমেই একদল এল এবং তাদেরকে নাজেহাল করা হলো। দ্বিতীয় দল আসতেই বলারস ভাই বোনের তৈরি করা অগ্নিগোলক তাদের দিকে ছুটে গেলো। তারাও চিরতরে চলে গেলো। তাদের কারো হাত পা চূর্ণবিচূর্ণ হলো। কারো মাথার খুলি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেলো।
এরপরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় এল মেজ মাস্টার। মেজ মাস্টারের সাথে গ্রাভিটি মাস্টার ইব্রাহিম যোগ দিলেন। গ্রাভিটি মাস্টার যখন তার দুই হাত প্রসারিত করে একটা আঙ্গুল দিয়ে সোজা তাক করলেন সেই সুপারদের সৈন্যদের দিকে, তখন তারা একবার আকশে একবার জমিনে, এভাবে কয়েক সেকেন্ডের ভেতর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেলো। তার কারণ ইব্রাহিম তাদেরকে তাদেরকে বেশ উপরে উঠিয়ে মধ্যাকর্ষণ শক্তির সমস্ত সূত্র কে ভুল প্রমাণনকরে নিচে আছাড় মেরে ফেলেছে এবং সাথে সাথে তাদের গোটা শরীর যেন লাশের স্তুপে পরিণত হলো। একজনের গায়ের উপর আরেকজনের পড়ার মতো অবস্থা হলো। এদের আরো দেখা গেলো, অনেকের হাত পা ছিলে গেছে। অনেকের কাঁধের অস্থি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে ইব্রাহিমের এই দৃশ্য দেখে তার সাথে যারা ছিলো অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করল ইতিহাস শক্তি ধারণ অসাধারণ কারণ ইব্রাহিমকে এজন্যই গ্রাভিটি মাস্টার বলা হয়।
পাহাড়মানব বলে উঠলো, 'মহারাজা তোমায় সালাম'।
ইব্রাহিমের এই ঘটনার অব্যবহিত পরেই হঠাৎ করে আকাশ থেকে বিশাল একটা আলোকরশ্মি আসতে না আসতে মুছে যায় এবং সাথে সাথে ইকবাল এবং সলিম এসে হাজির হলো। তাদের সাথে। কিন্তু তারা দুজনই বেশ অবাক হয়ে আকাশের দিকে চেয়ে রইলো। ব্যাকআপ হিসেবে ইকবাল ও সলিমের আসার কথা ছিল। টেকনো মাস্টার হিসেবে ইকবালের অনেক নাম। সে বাংলাদেশের জন্য প্রথমদিকে এক ধরনের হুমকি হলেও পরবর্তীতে সে বাংলাদেশের জন্য অনেক ভালো কিছু কাজ করেছে বাংলাদেশের অতি মানবদের সাথে। একত্র হয়ে সে অনেক ভালো ভালো প্রজেক্টে কাজ করেছিল এবং বহির্বিশ্বের সমস্ত হুমকিকে সে একাই সামলে নিয়ে ছিলো যার কারণে সে খারাপ সংসর্গ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছে এবং সলিম কেও একই পন্থায় সুন্দর জীবন প্রদান করেছিলো।
এদিকে হঠাৎ করে নীহারিকা তাদের মাঝখানে চলে এসেছে নীহারিকার কাজের ধরন অন্যরকম সে যখন দেখে খুব বড় ধরনের ঘটনা হতে যাচ্ছে, তখনই সে একটিভ হয়ে যায়। আর অণুমানবের সমপরিমাণ শক্তির অধিকারী হিসেবে নীহারিকার পাওয়ার অনেক অনেক বেশি এবং সে বেশ আবেগ ছাড়াই কাজ করে। খুব নির্দয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের কে মারধর করে এবং তার বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো তার সোলার পাওয়ার এমিশন। সোলার পাওয়ার এমিশনের মাধ্যমে নীহারিকা যেকোনো জীবন্ত প্রাণী কে ছাইয়ে পরিণত করতে পারে মুহুর্তে।
এদিকে আকাশ থেকে ত্রিশ ফিটের বিশালদেহী একজন অবতরণ করলো মাটিতে। সেই পাহাড়ের চারপাশে আরো অসংখ্য প্রাণী আসতে শুরু করেছে এটা দেখে নীহারিকা নিজে উদ্যোগ নিলো ওগুলোকে শায়েস্তা করার। কিন্তু হঠাৎ করেই কিছু একটা তাকে আকড়ে ধরেছে এবং সে হাত বের করতে পারছে না। এটা দেখে চিৎকার করে উঠলো তিহান। তার চোখে-মুখে বিস্ময় এবং আতঙ্ক দেখা দিলো। সে এই ধরনের ব্যাপার নিয়ে মোটেও অবগত ছিলো না। আগে থেকে সাবধান করানো যেতো নীহারিকা মানে তার মাকে। তাই সেই হিসেবে সে বেশ আগ্রহের সাথে সেই প্রাণীকে খুঁজতে লাগল কিন্তু খুঁজে পাচ্ছে না সেই প্রাণীকে এবং সাথে সাথে তিহানের ও ফারহানের আতঙ্ক বেড়ে গেলো।
ফারহান বলতে লাগলো, 'এখানে নিশ্চয়ই অদৃশ্য এমন কিছু কানেক্টেড যেটা খুব ভালোভাবেই ধরেছে তোমার মাকে। তুমি যদি চাও তোমার মাকে মুক্ত করতে, তাহলে অবশ্যই সেই প্রাণীকে খুঁজে বের করতে হবে। না হলে আমাদের কপালে বহুৎ বড় খারাবি আছে। কারণ সে যদি তোমাকে চিনে ফেলে সেই অবস্থা থেকে মুক্ত করতে অনেক সময় লাগবে। আরও অনেক অনেক এগিয়ে যাবে এবং আমাদেরকে সুপার লর্ড মুক্তিপণ দাবি করে বসবে। হয়তো সোর্স অফ আর্থ'স লাইফ এটা আমাদেরকে খুঁজে বের করে দিতে বলবে।
এদিকে এই অবস্থা কিন্তু ওদিকে রাতের প্রহরী ও অনুমানব তনয় বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে কারণ সুপার লর্ড আবহাওয়ার সাথে তার মগজের কানেকশন শুরু করেছে। চারদিক থেকে মেঘ কালো হয়ে আসছে পুরো পৃথিবীর চারপাশে এবং সেটা দেখে বেশ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পরলো অনুমানব সে আকাশের পঞ্চাশ হাজার ফিট থেকে দেখতে লাগলো যে কেমন ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ঘনঘন বাজ পড়ছে এবং যেকোনো সময় সেখানে যে কোন কিছু ঘটে যেতে পারে। সুপার লর্ডের এই আগ্রাসী রূপ দেখে যে কারও ভয় পেয়ে যাওয়ার কথা। রাতের প্রহরী তার এই স্পেশাল আর্মর স্যুট পরে বেশ সতর্ক অবস্থায় চারপাশে তাকাচ্ছে কিন্তু সুপার লর্ডের কোন দেখা নেই। কিন্তু কিছুক্ষণ আগেও থাকে আকাশে দেখা গিয়েছিল। এদিকে গতিমানব, আমাদের ইরফান বেশ দ্রুত গোটা পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে ফেললো জমিনের উপর, পানির উপর দৌড়ে সবজায়গায়। কিন্তু খুঁজে পাচ্ছেনা। একটা সময় বেশ ক্লান্ত হয়ে ছেড়ে দিলো।
এমন সময় কেউ একজন গমগমে গলায় বলে উঠলো, 'আমি তাবরেজ। আমার হাতে তোমাদের গতিবালককে তুলে দাও। আমার ওর সাথে বোঝাপড়া আছে কারণ ওর হাতে আমাদের ডার্ক রানার এর মৃত্যু হয়েছে। তোমরা যদি চাও আমি পৃথিবীতে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু না করি, তাহলে অবশ্যই ফারহানকে আমার হাতে তুলে দিতে হবে। এমত অবস্থায় তাবরেজের কথা শুনে খুব সতর্ক হয়ে গেলো গতিমানব ফারহান।
সে তখন চিৎকার করে বলতে লাগলো, 'ফারহানকে তুলে দেয়ার আগে তোমাকে আমাদের তিনজনের সাথে বোঝাপড়া করতে হবে। না হলে তোমাদেরই অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।'
তখন তাবরেজ সেই জায়গায় এলো, যেখানে রানার দাঁড়িয়ে। তার সামনে এসে হাজির হলো। তাকে দেখে অবাক হয়ে গেলো রানার। এক সেকেন্ডের ভিতর অদৃশ্য হলো সে। আবার আসলো। এরকম করতে করতে অনেকটা টিভিতে যেমন ঝির ঝিরে একটা পরিস্থিতি থাকে, হঠাৎ করে নেটওয়ার্ক কানেকশন চলে যায়, ঠিক তেমনি এই পজিশন দেখে গতি মানব ইরফান বললো, ''তোমাকে সবার আগে আমার সাথে কথা বলতে হবে। না হলে কোন ধরনের নেগোসিয়েশন করা হবে না। সমঝোতা করতে হলে আমার সাথে আগে সন্ধিচুক্তি করতে হবে।'
এটা শুনে তাবরেজ বললো, 'আমি এখন তোমাকে চাইলে টুকরো টুকরো করে ফেলতে পারি।'
এটা বলার সাথে সাথে তার ঘাড়ের উপর মনে হল কয়েকশো টনের একটা বিশাল ঘুসি মারলো কেউ। তাকিয়ে উপরে দেখলো তাবরেজ, তার উপরে শূন্যে ভেসে আছে তিহান এবং তিহান তাকে বলছে, 'তোমার কত বড় সাহস তুমি আমাদের গতি বালককে নিয়ে যেতে চাচ্ছো। তোমাদের মা বাপ সুপার লর্ড যিনি আছেন তাকে আগে আমাদের সামনে হাজির হতে বলো।'
'সুপার লর্ড তার জন্য এত ফেলনা জিনিস না। তিনি যার তার সঙ্গে দেখা করেন না। তাঁর যেই পরিমান শক্তি, তার ধারে কাছে যাওয়ার যোগ্যতা তোমাদের নেই।' তখন জেট প্যাক পরে দ্রুত এসে একটা বিশাল লাথি মারলো তাবরেজকে আমাদের রাতের প্রহরী মিশু। মিশুর স্যুটের এই সুপার পাওয়ার দেখে তারা সবাই অবাক হয়ে গেলো তা প্লেস যেন শূন্যে ভেসে মাটিতে পড়ে গেলো। এতো জোরে লাথি পড়েছিলো যে তাবরেজ সেটা সহ্য করতে না পেরে মাটিতে পড়ে উপরে উঠে আবার নিচে পড়ে গেলো এত বড় পতন সহ্য করতে না পেরে সে হঠাৎ অদৃশ্য হলো। আবার দেখা দিল এবং প্রত্যেককে অসম্ভব শক্তি দিয়ে ধরে ধরে আছাড় মারতে লাগলো। আছাড় খাওয়ার পর মাটি থেকে সেই অবস্থায় তাকালো। তারপর মিশুর দিকে হেসে বললো, 'কি এত সোজা মনে করেছিলে যে আমাকে মেরে তুমি অনেক বড় কিছু করে ফেলবে? শোনো তাহলে, আমি বলি তাবরেজের সাথে লাগা এত সস্তা না। তাবরেজের উপরে আছে সুপার লর্ড। আমাকে মারলেই উনার কাছে যেতে পারবে।
তখন অণুমানবের চোখ মুখ যেন নীলচে আগুনে জ্বলে উঠলো। অণুমানবও বেশ রাগের সাথে বললো, 'তাহলে আজকে তোর জীবনের শেষদিন।'
তখন হঠাৎ করে হাত উঁচিয়ে তাকে থামিয়ে দিল রাতের প্রহরী। সে তার স্যুটের একটা বাটন টিপে হঠাৎ উপরে উঠে গেলো এবং সাথে সাথে সেই তাবরেজের কাছে উড়ে চলে এলো এবং তার এই অবস্থা দেখে বেশ অবাক হয়ে গেলো তনয় ওরফে অণুমানব। তার কারণ, সে এতদিন জেনেছে তাকে শুধুমাত্র সাধারণ এক ভিজিলেন্টি হিসেবে। ভুল হতে পারে কিন্তু অণুমানের চাইতে যে এতো বেশি আত্মবিশ্বাস রাতের প্রহরীর কাছে আসবে সে কি যে জানতো? তাবরেজ তখন বললো তুই এত বড় সাহস কি করে রাখিস আমার মুখোমুখি হওয়ার? তুই কি জানিস আমার শক্তির দৌড় কতটুকু? এ কথা বলা শেষ হয়নি সাথে সাথে তাদের মুখের উপর মনে হলো কয়েক হাজার টনের একটা বিশাল ঘুষি পড়লো। তাদের মুখে ঘুষি মেরে উপস্থিত শত্রু-মিত্র সবাইকে বেশ অবাক করে দিয়েছে রাতের প্রহরী। মিশুর এই আক্রমণে তাবরেজের সঙ্গী-সাথী চ্যালা চামুন্ডারা আছে সবাই দৌড়ে এলো এবং সবাই মিলে হুংকার দিয়ে রাতের প্রহরী অনুমান ও ফারহানের গায়ের উপর চড়ে বসলো। ক্রমাগত মার মার কাট কাট অবস্থা। এরপর মার খেতে খেতে হঠাৎ করে যেন অণুমানব মানে তিহানের বাবা আক্রোশে চিৎকার করে এক প্রচন্ড শক্তিতে চারিদিকে সবাইকে ছিটকে দিলো তার মনন শক্তির মাধ্যমে এবং আমাদের গতি মানব ফারহানের বাবা 'রানার'ইরফান তাদের সবার চারপাশে ঘুরে হঠাৎ করে এক প্রবল শক্তি দিয়ে তাদের যেন কয়েক হাজার নানা কয়েক লাখ ভোল্টের শক দিল এটা অবশ্যই সেই স্পিড ইগ্নিশন থেকে এসেছে।
অনুমানব তার তার আঙ্গুলের ইশারায় তাবরেজের গলাকে একটা অদৃশ্য শক্তির মাধ্যমে চেপে ধরল এবং সে খুব জোরে একটা চাপ দিলো। মনে হলো তাবরেজ খুব কষ্ট পাচ্ছে। তখন সাথে সাথে সে নীহারিকাকে অদৃশ্য অবস্থা থেকে ছেড়ে দিলো। কিন্তু ততক্ষনে দেরি হয়ে গেছে। তাবরেজের গলার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে এসেছে আমাদের অনুমানব এবং তার এই গলা চেপে ধরা যেন তাবরেজের জন্য কাল হয়ে আসলো। তাবরেজ সেখানেই পড়ে গেলো।
দশ.
কুমিল্লা সেনানিবাসের সামনে একটা বিশাল বড় ভর্টেক্স তৈরি হয়ে গেলো। সেখানে শত শত আধা মানুষ-সরিসৃপ প্রানী বেশ জোরেশোরেই বড় ধরণের জটলা পাকিয়ে আসতে লাগলো পৃথিবীতে। সেখান থেকে এই অবস্থা দেখে জেনারেল তালহার বেশ আতংক অনুভব হলো। এসব দেখে বেশ ভয় পাওয়ার মত একটা অবস্থায় চলে গিয়েছে আসিফ সাদিয়াও। চারিপাশে আর্মিরা বড় ধরনের অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর গাড়ি চালিয়েও মনে হলো কাজ হচ্ছে না। তারা যেমন গুলিতে আহত হচ্ছে না আবার সদলবলে আক্রমণ ও শুরু করেছে। আর্মির সেই গ্রুপের প্রধান সাথে সাথে হেলিকপ্টারে করে কুমিল্লায় গেলো। ডক্টর তানভীরের টাইম টাভেলিং মেশিনের মাধ্যমে ইমিডিয়েটলি আরেকটি পোর্টালে সেখানে আসার পর দেখা গেল রূপবান এবং রূপবতীও কাজে নেমে পড়েছে। তাদেরকে গুলি করেও যখন কাজ হলো না, তখন দ্রুত যোগে তাদের দিকে এক ধরনের বেশ বড় ধরনের গোলামারা শুরু করলো সৈন্য্রা। এরকম আরো কয়েকটি পোর্টালে হাজির হয়েছে তারা। পোর্টালের মাধ্যমে রূপবান এবং রূপবতী দুজন মিলে বেশ দ্রুত সামনের দিকে এগোতে শুরু করলো। ওদিকে সরিসৃপগুলো তখন ভয় পেয়ে গিয়েছে। কিন্তু তাদেরকে ভয় দেখানো এত সোজা না। তাই রূপবান এবং রূপবতী বেশ কায়দা করে তাদেরকে গুলি করা শুরু করলো।
এদিকে ঢাকায় হঠাৎ করে দিয়াবাড়ির সেখানে আবার আরেকটা টাইম ট্রাভেল এর পোর্টাল খুলে গেলো। এক বিশাল দেহী মেয়েটি তার সমস্ত শরীর কালো রঙয়ের। হঠাৎ করে বিভিন্ন ধরনের কসমিক রশ্মি নিক্ষেপ করতে লাগলো। সে জায়গায় মুহূর্তেই যেনো আগুন ধরে দাও দাও করে জ্বলে ছাইয়ে পরিণত হলো। সমস্ত কাশবন পুড়ে গেলো। এবং সমস্ত জায়গা কালো বীভৎস হয়ে গেলো। এটা দেখে তাড়াতাড়ি এজেন্টস অব ডি যোগাযোগ করলো স্রোতস্বিনীকে। স্রোতস্বিনী তখন খুব দ্রুত সেখানে চলে আসলো আরেকটি ভর্টেক্সের মাধ্যমে। এবং সে গোটা শরীর থেকে বেশ কায়দা করে পানি ছুঁড়ে মেয়েটির দিকে এগিয়ে গেলো। মেয়েটি তার দিকে তাকিয়ে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো।
বললো, 'কি মনে করেছো? আমাকে তুমি পানির ভয় দেখাবে? এত সোজা?' তখন স্রোতস্বিনীর দিকে কসমিক রশ্মি ছুঁড়ে দিলো তার হাঁটু বরাবর।
স্রোতস্বিনী হেসে বললো, 'তুমি কি মনে করেছো তুমি আমাকে মেরে দিলে আর আমি খুব সুন্দর করে ভয় পাবো? আর তোমার কাছে মাথা নত করবো? এত সোজা প্রিন্সিপাল হতে পারো কিন্তু আমি কোচ। আর আমি ও তোমার কেনা গোলাম নই। এটা মাথায় রাখবে।'
এটা শুনে বেশ রক্ত চড়ে গেলো মেয়েটার মাথায়। মেয়েটা বললো, সুপার লর্ড যতদিন থাকবেন ততদিন আমি সফেলা পৃথিবীকে নরক এ পরিনত করবো।'
এটা বলার পর হা হা করে হেসে দিলো স্রোতস্বিনী। সে দ্রুত সরে সফেলাকে চেপে ধরলো এবং এমন ভাবে সফেলা চিৎকার করতে লাগলো, সফেলার চিৎকারে যেন গোটা আকাশ চিরে দু'ভাগ হয়ে যাচ্ছে। আকাশ থেকে হঠাৎ নীল আলোকরশ্মি এসে তুলে নিয়ে গেল তাকে। মানে স্রোতস্বিনীর হাতে সুপারের আরো একটি সুপার সোলজার পরাজয় বরণ করলো। এই অবস্থা সবাই জানে কিন্তু ওদিকে দেখা যাচ্ছে তাবরেজ বেশ ভালো ভাবেই পজিশন নিচ্ছে।
তাবরেজ দুবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলো কিন্তু পারলো না। সে সাথে সাথে পড়ে গেলো এমতাবস্থায় তার সঙ্গীর দিকে হাত বাড়াতেই সঙ্গী হাত বাড়ালো। কিন্তু সে তেমন কোনো সাহায্য করতে পারছে না। তাদের উপর প্রবল আক্রোশে ঝাঁপিয়ে পড়লো তিহান। সাথে সাথে রাতের প্রহরী মিশু ও আমাদের গতিমানবব মানে ফারহানের বাবা রানার ইরফান তারা তিনজন মিলে যখন তার সামনে এসে দাঁড়ালো দেখলো এমন সময়, আকাশ যেনো আরো অন্ধকার কালো হয়ে গেলো এবং বেশ খানিকটা বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। এমনটা দেখা গেলো। আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে এক বিশাল ঝড় তাদের দিকে এগিয়ে আসছে । এমন সময় অনুমানব ও খেয়াল করলো বিষয়টা। একটা মুখ, ঐ ঝড়ের মধ্যে। কমসেকম চেহারাটা যদি একদম বিশ ফিট হয় দেহটা তো কমসেকম একশ ফিট হবে। আকাশচুম্বী এই চেহারা দেখে সেও থমকে দাঁড়ালো এবং মনে করলো এটাই কি আমাদের সেই কাঙ্খিত সুপার লর্ড? সে তো ফিরে এসেছে বিধ্বংসী রূপে। তাকে দেখে সে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়লো সবাই এবং ঠিক তখনই তাদের উপর মাঝ আকাশে একটা বাজ পড়লো এবং সেখানেই রাতের প্রহরী এবং তার সাথে থাকা গতিমানব মানে আমাদের রানার আওয়াজেই ছিটকে পড়লো।
অণুমানব অবাক হলো বলে মনে হলোনা। কিন্তু আসলে কিন্তু তা নয়। সে কিছুটা ইতস্তত বোধ করলো। তবে তৈরি হলো। অনুমানবের শরীরে আছে অনু বিভাজন করার পদ্ধতি। অনু পরমাণু বিভাজন করেই তো তার সেই ফাংশনালিটি। তার ফাংশনালিটি দিয়ে সে যেভাবে কাজ করলো , সাথে সাথে সুপার লর্ড থমকে দাঁড়ালো। সেই আবার ব্জ্র ছুঁড়ে দিলো। আবার সেই বজ্র আবার অনুমানব সুপার লর্ডের দিকে ছুঁড়ে মারলো। মানে আমাদের সুপার লর্ড কিছুটা থতমত খেয়ে গেলো।
ততক্ষণে আকাশে অনেক উপরে উঠে গিয়েছে আমাদের রাতের প্রহরী। আমাদের মিশু অত্যাধুনিক স্যুট যেটায় অনেক কিছু লাগানো এবং সেটা দিয়ে বেশ ভালোভাবেই, অনেক দ্রুত সে উঠে দ্রুত উপরে উঠে গেলো। তার উঠে যাওয়া দেখে হকচকিয়ে গেলো সুপার লর্ড। সুপার লর্ড এসে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কয়েকবার কসমিক রশ্মি শোষণ করে ছুঁড়ে দিলো। কিন্তু অণুমানব সে রশ্মি তার শরীর উপর ছুঁড়ে দিলো। সুপারলর্ড এসে সাথে সাথে মাটিতে আছড়ে পড়লো। ছিল আকাশে একরকম, মাটিতে পড়ে তার নিজস্ব রূপে সুপারের শক্তির ধরন অন্যরকম। সুপার শক্তি তাপ শক্তির তুলনায় এরা কিছুই নয় কিন্তু স্পেশালিটি অর্জন করে তারা নিজেদেরকে বেশ ভালো জাহির করতে শিখলো এবং দ্রুত তাকে ধরতে চেষ্টা করলো।
লম্বা, শত ছিন্ন একটি কাপড়ের আলখেল্লা পরা আমাদের সুপার লর্ড মাটি থেকে উপরে উঠে দাঁড়ালো। তার চোখ-মুখ কোটরে ঢোকানো। মুখের রং সাদা এবং তার চুল মাথার পেছন দিকে অনেক লম্বা। সে একটা বিদঘুটে হাসি দিয়ে বললো, 'কি খবর তোমরা কি ভালো আছো? আমি জানি তোমরা আমাকে হয়তো কিছুক্ষণ ধরে রাখতে পারবে। কিন্তু এরপরে আমাকে ধরা সম্ভব না। কারণ আমি সুপার লর্ড। আমার সাথে পারা এত সোজা নয়।'
তখন তিহান বেশ আক্রোশের সাথে বললো যে, 'তুমি কি জানো যে আমার বাবা আমার তাবরেজের কি অবস্থা করেছে? সেটা যদি তুমি বুঝতে পারতে তাহলে এই কথাটা বলতে না এবং কিছুক্ষণ আগেও তোমাকে বেশ ভাল রকমের তুলাধুনা করা হয়েছে। এত কিছুর পরেও যদি তুমি নিজেকে অনেক বড় কিছু মনে করো তাহলে কিন্তু তোমার জন্য আমার আফসোস থেকেই যাবে।'
এটা শোনার পর বেশ মাথা গরম করে ফেলল সুপার লর্ড। পারিপার্শ্বিকভাবে সুপার লর্ডকে বেশ চিন্তিতও দেখাচ্ছে। সে যে ব্যবহারিক খুব ভয়ঙ্কর রূপ এবং ভেতরে ভেতরে অনেকদিন টাও বোঝা যাচ্ছে। এত কিছু ভেবে কাজ নেই মনে করলো সে। তাই সে চিন্তা কিভাবে কি করা যায়। পরাস্ত করার সুযোগ আগের চেয়ে সহজ নয় সেটাও জানে সে এবং সে এটাও বুঝতে পারলো যে যদি কোনো কারণে এখানে কোন একটা অতি মানবের কাছে এসে ধরা খেয়ে যায় তাহলে কিন্তু তার আজকেই শেষদিন হয়ে যেতে পারে। সমস্ত লীলাখেলা এইভাবে শেষ হয়ে যাবে। এমন সময় হঠাৎ করেই বলার্স ভাই বোনের পক্ষ থেকে একটা বিশাল অগ্নি গোলা চলে এলো তার কাছে। সে প্রস্তুত ছিল না। হঠাৎ করে তার মাথার পিছন দিকে বিশাল গোলা আঘাত হানলো। মাথার পেছনটা হঠাৎ করে যেন কয়েকশো হাজার কিলো জুলে জ্বলে উঠলো এবং সেখানে সে অনুভব করলো যে, তার শরীরে কোন একটা অংশ সেখান থেকে চিরতরে চলে গেছে। তখন সে প্রবল আক্রোশে আকাশ-বাতাস দাপিয়ে বজ্রপাত ঘটানো শুরু করলো। চারপাশ থেকে ছয়শ কিঃমিঃ চারদিকে যেন প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়ে গেছে। তার এই শক্তির কাছে কেউ মাথা নোয়াবার নয়। তাই চারদিক থেকে তার প্রবল বেগে আক্রমণ শুরু হলেও গতি মানব, আমাদের রানার ইরফান খুব দ্রুত তার উপর আক্রমণ শুরু করল। স্পিড ইলেকট্রন দিয়ে ঘন ঘন মুহুর্মুহু স্থির বিদ্যুৎ চক্র তৈরি শুরু করলো। ছুঁড়ে দিতে লাগলো।
আমাদের অনুমানব তো বসে থাকার নয়। সে বেশ ভালোভাবেই জানে যে যেকোন ভাবেই এই সুপার লর্ড কে পরাস্ত করতে হবে আর তাই সে হঠাৎ করে বাতাসে ধূলিকণা উড়িয়ে সুপার লর্ডকে সোজা সেই মেঘের দেশে পাঠিয়ে দিলো এবং সেখানে এক বিশৃঙ্খলা শুরু করে দিলো। তার এই বিশৃঙ্খলায় হঠাৎ করে হতচকিত হয়ে গেলো সুপার লর্ড।
সুপার লর্ড চিৎকার করে বলতে লাগলো, 'এই তনয় বেশি করছিস, তোর এই সমস্ত জারিজুরি বন্ধ কর। আমি জানি তুই আমাকে একটা বলয়ের ভেতরে ঢোকাতে চাইছিস। কিন্তু তুই কি জানিস আমি সুপার লর্ড। আমার হাতে প্রথম সবার মৃত্যু হবে। তারপর এই পৃথিবী ধ্বংস করবো।'
তার এই কথা শুনে একটু থমকে গেলো রাতের প্রহরী মিশু। তাকিয়ে দেখল হঠাৎ করে তার বিশাল আংগুলের তাকে, ইশারা দিয়ে তনয়কে উড়িয়ে দিয়েছে সুপার লর্ড। সুপার এর এই ঘটনায় সবাই বোকা বনে গেলো। তার মানে ওর কাছে টেলিকিনেসিস পাওয়ার আছে। সে অনেক প্নথায় যেকোনো কিছু আংগুলের ইশারায় নড়াতে চড়াতে পারে। এটা দেখে তখন হঠাৎ করে গ্রাভিটি মাস্টার চলে এলো সামনে। এসে বললো, 'তুই কি মনে করেছিস আমরা খুব কাঁচা? আমাদের শক্তির দৌড় এখন দেখবি।'
এই বলে গ্রাভিটি মাস্টার সুপারকে হঠাৎ করে আকাশ থেকে তুলে ধরে এক আছাড় মারলো মাটিতে। তারই আঙ্গুলের ইশারায় ঠিক যেমনটা সুপার করেছিলো একটু আগে তনয় ওরফে অণুমানবকে। পরমুহুর্তেই হঠাৎ করে রাতের প্রহরী মিশু চলে এল সামনে। তারপর সুপার লর্ডকে হঠাৎ করে মধ্যকর্ষণজনিত প্রযুক্তিগত বিদ্যা দিয়ে ধরাশায়ী করে ফেললো এবং সুপার লর্ড আটকে গেলো সেখানে। কিন্তু পরক্ষণেই ভুল ভাঙ্গিয়ে সুপার লর্ড হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে গেলো এবং সেই রাহু থেকে মুক্ত হয়ে গেলো। তার এই কাণ্ড দেখে অবাক হয়ে গেলো আশেপাশের সবাই। মিশু সেটা পাত্তা না দিয়ে সামনে বেড়ে সরাসরি তার দুই হাতের মুঠো থেকে এক ধরনের প্লাস্টিক বা অন্য ধরণের গরম টাটকা আঠার মতন জিনিস বের করলো। এগুলো কেমন যেনো। ছুঁড়ে দিলো। বোমার মতো সুপারের গায়ে গিয়ে পড়লো সুপারের শরীরের ঠিক মাঝ বরাবর করে একটা শব্দ হলো। এরপর সেখানে অসংখ্য, হাজার হাজার বজ্রপাতের আওয়াজ শোনা গেলো। তার এই আওয়াজ শুনে তার ভেতরে মনে হল যেন কয়েক হাজার টা বোমা তার শরীরের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে এবং জিনিসটি তাকে হুশ করে গিলে খেতে শুরু করলো।
যেন মনে হচ্ছে তাকে পৃথিবীর কোনো অদৃশ্য কিছু গিলে নিচ্ছে। তার আর্ত চিৎকারে আশপাশের লোকজন চলে এল কিন্তু বিধিবাম এর কোন মানুষ তাকে বাঁচাতে পারছেনা এবং তারাও আস্তে আস্তে মরতে লাগলো।
এদিকে হঠাৎ করে ছয় পোর্টালের ছয়টি থেকে চারটিই ওপেন হয়ে গেছে। সৈন্যদের প্রযুক্তিগত সমস্যা আছে। তাই তারাও তেমন কোনো কিছুই বলতে পারছিল না। তাদের কারণেই তিহানরা এগোতে পারছেনা। তাই এক্ষেত্রে এজেন্টস অব ডি মনে করে তিহানদের সাহায্য ছাড়া কোন কিছুই করা যাবে না। এইজন্য ম্যাকাপ যদি কোন সাহায্যে না আসে তাহলে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা আছে। এই ভেবে এজেন্টস অফ ডি এর চেয়ারম্যান জেনারেল তালহা ফোন করলেন তাদেরকে। তিহান ধরলো।
'হ্যালো তুমি শুনতে পারছো, তিহান?' জেনারেল তালহা বললেন।
'জ্বি আঙ্কেল। বাবা এইমাত্র সুপার লর্ডকে তার লোকজন সহ হারিয়ে দিয়েছে।'
তখন তালহা বলেন, 'তা আমি জানি বাবা তোমার বাবাকে দাও। তোমার বাবার সাথে আমার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা আছে। এটা শুনে হঠাৎ এত জোরে দৌড় দিয়ে তার বাবার কাছে ফোনটা নিয়ে গেলো, তনয় একটু চমকে তাকালো। যুদ্ধ বিধ্বস্ত অবস্থায় তনয়ের নড়াচড়ার শক্তি কমে গেছে। দু-একটা হয়তো বজ্রপাত পড়েছে তার মুখে।
'স্যার, কি সৌভাগ্য। আজ বিশ বছর পর। আসলে ছেলেটার দুরন্তপনা নিয়ে এতো টেনশনে ছিলাম যে কল ই দিতে পারিনি।'
'এসব চিন্তা করো না। কারণ সে একজন অকুতোভয় মানুষ এবং তার মধ্যে আমি প্রতিভা দেখছি' বললেন জেনারেল।
'স্যার আপনি হঠাৎ করে আমাকে কল করেছেন, কিভাবে?'
তখন বললেন জেনারেল তালহা, 'দেখো তোমরা যা করেছো, আমাদের ঘরে তো জানাওনি। আমার কাছে কোনোভাবে তিহানের নম্বর এসেছে।'
'স্যার এখন আমি কি করবো? কারণ আমি তো আর প্ল্যান করি নি. প্ল্যান করেছিলো আমাদের ছেলেরা।'
'তোমার ছেলেদেরকে কান টেনে আমাদের কাছে নিয়ে আসবা। সবাই বুঝতে পেরেছে যে ছোট ছোট বাচ্চা গুলো নিজেদের মতো করে প্ল্যান করেছে। এটা আসলেই অনেক ভালোভাবে কাজে দিয়েছে সুপার লর্ড কে হারানোর ক্ষেত্রে। আসলেই ফারহানের যদি এই সব কিছু না হতো তাহলে হয়তো অনেক কিছু থেকেই পৃথিবী বেঁচে যেতো। কিন্তু আজ সুপার লর্ড যে ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তাতে অত বেশি ক্ষতি হয় নি ঠিকই, কিন্তু সামান্য পরিমান হলেও ক্ষতি হয়েছে সেটা স্বীকার করতে হয়। মিশুকে দাও।'
মিশু বললো, 'স্যার। নিশু তো অনেক বড় হয়ে গেলো। আমি ওকে অবশ্যই আপনার কাছে নিয়ে আসবো।'
তখন জেনারেল বললেন, 'হ্যাঁ ওকে নিয়ে আসা তো উচিত। ওর আর তিহানের ট্রেনিং দরকার। তোমার এবং বাকি দুজনের ছেলে ও এখন থেকে আমাদের এখানে থাকবে। আর তোমরা যখন বুড়ো হয়ে গেছো, এখন রেস্ট নেওয়ার সময়।'
তখন মিশু বললো, 'আচ্ছা ঠিক আছে স্যার আমি অবশ্যই আমার সাধ্যমত চেষ্টা করবো।'
এমন সময় হঠাৎ করেই তিহানের চোখ গেলো ভর্টেক্সের দিকে। চার পোর্টালগুলো এখন ওপেন আছে। তখনই হঠাৎ করেই এক ধরনের গড়মিল দেখতে পেলো সাথে সাথে চিৎকার করে বললো, 'ইনকামিং! তাড়াতাড়ি পোর্টাল টা বন্ধ করো। না হলে অনেক ধরনের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।'
এমন সময় গতিমানব ও গতিবালক দুজনই খুব দ্রুত সেখানে গিয়ে আটকে দিল পোর্টালগুলো। ছয়টার মধ্যে চারটা পোর্টাল খোলা ছিলো এবং পোর্টাল গুলো খুব দ্রুতই বন্ধ হয়েছিলো এবং তারা সেটা করতে চেষ্টা করেছে।
কিন্তু হঠাৎ করে কিছু একটা লাফিয়ে পৃথিবীতে চলে এলো। অফ করে দেওয়ার সাথে সাথে সেই প্রাণীটিকে দেখা গেলো লাফ দিয়ে চলে এসেছে। এটা আর কেউ নয়। সেটা সেই প্রাণীটা। সেই পরজীবী। ডার্ক ইউনিভার্সের। এটাকে দেখে হঠাৎ করে হেসে উঠল আমাদের গতিবালক। এই ব্যাপারটা আসলে খুবই পছন্দ করেছে গতিমানবের ছেলে ফারহান।
যুদ্ধটা শুরু হয়েছিল ভুটানের একটা পাহাড়ি খাঁড়িতে। এর প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন নিয়ান খাইন। আর যতোক্ষণ দেখেছেন ততোক্ষণে হয়তো অনেক কিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে। তখন হঠাৎ করে সেখানে এসে হাজির হলো বৃক্ষমানব। তার হাতের ছোঁয়ায় ভূটানের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাছগুলো যেন একটা পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠলো। এক ধরনের প্রান চাঞ্চল্যতা ফিরে পেয়েছে সেই পাহাড়ি খাঁড়িটা। সেখানে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।
সুপার লর্ডের এক দল ভয়ংকর দানবীয় সৈন্য যারা এসেছে, তারাই মৃত্যুর স্বাদ নিয়েছে। যাদের ভয়ে তটস্থ থাকতো পৃথিবীর সবাই তারা যে এভাবে বাংলাদেশের একদল অকুতোভয় অতিমানবদের হাতে ধ্বংস হবে কে জানতো? যারা বাংলাদেশের অতি মানব ছিল তারা বাংলাদেশের পক্ষ হতে পৃথিবীকে সুন্দর পরিবেশ দান করেছিলো। সুন্দর পরিবেশ বলতে জন্য বলছে কারণ ইউনিভার্স থেকে যত খারাপ কিছুই আসে অসম্ভব এব মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে তাদের বিতাড়িত করেছে আমাদের বাংলাদেশের অতিমানবেরা। তাই ভবিষ্যতে অতিমানবেরা যুগে যুগে মনে থাকবে মানুষের মনে, যে তারা মানবকল্যাণে নিয়োজিত করেছিলো এবং সবসময় থাকবে।
0 comment: